Press "Enter" to skip to content

বেআইনিভাবে নলকূপের জল বোতলে ভরে সিল মেরে চলছে ব্যবসা

মালদাঃ দেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ঘরে ঘরে এখন

জারবন্দী পানীয় জল ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ ।

কিন্তু সেই জারবন্দী পানীয় জল তৈরি হচ্ছে কিভাবে, তার দৃশ্য চোখে দেখলে চমকে যাবেন সকলে।

পুরাতন মালদা ব্লকের নারায়ণপুর শিল্পাঞ্চল এলাকার একাংশে পরিশ্রুত পানীয় জলের কারখানা চলছে।

বেআইনিভাবে নলকূপের জল বোতলে ভরে সিল মেরে চলছে ব্যবসা ।

এই বিভীষিকার চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা পঞ্চায়েত প্রশাসনের কর্তাদের নজরে আসতে হতবাক হয়ে গিয়েছেন।

এরকমভাবে যে পরিশ্রুত পানীয় জলের বটলিং প্লান্ট কুড়ি লিটারের জারের কারখানা চলতে পারে,

তা ভাবতেই পারছেনা পঞ্চায়েত প্রশাসনের কর্তারা।

তাঁদের কথায়, দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো এখানেও জারবন্দী পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হয়,

কিন্তু সেই জল কতটা পরিশ্রুত সেটা জানা যায় নি।

পুরাতন মালদার  বিডিও ইরফান হাবিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিশ্রুত পানীয় জলের কারখানাগুলির

কি ধরনের সরকারী অনুমতি পত্র রয়েছে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

তবে এর জন্য নির্দিষ্ট অভিযোগ দরকার।

যদি অভিযোগ না হয়, তাও জনস্বার্থের কথা ভেবে প্রশাসন অবশ্যই এর তদারকি করবে।

বেআইনিভাবে নলকূপের জল ট্যাপ কলের মাধ্যমে ভরা হচ্ছে বোতলে

পুরাতন মালদা ব্লকের মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের পোপরা, বলাতুলি, নারায়ণপুর এলাকায় চলছে

একাধিক ছোট-বড় পানীয় জলের বটলিং প্লান্ট ।

এসব জায়গায় গভীর নলকূপ বসিয়ে মাটির তলা থেকে জল তোলা হচ্ছে ।

কারখানার ঘরেই ট্যাপ কলের মাধ্যমে চলছে বোতল ভরার কাজ ।

তারপর সেই বোতলে সিল মেরে দেওয়া হচ্ছে  নির্দিষ্ট কোম্পানি লেভেল।

বটলিং প্লান্টের কাজ রীতিমত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে বলেও ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ।

কারখানার বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে লাঠিয়াল

এক লিটার, হাফ লিটার, দুই লিটার এবং কুড়ি লিটার পরিশ্রুত জলের প্যাকেজিং-এর কারখানার বাইরে

মোতায়েন রয়েছে তাদের নিযুক্ত বেশকিছু লাঠিয়াল।

সেই লাঠিয়াল বাহিনী বেশ কয়েকটি  বটলিং প্লান্টের হয়ে কাজ করে থাকে বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে পুরাতন মালদা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রসিলাদহ এলাকার একটি বাড়ির সামনে

দোকান ঘরের মধ্যেই বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বটলিং প্লান্টের কারখানা।

ওই কারখানার মালিকের স্ত্রী জানিয়েছেন, ১৫ টাকায় ২০ লিটার জারবন্দী জল সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে সব কাজই করা হচ্ছে সরকারি নিয়ম মেনে।

একই দাবি নারায়ণপুর, বলাটুলি এলাকার বেশকিছু বটলিং প্লান্ট এর মালিকদেরও।

পুরাতন মালদা এলাকার একাংশ বাসিন্দাদের দাবি,  বেআইনিভাবে চলা কারখানাগুলি

অবিলম্বে প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা উচিত ।

নাহলে যেকোনো মুহূর্তে  মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারে ।

এদিকে মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার সুনীল সরকার জানিয়েছেন,

“যে ছবি আমার নজরে এসেছে তা অত্যন্ত ভয়ানক।

আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি এই জল তৈরির কারবার দেখে।

বিভিন্ন বটলিং প্লান্টের কোথায় কি অনুমতি রয়েছে, কিভাবে আইএসআই মার্কা অনুমোদন পেল,

এনওসি কিভাবে দেওয়া হয়েছে, সবটাই পঞ্চায়েত থেকে খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে” ।

জল সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের জেলার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চন্দন কর্মকার জানিয়েছেন,

“মাটি থেকে জল তোলার জন্য অনেক রকমের অনুমতিপত্র প্রয়োজন হয়।  অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্তটাই খতিয়ে দেখা হবে”।

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল পানীয় জল তৈরির কারবারের ছবি দেখে ঘাবড়ে গিয়েছেন ।

তিনি জানিয়েছেন, “পুরাতন মালদা ব্লক আদিবাসী অধ্যুষিত।

ওই গ্রামীন এলাকার মানুষদের পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য

পঞ্চায়েত ও জেলাপরিষদ থেকে সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তার মধ্যে বেআইনিভাবে বটলিং প্লান্ট চলার যে অভিযোগ উঠেছে তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এব্যাপারে কথা বলা হবে”।

Spread the love

Be First to Comment

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!