Press "Enter" to skip to content

সূর্যকান্ত মিশ্র বললেন এনআরসি, এনপিআর, সিএএ দেশের পক্ষে বড় বিপদ

কোচবিহারঃ সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন এনআরসি, এনপিআর, সিএএ নিয়ে

বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার যা করছে, তা দেশের পক্ষে এক

বড় বিপদ। দেশের সংবিধানের পাঁচটি প্রস্তাব এর ফলে আক্রান্ত হতে

চলেছে। দেশবাসীর সামনে এমন বিপদ স্বাধীনতার পর কখনো আসেনি।

তাই সর্বত্র উঠছে আজাদির স্লোগান। এই আজাদির লড়াই জারি থাকবে

শেষ পর্যন্ত, লড়াই শেষে জিতবেন মানুষই। শনিবার কোচবিহার

রাসমেলা ময়দানে সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা কমিটির ডাকা

কেন্দ্রীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথাই বললেন সিপিআই(এম)

রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। এদিন বক্তব্য রাখতে উঠেই তিনি কেন্দ্রীয়

বাজেটে তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, একদিকে যখন কেন্দ্রীয়

অর্থমন্ত্রী বাজেট পেশ করতে গিয়ে ২ ঘন্টা ৪০মিনিট এর বাজেট দীর্ঘ বক্তৃতা

করে সর্বকালের রেকর্ড ছাপিয়ে গেলেন। ঠিক তখনই দেশের শেয়ার

বাজারে ক্রমশ নামতে শুরু করেছে ধ্বস।এই বাজেট একটি দিশাহীন

বাজেট বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন আসলে ফোঁপরা ঢেঁকির

আওয়াজ বেশি। তিনি বলেন এই  বাজেটে অর্থমন্ত্রী যা বললেন তাতে

এটাই এটাই বোঝায় যে, এরপর পড়াশোনা করতে আর বই খাতার

প্রয়োজন হবে না, নেটের মাধ্যমে পড়াশোনা করবেন ছাত্রছাত্রীরা। যেতে

হবে না কলেজ কিংবা স্কুলে।  জাতি অবাস্তব পরিকল্পনা বলে এদিন উল্লেখ

করেন তিনি। আর দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে এ বাজারে যা বলা হয়েছে

তাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কি হবে পিপিপি মডেলে অর্থাৎ চিকিৎসা করতে

গেলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে গরিব মানুষকে। কারণ এই সমস্ত পিপিপি

মডেল এর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনা অর্থে চিকিৎসা অসম্ভব। সূর্যকান্ত মিশ্র

বলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা এই মুহূর্তে তলানিতে ঠেকেছে। আগে তাকে

দেখতে ভিড় হতো আর এখন তাকে তাড়াতে ভিড় হচ্ছে।

সূর্যকান্ত মিশ্র ছাড়া অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন

এদিন সিপিআইএমের এই সমাবেশে সূর্যকান্ত মিশ্র ছাড়াও বক্তা হিসেবে

উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী,

দলের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় রাজ্য কমিটির সদস্য তমসের

আলী প্রমূখ। সভার সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা তারিণী

রায়। এদিন সুজন চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আমলে যত

মিথ্যাচার হয়েছে, আগে কখনো তা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট

ভুল তথ্যে ভরা। এই বাজেট গরিব মানুষের বারোটা বাজানোর বাজেট।

শ্রমিক কৃষক যুবক-যুবতীসহ খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কোন সমস্যা

জায়গা পায়নি এই বাজেটে। এই বাজেট দেশ বেঁচার বাজেট। সমস্ত

রাষ্ট্রয়াত্ত সংস্থাগুলিকে বিক্রি করার চক্রান্ত রয়েছে এই বাজেটে। প্রায় ২লক্ষ

১০হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিক্রি করতে চলেছে এই সরকার।

তিনি বলেন, ঠাকুরদার সম্পত্তি যে সমস্ত ছেলেরা বিক্রি করে তাদের

অকালকুষ্মাণ্ড আখ্যা দেওয়া হয়। বর্তমানে কেন্দ্রের সরকারকে এই আখ্যাই

দেওয়া যেতে পারে। এনআরসি এন পি আর কিংবা সি এএ-র মাধ্যমে

আসলে এদেশে বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বিজেপি পরিচালিত

কেন্দ্রীয় সরকার বলে এদিন অভিযোগ করেন সুজন চক্রবর্তী।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

2 Comments

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!