My title page contents Press "Enter" to skip to content

লাপুং এলাকায় বুনো হাতির আসার খবরে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক




বেড়োঃ লাপুং এলাকায় জঙ্গলের পাশে অবস্থিত গ্রামগুলির অধিবাসীদের মধ্যে

রবিবার হাতি পৌঁছাবার উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়লো।

রাতে কৈলুটোলীতে বুনো হাতিদের পৌঁছানোর খবরে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে হাতির গন্তব্য স্থলের ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেন।

যদিও কেউ এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেন নি।

আসলে এই গ্রামে বুনো হাতির প্রকোপ এত বেশি যে, সেখানকার মানুষরা সবসময়

একটা আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটান।

হাতি যে কখন কোথায় কাকে আক্রমন করবে, সেটা কেউ অনুমানও করতে পারে না।

এর জন্য গ্রামবাসীরা প্রাণ হাতে করে বসে থাকেন।

মাঝে মাঝেই গ্রামে ঢুকে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দেওয়া, ঘরবাড়ী ভেঙ্গে তছনছ করে দেওয়া,

মানুষকে শুঁড়ে তুলে নয়তো পায়ের তলায় চাপা দিয়ে মেরে ফেলা এই দাঁতালদের জন্য প্রায় রোজকার ঘটনা।

নিমেষের মধ্যে এইসব হয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামবাসীরা পালাবার পথ খুঁজে পান না।

লাপুং এলাকায় শনিবার বুনো হাতির আক্রমণ হয়েছিল।

গ্রামবাসীরা মনে হয় যে তাঁদের জীবন এবং সুরক্ষা একমাত্র ঈশ্বরের হাতে।

কখন কোন দিক থেকে কোন হাতির আক্রমণ হবে এবং তাদের হাতে কজন মানুষ মারা যাবেন

সেটা ভেবে সবাই আতঙ্কিত। সব সময়ই তাঁরা ভয়ের মধ্যে থাকেন।

লাপুং এলাকায় শনিবার চারজনের মৃত্যুর পর আতঙ্ক

বুনো হাতির পায়ের তলায় চাপা পড়ে লাপুং এলাকায় চারজনের মৃত্যুর পর রবিবার ভোরে থেকেই

গ্রামবাসীদের মধ্যে এই নিয়ে আলোচনা চলছিল যে, যে কোন সময় হাতি এখানে পৌঁছাতে পারে।

কখনো তেত্রা কখনো তেতরা, কখনো তিগরা, কখনো পোলা তো কখনো তিলাইতে

হাতির পৌঁছনোর খবর উড়তে থাকে।

উড়ো খবরের দরুন সকরপুর, তিলাই, পোলা, সরনাটোলি ছাড়াও অন্যান্য গ্রাম থেকে

শ’য়ে শ’য়ে লোক জঙ্গলে ঢুকে হাতির দলকে খুঁজতে শুরু করেন।

কেউ বলে এদিক থেকে আসছে তো কেউ বলে অন্য দিক থেকে।

কেউ কেউ আবার হাতির মানুষ মারার গল্পও বলতে থাকেন।

উড়ো খবর ছড়িয়ে পড়ার ফলে গ্রামবাসীদের সাথে থাকা বন বিভাগের আধিকারিক

এবং কর্মচারীরাও সারাদিন এই নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

দেবগাঁও পঞ্চায়েতের প্রাক্তন মুখিয়া সন্তোষ তির্কী জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে লোকেদের বোঝাতে থাকেন যে

উড়ো খবরের পিছনে দৌড়ানো ঠিক নয়।

তিনি বলেন যে অতিরিক্ত উৎসাহে নিজেদের জীবন বিপন্ন করা উচিৎ নয়।

সন্তোষ তির্কী পোলা, সকরপুর এবং তিলাইতে পৌঁছে লোকেদের শান্ত করেন

এবং তারপর তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

রাঁচির ডীএফও লাপুং পৌঁছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের রেঞ্জার রামাশীষ সিং

এবং অন্য আধিকারিকদের জরুরী নির্দেশ দেন।

তাঁরা এই অঞ্চলে গতকাল থেকে ক্যাম্প করছেন।

বুনো হাতি তাড়াবার জন্য যেসব মজদুর এবং বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছিল, তাদের তিনি নির্দেশ দেন।

সন্ধ্যে হতেই জঙ্গলে গিয়ে হাতিদের তাড়াবার কাজ আবার করে শুরু করতে বলেন।

সূত্র বলছে যে এই বুনো হাতির দল কর্রা থালা এলাকার কাসীরা এবং পালসার জঙ্গলের দিকে এগিয়ে গেছে।

বন দফ্তরের পক্ষ থেকে এলাকার লোকেদের মধ্যে কেরোসিন তেল,

বাজি পটকা এবং মশাল দেওয়া হয়েছে।




Spread the love

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Mission News Theme by Compete Themes.