Press "Enter" to skip to content

বাবা-মায়ের সাথে ভাগচাষী কাজ করে বাড়ি ফিরে দেখে গ্রামবাসীদের ভীড়

  • পরীক্ষায় রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে

প্রতিনিধি

মালদাঃ বাবা-মায়ের সাথে লোকের জমিতে ভাগচাষী কাজ করে বাড়ি ফিরে দেখে গ্রাম

বাসীদের ভীড়। তখনো সে জানতে পারি নি উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষায় রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম স্থান

অধিকার করেছে। এরপর কৃতি ছাত্র প্রাণগোবিন্দ মন্ডলকে কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে পরেন

গ্রামবাসীরা। জানানো হয় উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। সম্ভাব্য রাজ্যে সে পঞ্চম

হয়েছে। এই খবর শুনে হতবাক হয়ে পড়ে পুরাতন মালদা থানার যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের

পোপড়া গ্রামের ছাত্র প্রাণগোবিন্দ মন্ডল ও তার পরিবার। অত্যন্ত গরিব পরিবারের ছেলে

প্রাণগোবিন্দ। বাড়িতে নেই মোবাইল । লোকের জমিতে চাষবাস করে কোন রকমে চলে তাদের

সংসার । সেই মণ্ডল পরিবারের ছেলে প্রাণগোবিন্দ যে মাধ্যমিকে এতো ভলো ফল করবে তা

ভেবেই কূলকিনারা করতে পারেন নি অভিভাবকেরা । ভবিষ্যতে আইএএস হওয়ার ইচ্ছার

কথা জানিয়েছেন কৃত্রী ওই ছাত্র প্রাণগোবিন্দ মন্ডল।বাবা-মায়ের সাথে গ্রামের লোকেরাও এই

কথায় খুব খুশি

বাবা-মায়ের সাথে খেতে কাজ করা পরিবারকে সাহায্য

পোপড়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ভাগচাষী ফুতুল মন্ডলের সেজো ছেলে প্রাণগোবিন্দ মন্ডল। সে

পোপড়া ঈশ্বরনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রাণগোবিন্দরা চার ভাইবোন । দুই বোনের বিয়ে হয়ে

গিয়েছে । মা নিভা মন্ডল । তিনিও পেশায় ভাগ চাষি। বাবা মায়ের সাথে জমিতে চাষবাসের

কাছে মাঝেমধ্যেই হাত লাগায় প্রাণগোবিন্দ। এছাড়াও বাড়ির যাবতীয় কাজকর্ম করে সে। কৃতি

ওই ছাত্র প্রাণগোবিন্দ মন্ডল বাংলায় পেয়েছে ৯৫, ইতিহাসে ১০০, এডুকেশনে ১০০, ভূগোলে

১০০, সংস্কৃতিতে ১০০। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে

পোপড়া গ্রামের ওই ছাত্র প্রাণ গোবিন্দ মন্ডল।

শুক্রবার বিকালে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই এখন ঘনঘন তার বাড়িতে

গ্রামবাসীদের যাতায়াত শুরু হয়েছে। গ্রামের নাম উজ্জ্বল করেছে প্রাণগোবিন্দ এমনই বক্তব্য

যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নূর হকের। তিনি বলেন, অত্যন্ত গরীব ঘরের ছেলে

প্রাণগোবিন্দ মন্ডল । তার এই ফলাফলে আমরা খুশি । ও ভবিষ্যতে আইএএস নিয়ে পড়তে চাই।

তবে ওকে আমরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যাতে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে পারি, সেই চেষ্টাই

করবো।

গ্রামের সবাই চায় যে সে আরও পড়াশুনো করুক

প্রাণগোবিন্দর বাবা ফুতুল মণ্ডল বলেন, লোকের জমিতে ধান চাষের কাজ করে কোনরকমে

সংসার চলে। টালি এবং মাটির বাড়িতেই কোনরকমে আমাদের বসবাস। মোবাইল তো দূরের

কথা, দু’বেলা খাওয়ার জোগাড় করে দিতে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করতে হচ্ছে। ছেলের কোন

গৃহশিক্ষক ছিল না। স্কুলের মাস্টারমশাইরা যতটা পেরেছেন বিনা পয়সায় ছেলেকে পড়িয়ে

সাহায্য করেছেন। ও এত ভালো ফলে করবে তাতে আনন্দ থেকে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। কারণ , ছেলে

এখন আইএএস পড়ার স্বপ্ন দেখছে। এত টাকা নেই যে ছেলেকে আমরা পড়াতে পারবো। তাও

যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি জানি না ওর ভবিষ্যৎ কি হবে।

শনিবার সকালে প্রাণগোবিন্দ মন্ডলের বাড়িতে গ্রামবাসী থেকে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ অনেকেই

আসেন, ফুলের তোড়া দিয়ে মিষ্টিমুখ করান তাকে। কৃতি ছাত্র প্রাণগোবিন্দ মন্ডল বলেন ,

শুক্রবার বিকেলে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোবে শুনেছিলাম। তখন আমি বাবা-মায়ের সাথে

জমিতে ছিলাম, ঘাস কাটছিলাম। বাড়িতে এসে দেখি লোকের ভিড়। সকলের মুখে আমি আমার

রেজাল্টের কথা জানতে পারি। বন্ধুবান্ধবেরাও আমাকে জানায়। যেহেতু আমার মোবাইল নেই ,

তাই ইন্টারনেটে আমি জানতে পারি নি। সকলের মুখ থেকে জেনে আমি নিশ্চিত হই ,

উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে সম্ভাব্য পঞ্চম স্থান পেয়েছি। তবে এখন আমি ভূগোল নিয়ে পড়তে চাই।

ভবিষ্যতে আইএস হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। জানি না এত অর্থ কষ্টের মধ্যেও আমি আমার স্বপ্ন

পূরণ করতে পারব কিনা।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from HomeMore posts in Home »
More from কাজMore posts in কাজ »
More from কৃষিMore posts in কৃষি »
More from তাজা খবরMore posts in তাজা খবর »
More from পশ্চিমবঙ্গMore posts in পশ্চিমবঙ্গ »
More from শিক্ষাMore posts in শিক্ষা »

One Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!