Press "Enter" to skip to content

শ্রীরাম জন্মভূমির ব্যাপারে কে কে কে নায়ারকে ভুলে গেলে চলবে না

অযোধ্যাঃ শ্রীরাম জন্মভূমির ভিত্তি প্রস্তর উদযাপনে যখন গোটা জাতি নিমগ্ন, তখন আজ কৃষ্ণ

করুণা কর নায়েরের নাম স্মরণ না করলে এর কোন দাম নেই। কে কে কে নায়ার ১৯০৭

সালের ১১ সেপ্টেম্বর কেরলের আলেপ্পিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর

তিনি দেহ ত্যাগ করেন। কে কে কে নায়ার মাদ্রাজ ও লন্ডনে শিক্ষিত ছিলেন। ১৯৩০ সালে

তিনি আইসিএস হন এবং উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় সংগ্রাহক ছিলেন। ১৯৪৯

সালের 1 জুন তাকে ফৈজাবাদের কালেক্টর করা হয়। যেন শ্রীরাম তাকে নিজেই ফৈজাবাদ ডেকে

নিয়েছিলন। ১৯৪৮ সালের ২২-২৩ ডিসেম্বরের রাতে তাঁর নির্দেশে শ্রীরাম লালার প্রতিমা

সেখানে স্থাপিত করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে ভক্তদের একটি বিশাল জনসমাজ

তথাকথিত বাবরি মসজিদে (প্রকৃত রাম জন্মভূমি) সেখানে উপস্থিত হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে,

১৯৪৮ সালের ২২-২৩ রাতে শ্রীরাম প্রতিমার সবচেয়ে বড় ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল

তার নির্দেশে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরদার প্যাটেল উত্তর প্রদেশের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী পন্ডিত গোবিন্দ বল্লভ পান্ত এবং ইউপি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে বলেছেন যে কোনও ক্ষেত্রেই তত্ক্ষণাত্ সেই স্থান থেকে

রামলালার মানে শ্রীরাম এর মূর্তি সরিয়ে ফেলা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী পন্ত এবং শাস্ত্রী কালেক্টর কে

কে কে নায়েরকে মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে কেরালার আইসিএসের মনে

অন্য কিছু ছিল। তিনি মূর্তিটি সরিয়ে দিতে অস্বীকার করেছিলেন। জওহরলাল নেহেরু তাঁকে

দু’বার সরাসরি মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু কে কে কে নায়ার রাজি হন

নি। তিনি বলেছিলেন যে প্রতিমাটি কেউ রাখেনি, শ্রী রাম নিজেই এখানে এসেছেন। তাই ভগবান

কে তিনি সরাবেন না। রেগে গিয়ে নেহেরু আইসিএস অফিসার নায়েরকে বলেছিলেন যে

আপনাকে বদলি করা হবে। জবাবে শ্রী নায়র বলেছিলেন বদলির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই

তবে কাশি বা মথুরা ছাড়া আরও কোথাও যাবে না।

শ্রীরাম জন্মভূমি নিয়ে তিনি নেহরুর কথাও শোনেন নি

নায়ার  কারও কথা মানতে রাজি ছিলেন না। নায়ারকে শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছিল।

তিনি তার সাসপেন্ড হবার আদেশকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং নিজের পক্ষে

আদেশ নিয়ে তিনি চাকরীতে ফিরে আসেন। কেস জেতার জিদ ছিলো তাই চাকরি ফিরে

পাওয়ার পরে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্টে

অনুশীলন শুরু করেন।

পরে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সংস্পর্শে আসার পরে তিনি

ভারতীয় জনসঙ্ঘে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ভারতীয় জন সংঘের টিকিটে বহরাইচ থেকে

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর স্ত্রী শকুন্তলা নায়ার কায়রগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত

হয়েছিলেন এবং তার চালকও বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে যখন সবার

জন্য শ্রীরাম জন্মভূমির তালা খোলা হয়েছিল, প্রথমবারের জন্য আমি নিজে ভিতরে গিয়ে প্রভু

শ্রীরামের দর্শন করেছিলাম। সেখানে শ্রী রাম মূর্তির পাশেই কেকেকে নায়ার এর  একটি ছবি

দেওয়ালে রাখা ছিল


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from HomeMore posts in Home »
More from ইতিহাসMore posts in ইতিহাস »
More from উত্তরপ্রদেশMore posts in উত্তরপ্রদেশ »
More from কাজMore posts in কাজ »
More from তাজা খবরMore posts in তাজা খবর »
More from দেশMore posts in দেশ »
More from রাজ কার্যMore posts in রাজ কার্য »

Be First to Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!