শারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হবার সম্ভাবনা

sarda scam and mamta
Spread the love

রাসবিহারী

নয়া দিল্লী – শারদা চিটফান্ড মামলায় সিবিআই এর নালিশের পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের সুপ্রীম কোর্টে

বিনা শর্তে ক্ষমা চাওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্য়ায় ও তাঁর কাছের লোকেদের অসুবিধা হতে পারে।

কোলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদের পর

লাল ডায়রীর তথ্য ফাঁস হবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রীমো মমতা বন্দোপাধ্যায় যেভাবে রাজীব কুমারের গ্রেফতারের ব্যাপারে

সিবিআই এর বিরোধিতা করেছিলেন, তাতে অনেক প্রশ্ন উঠছে।

শারদা কেলেঙ্কারী মামলা নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় যতই বিজেপি অথবা নরেন্দ্রে মোদীর বিরোধিতা করুন না কেন,

আসলে এই মামলায় বাম দলগুলি ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুপ্রীম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা এখনও খোলাখুলিভাবে মমতা বন্দোপ্যাধায়ের বিরোধিতা করছেন।

নির্বাচনকে মাথায় রেখে যতই মহাগঠবন্ধনের কথা বলে হয়ে থাকুক না কেন,

আসলে রাজ্য কংগ্রেস মমতার সাথে তাল মেলাতে রাজী নয়।

রাজ্যের নেতারা বার বার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে যাচ্ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধরী মমতার ধরনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন দাবী করেন।

তিনি লোকসভাতেও এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।

সেই দিন মমতা দিল্লীতে ছিলেন, তাই তিনি সোনিয়া গান্ধীর কাছেও নালিশ জানান।

অন্যদিকে বাম দল, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে গোপন বোঝাপড়ার কথা বলছে।

শিলং এ রাজীব কুমারকে কুনালের সামনে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

এক দিকে সিবিআই শিলং এ রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

অন্য দিকে শারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারীর ভুক্তভোগীরা জায়গায় জায়গায় মিছিল করে তাঁদের পয়সা ফেরত চাইছেন।

এতে বোঝা যাচ্ছে যে আগামী দিনে এই মামলা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।

শারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারীর ঘটনা ২০১৩ তে সর্বসমক্ষে এসেছিল। তার পর থেকেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

সেই সময় রাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার ছিল।

কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে থাকা কোম্পানিটি ২০০৬ সাল থেকে রাজ্যে কাজ করছিল।

শারদা গ্রুপ নামে একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে লোকেদের টোপ দেওয়া হয় যে

তাঁদের গচ্ছিত টাকার ৩৪ গুন ফিরিয়ে দেওয়া হবে। টাকার অঙ্ক শুনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কোম্পানিতে টাকা গচ্ছিত রাখেন।

লোকেদের ২৭০০ কোটি টাকা নিয়ে কোম্পানিটি পালিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপরও প্রশ্ন ওঠে।

কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে থাকার অপরাধে সবার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কুনাল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।

সেই সময় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল মার্ক্সবাসী কম্যুনিস্ট পার্টি এই মামলায় তৃণমূল থেকে বিতাড়িত সাংসদ

কুনাল ঘোষের গ্রেফতারের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছিল।

তাদের বক্তব্য ছিল যে কেলেঙ্কারীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম আসার ঠিক পরেই কুনালকে গ্রেফতার করা হয়।

সিপিএম নেতা মোহম্মদ সেলিম প্রশ্ন করেছিলেন যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নাম নেবার

পরের দিনই কুনালকে গ্রেফতার করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

এর পরেই সিপিএম এর পক্ষ থেকে মামলার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেবার দাবী জানানো হয়।

কুনাল ঘোষ শারদা মীডিয়া গ্রুপের চীফ এগজিক্যুটিভ অফিসার ছিলেন।

তিনি কিছু দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়েও কাজ করেছিলেন।

গ্রেফতারের পর কুনাল ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতার এই কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে শিলং এ সিবিআই কুনাল ঘোষ ও রাজীব কুমারকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কুনাল সিবিআইকে চিঠি দিয়ে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন যে রাজীব কুমার ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করতে পারেন।

কুনালকে ২০১৩ তে গ্রেফতার করা হয়েছিল

উল্লেখযোগ্য যে সাংসদ কুনালকে কেলেঙ্কারীর মামলায় ২০১৩ তে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৬ তে তিনি জামিন পান।

তিনি বলেছিলেন যে মামলার তদন্ত সঠিক ভাবে করতে হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।

কারণ শারদা গ্রুপের সভাপতি সুদীপ্ত সেনের সাথে মমতার ভালো সম্পর্ক ছিল।

জামিন পাবার আগে জেলে থাকাকালীন কুনাল ঘোষ আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ২০১৩ সালে শারদা কেলেঙ্কারী মামলায় তদন্তের জন্য

স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টীম তৈরী করেছিলেন। রাজীব কুমার এই টীমের প্রধান ছিলেন।

২০১৪ সালে সুপ্রীম কোর্ট এই কেলেঙ্কারীর তদন্তের ভার সিবিআইকে দেয়।

সিবিআই সবার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য সৃঞ্জয় বোসকে গ্রেফতার করে।

বসু মোহনবাগান ফুটবল ক্লাবের উঁচু পদে ছিলেন।

সুদীপ্ত এই সৃঞ্জয় বোসের বিরুদ্ধে জোর করে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করাবার অভিযোগ করেছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী সৃঞ্জয় বসুকে প্রতি মাসে ৬০ লাখ টাকা করে দেবার কথা ছিল।

বসুর গ্রেফতারে পর তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেফতার হন।

৬৩৪ দিন জেলে কাটাবার পর তাঁর জামিন হয়। তাঁর গ্রেফতারের সময়ই তৃণমূল বিজেপির ওপর চড়াও হতে শুরু করে।

রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী বলেছিলেন যে বিজেপি বদলের রাজনীতি করছে।

Author: Bangla R khabar

Loading...