Press "Enter" to skip to content

মসজিদে বিস্ফোরণে ৩১জনের মৃত্যু শোক কাতর নারায়গঞ্জের তল্লাবাগ

  • শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন

  • জানা গেল অনেক আগে মসজিদ নির্মাণ হয়েছে

  • গ্যাস লাইনের ওপরে মসজিদের কথা ভুল

আমিনুল হক

ঢাকাঃ মসজিদে বিস্ফোরণে ৩১জনের মৃত্যু! এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকা

বাসী। শুক্রবার নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় এলাকার মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

ভিডিও তে দেখুন কি বলছেন শোকগ্রস্ত লোকেরা

নারায়গঞ্জের তল্লাবাগে গিয়ে এমনটিই দেখা যায়। মনে হলো গোটা এলাকাটিই শোককাতর।

এদিক ওদিক উড়ছে কালো পতাকা। টাঙ্গানো রয়েছে শোকব্যানার। মসজিদমুখো কাতারে

কাতারে মানুষ। আজ সাতদিন পূর্ণ হল মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটনার। এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

করছেন ৫জন। তাদের অবস্থাও শঙ্কটাপন্ন। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে এদিন নিহতদের আত্মার

শান্তি কামনায় প্রতিটি মসজিদে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছেন।

তিতাস গ্যাস নিজেদের গা রক্ষায় গ্যাস লাইনের ওপর মসজিদ নির্মাণের যে কথা বলছেন, তাতে

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মসজিদটি গ্যাস লাইনের ওপর নির্মিত হয়নি। ৩০ বছর আগে মসজিদটি

নির্মাণ করা হয়। আর গ্যাস সরবরাহ আসে ২০০০ সালের পর। এলাকাবাসি জোরালো দাবি

জানিয়ে বলেন, মসজিদ রাস্তা দিয়েছে বলেই এখান দিয়ে গ্যাস লাইন নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তিতাস গ্যাস নিজেদের গা বাচাতে নানা ফন্দিফিকির করছে।

গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ন’টা। নামাজ শেষে অনেক মুসল্লি বেড়িয়ে গেছেন। বাকীরাও

যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময়ই ঘটে সেই অপ্রত্যাশিত ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। জীবন রক্ষায়

মানুষ ছুটোছুটি করতে থাকেন। ততক্ষণে একের পর এক মুসল্লি ঢলে পড়েন মসজিদের মেঝে।

আগুণের হলকা বেড়িয়ে মসজিদ গেটের সামনে লন্ড্রিদোকানের একজন দগ্ধ হন। হাসপাতালে

ভর্তি ৫জনের তিনি একজন। ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন গৃহবধু সালমা বেগম। তিনিও দগ্ধ

হন। সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা দিতে গিয়ে বোবা কান্নায় বুক ভাসান। তার ডান পা থেকে

হাত, বাম পাশে দেহের বিভিন্ন অংশ ও ঘাড় পড়ে গেছে। বলতে গেলে শরীরের অধিকাংশ

জায়গায় আগুনের ক্ষত। চিকিৎসার অভাবে সুস্থ হয়ে ওঠতে পারবেন কিনা সেই ভাবনাকে সঙ্গী

করে পথ চেয়ে আছেন দগ্ধ সামলা বেগম।

মসজিদে বিস্ফোরণে কি হয়েছিলো সেটা এখনও বোঝা যায়

মসজিদের সেদিনের বিস্ফোরণের সকল আলামত জব্দ করে মসজিদের ভেতরেই রাখা হয়েছে।

তার মধ্যে জুতার তাকে বেশ ক’জোড়া পোড়া জুতাও দেখা গেল। সেদিন বিস্ফোরণের খবর

পেয়ে ছুটে আসেন জানে আলম বিপ্লব। তিনি ডাকেন তার অপর সহযোগীদের। জানালেন, সরু

গলি। অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের ব্যবস্থা নেই। অনেকটা দূরে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য বাহন রেখে দ্রুত

উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ও প্লাষ্টিক সার্জারী

ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সর্বোপরি নিজের তত্ত্বাবধানে ১৭ জনের

মরদেহ সৎকার করেছেন। এখানেই থেমে যাননি বিপ্লব। যারা মারা গেছেন, তাদের বাড়ির

সদস্যদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করেন। চারদিন পর প্রার্থনার ব্যবস্থা করেন।

শোকেমুহ্যমান তল্লাবাগ কাঁদছে। স্বজনদের চোখ ঝল ঝল। সপ্তাহ আগেও বাবা, ভাই, চাচা,

স্বামী ছিল। আজ তারা অতীত। স্মৃতি বলতে মাটির বিছানা। ঘরের আসবাবপত্রের দিকে

তাকিয়ে অনেকে হু হু কেঁদে ওঠেন।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from অপরাধMore posts in অপরাধ »

Be First to Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!