মালদাঃ ভ্যালেন্টাইন-ডে ওআর মাত্র দুই দিন পরে।আর সেই দিনই ভালোবাসার সম্পর্ক গভীর

করতে প্রেমিক যুগলদের মধ্যে গোলাপ ফুল দেওয়ার চাহিদা থাকে সব থেকে বেশি। শুধু প্রেমিক

যুগলই নয়, বন্ধুত্বের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওইদিন হরেক রকমের গোলাপ

ফুল দেওয়া-নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিন্তু কড়া শীতের প্রকোপ এবং বিগত দিনের শীতের

মধ্যে মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কারণে গোলাপ ফুলের উৎপাদনের চাহিদা এবার অনেকটাই কমে

গিয়েছে। যার কারণে, অনেকেই বাজারে আসার নকল প্লাস্টিকের সুগন্ধিযুক্ত গোলাপ কেনার

ক্ষেত্রে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

টিনএজারদের একাংশের বক্তব্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে’তে গোলাপ ফুলের চাহিদা

থাকে বেশি। কিন্তু দাম নাগালের বাইরে চলে যায়। সেই কারণে অনেকেই প্লাস্টিকের সুগন্ধিযুক্ত

গোলাপ ফুল এবারে এই সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে অনেকটা সমাধান করতে পারে। যদিও

কৃত্রিমভাবে তৈরি এই ফুল কিনে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আবার পছন্দ করছেন না অনেকেই ।

তাঁদের কথায়, দাম বাড়লেও কিছু করার নেই । বছরে একটি মাত্র দিবস যা প্রেম দিবস হিসেবে

উল্লেখিত। তাই প্রকৃত গোলাপ উপহার দেওয়ার কথা বলছেন টিনএজারদের অনেকেই।

মালদা অতুল মার্কেট ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আদিত্য বারুই বলেন , ৭০০ থেকে ৮০০

টাকা প্রতি ১০০ পিস দাম হিসাবে গোলাপ কিনতে হচ্ছে। যা বিক্রি করতে গেলে ন্যূনতম ১২

থেকে ১৪ টাকা দাম রাখতে হবে। রানাঘাট, হাওড়া, কোলাঘাট থেকে মূলত মালদায় গোলাপ

আমদানি হয়। কিন্তু শীতের প্রকোপ বেশি থাকার কারণে এবছর গোলাপের আমদানি অনেক

কম। তাই এবছর অনেকটাই বেশি দামে গোলাপ বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভ্যালেন্টাইন-ডে নিয়ে ব্যাবসায়ীরা বেশি গোলাপ আনিয়েছেন

মালদা জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির আরেক সদস্য স্বাধীন সাহা জানিয়েছেন, জেলায় মূলত

গোলাপ ফুল চাষ হয় না। হাওড়া, রানাঘাট, কোলাঘাট থেকে মূলত গোলাপ ফুলের আমদানি

হয়ে থাকে‌ । এর বাইরে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড সহ আরো কয়েকটি রাজ্য থেকে গোলাপের

আমদানি হয় । তবে শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন-ডে নয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সারা

বছরই গোলাপ ফুলের চাহিদা থাকে। কিন্তু এবারের শীতের মরসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষেত্রে

অনেকটাই গোলাপ ফুলের আমদানি কমে গিয়েছে। যা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুল

ব্যবসায়ীদের। চাহিদামত গোলাপ ফুল পাওয়া যাচ্ছে না। যা নিয়ে ফুল ব্যবসায়ীদের সমস্যায়

পড়তে হতে পারে।

উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বাইরে থেকে মূলত গোলাপ আমদানি করে

থাকেন ফুল ব্যবসায়ীরা‌ সংশ্লিষ্ট এলাকার কোল্ডস্টোরেজে এই ফুলকে রেখে চাহিদা মতোন ধীরে

ধীরে বিক্রি করেন বিক্রেতারা। কিন্তু এবার শীতের মরসুমে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, ঘন কুয়াশার

কারণে গোলাপ গাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। যার ফলে এই

ফুল উৎপাদনের ক্ষেত্রে খানিকটা সমস্যা তৈরি হয়েছে


 

Spread the love

2 thoughts on “ভ্যালেন্টাইন-ডে গোলাপ ফুল দেওয়ার চাহিদা থাকে সব থেকে বেশি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.