My title page contents Press "Enter" to skip to content

গাড়ী বিক্রীতে মন্দা, ১৩ লক্ষ কর্মী কাজ হারিয়েছেন




নয়া দিল্লীঃ গাড়ী বিক্রীতে মন্দা, ১৩ লক্ষ কর্মী গত এক বছরে কর্মচ্যুত হয়েছেন।

এই বছর জুলাই মাসে এই সেক্টরে সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

দেশের বাজারে বিক্রী ক্রমাগত কমতে থাকায় একদিকে যেমন ইন্ডাস্ট্রীর মালিকদের

আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, অন্যদিকে এই ইন্ড্রাস্ট্রীর সাথে যুক্ত শ্রমিক

বা অন্যান্য কর্মচারীদের চাকরী খোয়াতে হয়েছে।

গাড়ী নির্মাতা কোম্পানিগুলির সংগঠন সিয়াম সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জারি করেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর জুলাই মাসের তুলনায় এই বছর জুলাইতে ১৮.৭১ শতাংশ কম বিক্রী হয়েছে।

জুলাই ২০১৯ এ দেশের বাজারে মোট ১৮,২৫,১৪৮ টি গাড়ী বিক্রি হয়েছে।

গত বছর এই মাসে ২২,৪৫,২৩২ টি গাড়ী বিক্রী হয়েছিল।

এটি ডিসেম্বর ২০০০ (২১.৮১ শতাংশ) এর পর সবথেকে নীচে নেমে যাওয়ার রেকর্ড।

সব ধরণের গাড়ী বিক্রীর ক্ষেত্রেই এই সমস্যা তৈরী হয়েছে।

ক্রমাগত অষ্টম মাসে গাড়ীর মোট বিক্রিতে এই মন্দা রেকর্ড করা হয়েছে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই বছর সব থেকে বেশি মন্দা দেখা গেছে।

জুলাই ২০১৮  তে যাত্রী কারের বিক্রি ১,৯১,৯৭৯ থেকে কমে ১,২২,৯৫৬ হয়ে গেছে।

এটি ৩৫.৯৫ প্রতিশত কম।

এর আগে ২০০০ এর ডিসেম্বর মাসে কারের বিক্রী ৩৫.২২ শতাংশ কম হয়েছিল।

যাত্রী গাড়ীর বিক্রী গত বছর জুলাই এর ২,৯০,৯৩১ থেকে কমে এই বছর ২,০০,৭৯০ রয়ে গেছে।

যাত্রী পরিবহনের মধ্যে কার, দরকারী যানবাহন এবং ভ্যানকে শামিল করা হয়।

গাড়ী বিক্রীতে মন্দার ফলে এই দুর্ভোগ

এটি ক্রমাগত নবম মাস যখন যাত্রী পরিবহনের বিক্রিতে মন্দা দেখা দিল।

গত বছর জুন থেকে এই বছর জুলাই পর্যন্ত এই ১৪ মাসের মধ্যে (অক্টোবর ২০১৮ কে ছেড়ে দিলে)

১৩ মাস এই ধরনের গাড়ির বিক্রি ক্রমাগত কমেছে।

এই পরিসংখ্যান জারি করে সিয়াম এর মহানির্দেশক বলেছেন,

যেহেতু গাড়ী ইন্ডাস্ট্রিতে গত এক বছরে এতটা মন্দা এসেছে,

তার ফলে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

তিনি বলেন যে সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি হয়েছে এই ধরনের গাড়ির সরঞ্জাম তৈরী করা কোম্পানিগুলির।

তাদের উপরে সব থেকে বেশী প্রভাব পড়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী  এই সেগমেন্টে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষের চাকরি চলে গেছে।

এদের মধ্যে বড় কোম্পানিগুলি প্রায় এক লক্ষ্ মানুষকে ও ছোট কোম্পানিগুলি

প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে ছাঁটাই করেছে।

প্রায় ৩০০ টি ডিলারশিপ বন্ধ হয়ে গেছে।

ডিলাররা প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।

সব থেকে বড় কোপ অস্থায়ী কর্মীদের ওপর পড়েছে।

শ্রী মাথুর বলেন, সিয়াম কয়েক মাস থেকেই সরকারের কাছে

বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানিয়ে আসছে।

যদি খুব শীঘ্রই এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে চলে যাবে।

তিনি বলেন যে, এখন যেরকম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে যে

এই ব্যাপারে সংকট আরো তীব্রতর হতে পারে।

পরিসংখ্যান থেকে কি রকমের আর্থিক প্যাকেজ দরকার সেই ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

গাড়ি ইন্ডাস্ট্রী তাদের পক্ষ থেকে বিক্রি বাড়াবার চেষ্টায় লেগে আছে, কিন্তু সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন যে এই ব্যাপারে ইন্ড্রাস্ট্রীর প্রতিনিধিদের সাথে সরকারের আলোচনা হয়েছিল।

উদ্যোগপতিরা গাড়ির উপর চাপানো কর কম করা, স্ক্যাপেজ নীতি তৈরী করা এবং আর্থিক ক্ষেত্র বিশেষ করে

নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে আরো বেশি মজবুত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।

তিনি আশা করেন যে খুব শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, এটি সত্যিই চিন্তার বিষয় যে যাত্রী পরিবহনের সাথে অন্য সব শ্রেণীর

গাড়ির বিক্রিতে মন্দা দেখা যাচ্ছে।

উৎসবে ভালো কাজ হবে বলে আশাবাদী মাথুর

মাথুর বলেন যে আমরা আশাবাদী।

এই বছর মনসুন  ভালোই ছিল।

কিছুদিন পর থেকেই উৎসবের মরশুম শুরু হয়ে যাবে।

ভারতে স্টেজ ৪ এর গাড়ির ভালো বিক্রীর আশা করা যাচ্ছে।

সব কিছু ঠিক থাকলে এই আর্থিক বছরের শেষ ছয় মাসে বিক্রি বাড়ার আশা আছে।



Spread the love

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.