Press "Enter" to skip to content

হেন্ডারসনের গোপনীয় রিপোর্ট প্রকাশিত হবে না: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

  • এই প্রতিবেদনটি ভারত-চীন যুদ্ধ নিয়ে তৈরি

  • অরুণাচলের সাংসদ তপির গাও লোকসভায় চেয়েছেন

  • সেই প্রতিবেদনটি সম্পর্কে প্রচুর কথা আলোচিত হয়ে চলেছে

ভূপেন গোস্বামী

গুয়াহাটি: হেন্ডারসনের গোপনীয় প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ করা হবে না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

রাজনাথ সিংহ এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। আসলে, এই প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রচার করার

দাবিটি করেছিলেন বিজেপি সাংসদ তপীর গাভ। মিঃ গাভ লোকসভায় সংসদে হেন্ডারসন-ভগত

প্রতিবেদনটি প্রদর্শন করার জন্য দাবি করেছেন, যা ১৯62২ সালে চীনের সাথে ভারতের যুদ্ধের

পরে প্রস্তুত হয়েছিল কিন্তু উপস্থাপিত হয়নি। আজ গুয়াহাটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে অরুণাচল

প্রদেশের সাংসদ তপির গাও “৫৮ বছরে হেন্ডারসন ব্রুকস এবং ব্রিগেড সম্পর্কে কথা বলেছেন।”

সিং ভগত। এমপি তপির গাও আজ গুয়াহাটিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন যে এই

প্রতিবেদনে এই নরক কী তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। লোকেরা বিশ্বাস করে যে এই

প্রতিবেদনটি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর উপর অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।

আসলে ১৯62২ সালে ভারতের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি

গঠন করা হয়েছিল।এটি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু নিজেই গঠন করেছিলেন। এই

তদন্তের দায়িত্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেন্ডারসন ব্রুকস এবং ব্রিগেডিয়ার পিএস ভগতের হাতে

পড়েছিল।

হেন্ডারসনের গোপনীয় রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়নি

লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেন্ডারসন ছিলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান। ভারত স্বাধীন হলে ব্রিটিশ ভারত

সেনাবাহিনীর পরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে

অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবসর নিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে

তিনি ৮৭ বছর বয়সে মারা যান। একই সাথে পিএস ভগত ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে অনেক

যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উঠেছিলেন। তিনি

৫৬ বছর বয়সে কলকাতায় মারা যান। দু’জনই দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। বুধবার বিজেপি সাংসদ

তপীর গাভ লোকসভায় দাবি করেছিলেন যে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে

হেন্ডারসনের আর ভগতের রিপোর্টকে সংসদের টেবিলে রেখে জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

১৯৬২ ভারত-চীন যুদ্ধের সাথে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেন্ডারসন ব্রুকস এবং ব্রিগেডিয়ার

পিএস ভগতের প্রতিবেদনটি একটি গোপনীয় দলিল।

নিম্ন সভায় জিরো আওয়ার চলাকালীন এই বিষয় উত্থাপন করে গাভ বলেছিলেন যে ১৯৬২ এর

ভারত-চীন যুদ্ধ 5৫৮ বছর হয়ে গেছে তবে এখনও এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।তিনি

বলেছেন যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হেন্ডারসন ব্রুকস এবং ব্রিগেডিয়ার পিএস ভগতের

প্রতিবেদন আজ কেন এটি বাড়িতে রাখা হয়নি? বিজেপি সাংসদ বলেছিলেন যে এটি সংসদে রাখা

উচিত যাতে আগত প্রজন্মরা এটি দেখতে পারে এবং এটি জাতীয় স্বার্থে হবে। অন্যদিকে,

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন যে এটি প্রকাশ করা জাতীয় স্বার্থে না।

চীন কাছে হেরে যাবার পরে কমেটি তৈরি করেছিলেন নেহরু

ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনের কাছে তীব্র পরাজয়ের পরে তত্কালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল

হেন্ডারসন ব্রুকসের নেতৃত্বে দুটি সদস্যের কমিশন গঠন করেছিল।রক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ

বলেছিলেন, ‘হেন্ডারসন রিপোর্টটি অত্যন্ত গোপনীয় দলিল। এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ বা এর

কোনও অংশকে জনসম্মুখে পরিণত করা দেশের স্বার্থ নয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে সরকার

কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ উন্মুক্ত করেছে বলে দাবি করা

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশনা সম্পর্কে সচেতন ছিল। উল্লেখ্য যে অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক এই বছরের

মার্চ মাসে হেন্ডারসন রিপোর্টের অংশ ফাঁস করেছেন বলে দাবি করেছেন। ১৯৬২ এর ভারত-চীন

যুদ্ধ সম্পর্কিত তাঁর বইয়ে অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক দাবি করেছিলেন যে তত্কালীন উচ্চ পর্বতে

সেনা মোতায়েনের নীতি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।হেন্ডারসনের রিপোর্টে এই কথা থাকার

দাবি করা হয়েছিলো। তবে আজ পর্য্যন্ত এই রিপোর্টে আসলে কি লেখা আছে, সেটা সেনার

উচ্চপদস্থ লোকেরা ছাড়়া আর কেউ জানে না। যারা রিপোর্টে কি লেখা আছে, সেটা দেখেছেন,

তারাও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from কূটনীতিMore posts in কূটনীতি »
More from দেশMore posts in দেশ »
More from প্রতিরক্ষাMore posts in প্রতিরক্ষা »
More from বিবৃতিMore posts in বিবৃতি »

One Comment

Leave a Reply