Press "Enter" to skip to content

বিজয়া দশমীর উল্লাসের মাঝে শিক্ষক পরিবারের তিন জন খুন

মুর্শিদাবাদ: বিজয়া দশমীর উল্লাসের মাঝেই এলাকায় নারকীয় হত্যা লীলায় খুন

শিক্ষক ও তার আঠ মাসের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী সহ পরিবারের তিন জন।।

একদিকে উমার বিদায় বেলায় যখন বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে,

তখন এরই মাঝে মঙ্গলবার এক রোম হর্ষক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী হল

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহর।

বাড়ীর ভেতর থেকে এক এক করে স্কুল শিক্ষক গৃহ কর্তা সহ তার সন্তান সম্ভবা

স্ত্রী ও ছেলে সহ মোট ৩জন কে নারকীয় ভাবে খুন করে পালালো অজ্ঞাত

পরিচয় দুষ্কৃতী।

মৃত স্বামী- বন্ধু প্রকাশ পাল (৩৫), স্ত্রী বিউটি মন্ডল পাল (৩০) ও তাদের বছর

ছয়ের ছেলে বন্ধু অঙ্গন পাল।

ঘটনার বীভৎসতায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী।

খবর পেয়েই জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

পুরো ঘটনার মোডাস অপারেন্ডি নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

জেলা পুলিশ মহলের কর্তারা এই নারকীয় খুনের কিনারায় কোমর বেঁধে নেমেছেন।

এই ব্যাপারে মুর্শিদাবাদ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার বুধবার

বলেন,”এখনই ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়,তবে কোন দামী অলঙ্কার বা টাকা পয়সা

খোয়া বা চুরি যায়নি,সেক্ষত্রে পূর্বের চেনা-পরিচিত কেউ এই নারকীয় ঘটনার

সাথে যুক্ত আছে কিনা এই রকম নানান সম্ভাবনা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে

তদন্তকারী দল”।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এলাকায় সদা মিষ্ট ভাষী বলে পরিচিত

জিয়াগঞ্জ- আজিমগঞ্জ পুরসভার ভাগীরথী লাগোয়া ১৬ নং ওয়ার্ডের কানাইগঞ্জ

লেবুবাগানের বাসিন্দা খুন হওয়া

গোসাঁই গ্রাম সাহাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক বন্ধু প্রকাশ পাল ও তার

পরিবার নিয়ে বছর আড়াই আগে থেকে এলাকায় বাড়ী তৈরি করে বসবাস

করতে শুরু করেন।

বন্ধু প্রকাশ বাবুর আদি বাড়ী জেলার সাগড়দিঘি থানার।

বিজয়া দশমীর রাতে এই খুন হয়েছে গলা কেটে

প্রাথমিক ভাবে লক্ষ করা যায় মৃতব্যক্তিদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও দুষ্কৃতি প্রত্যেকের গলা কেটে খুন করেছে ।

খুনের নৃশংসতা দেখে পুলিশ অনুমান করছেন চরম আক্রোশ কিংবা কোন বদলা থেকেও এই খুন হয়ে থাকতে পারে।

একই কায়দায় খুনের লক্ষ্মণ দেখে পুলিশের।প্রাথমিক অনুমান।

এই খুনের সঙ্গে কোনও পেশাদার খুনির যোগ থাকাতে পারে।

সেই রহস্য ভেদ করতে পুলিশ ছুটছেন মৃত প্রকাশের মামা বাড়ি সাগরদীঘি থানার

সাহাপুর গ্রামে যেখানে ওই মৃত শিক্ষকেরমা থাকেন।

প্রকৃতপক্ষে মৃতের বাবার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান ছিলেন প্রকাশ বাবু ।

সেক্ষেত্রে প্রথম পক্ষের ভাই বোনদের সঙ্গে সম্পত্তির বিবাদ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।

আবার এল আই সি এজেন্ট হিসেবে প্রকাশ বাবুর।

কাজ কর্মের খোঁজ খবরও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ।

এদিকে পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে গোঁসাইগ্রাম সাহাপাড়া প্রাথমিক

বিদ্যালয়ে চাকরি পান প্রকাশ ।

পরে ছেলের পড়াশুনার কথা ভেবে তার মা মায়ারানী পালের কেনা জমি

জিয়াগঞ্জের লেবুবাগান এলাকায় বছর দুয়েক আগে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে স্থায়ী

ভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি ।

ঘটনার প্রথম খবর পায় সেখানের দুধওয়ালা

এই ব্যাপারে মৃতের বাড়িতে ঘটনার পর যিনি প্রথম গিয়েছিলেন সেই

দুধ ওয়ালা রাজিব দাশ কে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ।

তিনি বলেন , “ প্রতিদিনের মত ওই দিন দুধ দিতে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা

ঠেলতেই তা খুলে যায়, দেখি খাটের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে প্রকাশ বাবু ।

চিৎকার করতেই কালো গেঞ্জি ও প্যান্ট পরা একটি লোক পাশের ঘর থেকে ছুটে

পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় ।”

রাজিবের চিৎকার শুনেই প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন ।

দেখা যায় একই ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে ছেলের মৃতদেহ তবে বিউটি দেবীর

মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে পাশের ঘরে খাটের উপর থেকে ।

খুনের আগে বিউটি দেবী যে রান্না করছিলেন তার প্রমান মিলেছে ।

এদিকে রবিবার অষ্টমীর সারা দিন সাহাপুর গ্রামের বাড়িতে কাটিয়ে প্রকাশ বাবু

সন্ধ্যায় ফেরেন জিয়াগঞ্জে।

তারপর মঙ্গলবার খুন হন সপরিবারে ।

মৃত শিক্ষকের।মাস্তূত ভাই নবগ্রাম থানার বন্ধু কৃষ্ণ ঘোষ সম্পূর্ণ ঘটনায় থানায়

লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এই হত্যা লীলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাউমাউ করে

কেঁদে উঠে বলেন,”কোন ভাবেই এই ঘটনা মেনে নেওয়া তো দূরের কথা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছিনা।

ওই ভাবে একটা ছোট্ট শিশু পাশাপাশি তার সন্তান সম্ভবা মা কে এত নৃশংস

ভাবে কেউ খুন করতে পারে।খুনিদের ফাঁসি ছাড়া কোন সাজা নেই”।

Spread the love

4 Comments

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!