কংগ্রেসের বৈঠকে রাহুলের থেকে দূরে জ্যোতিরাদিত্যের পাশে বসলেন প্রিয়ঙ্কা

priyanka 01
Spread the love

 

দলে বুঝেশুনে চলছে ভাই-বোনের জুটি

রাসবিহারী

নয়া দিল্লী – কংগ্রেসের বৈঠকে প্রথমবার অংশ গ্রহণ করলেন দলের নতুন মহাসচিব প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ওয়ার্ড্রা।

কিন্তু তিনি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর থেকে দূরে বসলেন।

দায়িত্ব পাবার পরই এই ভাবে তিনি রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিলেন ।

কিছুদিন আগেই তিনি দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন, কিন্তু তাঁর স্বভাবের জন্য

এর মধ্যেই দলের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বৈঠকে তিনি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর থেকে দূরে বসেছিলেন।

এটা বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় ছিল যে তাঁকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার পাশে আসন দেওয়া হয়েছিল।

এর মাধ্যমে দলের কার্যকর্তাদের বোঝানো হল যে উত্তর প্রদেশে দুজন মহাসচিবেরই রাজনৈতিক প্রভাব এক সমান।

এর মধ্যে দলের ভেতর থেকে খবর আসছে যে উত্তর প্রদেশে দুজন মহাসচিবের মধ্যে সীটের বিষয়ে কথাবার্তা হয়ে গেছে।

প্রিয়ঙ্কার ওপর ৪৪ টি সীটের দায়িত্ব পড়েছে।

এমনিতে কংগ্রেসের ভেতরের এই সব ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

পার্টি অফিসেও প্রিয়ঙ্কা এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে একই ঘরে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

এই কক্ষটি রাহুল গান্ধীর ঘরের ঠিক পাশে।

কার্যকর্তাদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ

অবশ্য পার্টির আধিকারিক বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর প্রভাব নিয়ে বেশ একটা চিন্তা ছিল।

কিন্তু তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন যখন তাঁরা প্রিয়ঙ্কার রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় পেলেন।

এটা অবশ্য শুধু প্রিয়ঙ্কা বা রাহুল গান্ধীর তরফ থেকে নেওয়া কোন সিদ্ধান্ত নয় বলেই মনে হয়।

আসলে দলের নেতারা অনেক অঙ্ক কষেই প্রিয়ঙ্কার সিট ঠিক করেছেন।

এর মাধ্যমে তাঁরা দলের সব স্তরের কার্যকর্তা ছাড়াও দলের বাইরেও একটা বার্তা ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন যে

প্রিয়ঙ্কার সাথে তাঁর সমান পদে আসীন  অন্যান্যদের কোন পার্থক্য নেই।

ভাই বোনের জুটির এই খেলা থেকে ভবিষ্যতে ভালো ভল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেননা বিজেপি বার বার কংগ্রেসকে একটি পরিবারের পার্টি বলে আখ্যা দিয়ে এসেছে।

ভাই-বোনকে আলাদা বসতে দেখে এবার বিজেপি হয়ত একটু অন্যরকম কথা বলবে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও প্রিয়ঙ্কা স্বামী রবার্ট ওয়ার্ড্রার সাথে ইডি র অফিসে যাওয়ার ব্যপারটাকেও জনসাধারণ ভাল চোখে দেখছেন।

সাধারণত এই ধরনের ঝামলায় পড়লে রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় মহিলারা এরকম আচরণ করেন না।

কিন্তু প্রিয়ঙ্কা এসব থেকে আলাদা। তিনি রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় থেকেও রবার্টের সাথে ইডির অফিসে যান।

কংগ্রেসের বৈঠকে স্থির হয় যে উত্তর প্রদেশে দলকে নতুন ভাবে সক্রিয় করার জন্য রোড শো আয়োজন করা হবে।

এতে রাহুল গান্ধী নিজেও উপস্থিত থাকবেন। আগামী সোমবার থেকে রোড শো শুরু হবে।

উত্তর প্রদেশে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেবার জন্য প্রিয়ঙ্কা আগামী তিন দিন লখনৌ তে থাকবেন।

সেখানে তিনি একটি অস্থায়ী অফিস খুলবেন, যেখানে পার্টির নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করবেন।

তার পর তিনি নিজে রোড শোতে অংশ গ্রহণ করবেন। তাঁর প্রথম রোড শো এলাহাবাদে হবে।

প্রিয়ঙ্কাকে দেখতে পার্টির কার্যকর্তাদের মধ্যে প্রবল উৎসাহকে থামাতে নিরপত্তাকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।

এত বেশী সংখ্যক কার্যকর্তা সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে তাঁদের আটকাতে নিরপত্তাকর্মীদের হালকা শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।

প্রিয়ঙ্কা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই কংগ্রেস অফিসে শ্লোগান শুরু হয়ে যায়।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এসেছেন, নতুন আলো নিয়ে এসেছেন..এই শ্লোগান চলতে থাকে।

নতুন শ্লোগান শুনে পুরোনো নেতাদের মুখেও হাসির রেখা দেখা যায়।

 

Author: Bangla R khabar

Loading...