Press "Enter" to skip to content

রাজা নেই তবুও জৌলুস হারিয়ে সীমান্তে বহাল শতাব্দী প্রাচীন দুর্গা পুজো

মুর্শিদাবাদ: রাজা নেই তার ওপর রাজ্যপাটের অবসান হয়েছে বহু যুগ আগেই।

কিন্তু আজও ঐতিহ্য মেনে রাজ পরিবারের নামে সংকল্প করে তবেই পুজা পাট শুরু করা হয় মুর্শিদাবাদ সীমান্তে লালগোলার বাঁশগাড়া পাকা কাছারি দুর্গা মন্দিরের পুজা।

ভোগ পাঠান হয় প্রতিবেশী মুসলিম পরিবারেও।

তবে মানবিক কারনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলি প্রথার।

অবশ্য একদা কাছারি বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর শাখায় বিসর্জন দেওয়া হত প্রতিমার।

এখন রাজা নেই , পদ্মাও সরে গিয়েছে দূরে তবুও রীতি মেনে মজে যাওয়া পদ্মার ডোবা খানাতেই প্রতিমার বিসর্জন করা হয় মুসলিম ভাইদের সঙ্গে নিয়েই।

শিক্ষা , স্বাস্থ্য , পানীয় সর্বোপরি প্রাজাদের কল্যাণে কাজ করতেন লালগোলার মহারাজা যোগীন্দ্র নারায়ণ রায়।

তিনি চাইতেন সর্বদা প্রাজারা থাকুক হাসি মুখে।

প্রজাদের আনন্দ দান করতেই নিজের বাঁশগাড়া কাছারি বাড়িতে প্রায় দেড় শো বছরের আগেও দুর্গা পুজার আয়োজন শুরু করেছিলেন স্বয়ং মহারাজা।

রাজা নিজে প্রজাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে পুজার পাঁচ দিন সপরিবারে থাকতেন।

শুধু থাকা নয় পুজার আগে কাছারি তে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজে দেখতেন কোন কোন পরিবার আর্থিক অভাবে ভুগছেন তাদের খাজনা মুকুব করে দেওয়া হত।

সে ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম বিচার করা হত না।

আবার অসচ্ছল পরিবারের সবার মধ্যে বিতরণ করা হত নতুন নতুন জামা কাপড়।

পুজার দিনে কাছারি পাড়া সহ আশ পাশের গ্রাম গুলিতে রান্না বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হত রাজার নির্দেশে।

পুজা তে কেউ যাতে অনুপস্থিত থাকে না পারেন তার জন্য বিশেষ হাজিরার ব্যাবস্থা করা হয়েছিল।

পুজার দিনে প্রাজাদের আনন্দ দিতেই যে রাজার পুজার আয়োজন।

তাই জাঁকজমক গান বাজনা খানা পিনার কোনও কমতি ছিল না রাজার কাচারি বাড়ির পুজাতে।

কিন্তু রাজ প্রথা বিলুপ্তির পর সাতের দশকে বন্ধ হয়ে যায় এই পুজা।

তবে স্থানীয় মানিকচক গ্রামের বাসিন্দা মিহির কুমার রায় নিজে উদ্যোগ নিয়ে এই পুজা ফের চালু করেন।

রাজা নেই কিন্তু সেই কালের নিয়ম মেনে পুজোর সব আয়োজন

কিন্তু বাসিন্দারা অনুভব করলেন বছর চারেকের মধ্যে রাজার পুজা পারিবারিক পুজাতে পরিণত হয়েছে ।

রাজা না থাকার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজের প্রস্তুতিতে পুজোর আয়োজন করেন

তাই বাসিন্দারা গঠন করলেন বাঁশগাড়া পাকা কাছারি বাড়ি দুর্গা মন্দির কমিটি।

পুজা কমিটির সম্পাদক উজ্জ্বল মিস্ত্রী বলেন , “ রাজা নেই, হয় তো পুজার আয়োজনে সেই জৌলুস নেই।

কিন্তু রাজার চালু করে যাওয়া রীতির পরিবর্তন করা হয়না এখানে।

এখনও নিয়ম মেনে প্রতিবেশি সকল সম্প্রদায়ের বাড়িতে ভোগ পাঠান হয় ।”

রথের দিন থেকে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়।

মায়ের ভোগে নিয়ম মেনে খিচুড়ি , পাচ তরকারি , মাছ দেওয়া হয়।

কাছারি বাড়ি ঘিরে মেলা বসে আজও।

একথা জানিয়ে পুজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ তথা কলেজের এক অধ্যাপক দিলীপ সরকার বলেন , “ আক্ষেপ একটাই , এটা একটা ঐতিহাসিক শতাব্দী প্রাচীন রাজ বাড়ীর পুজো,অথচ রাজ বাড়ীর কোনও মানুষই আর এই পুজার খোঁজ খবর রাখেন না ।”

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

2 Comments

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!