Press "Enter" to skip to content

অকাল বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে আলু চাষিরা

মালদাঃ অকাল বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে আলু চাষিরা। আর এই ঘটনায়

বুধবার সকাল থেকে পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রামের আলু চাষীদের মধ্যে কান্নার

রোল পড়ে গিয়েছে। এমনকি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিরা

এদিন উনুন’ই জ্বালান নি। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে এদিন সকাল থেকেই

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের আটমাইল – বলরামপুর এলাকার গ্রামীণ সড়ক অবরোধ করে

বিক্ষোভ দেখান শতাধিক চাষিরা। এই ঘটনার খবর পেয়ে মহিষবাথানি এলাকায় গেলে

অবরোধকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তাদের।

অনেক চাষিরা অকাল বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া আলুর জমিতে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিভাবে মহাজনী ঋণ শোধ করবেন তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন  মহিষবাথান গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক’শ চাষি। তাঁদের বক্তব্য, কয়েকদিন পরেই জমি থেকে আলু তোলার কাজ শুরু করা হতো। কিন্তু মঙ্গলবার রাত ভর অকাল বর্ষণ বৃষ্টিতে আলুর জমির ডুবে গিয়েছে।

বিপুল  ক্ষতি হয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের সাহায্যে দরবার করেছেন চাষিরা। পরে অবশ্য ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত

কর্তাদের আশ্বাস পাওয়ার পরই দুপুর ১ টা নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা অবরোধ তুলে নেন।

জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্র জানিয়েছেন, ঘটনার কথা জানার পরই কৃষি দপ্তরকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদি এব্যাপারে পুরাতন মালদা ব্লকের

সহ কৃষি অধিকর্তা সাইফুল ইসলাম মন্ডল জানিয়েছেন, অকাল বর্ষণের জেরে মহিষবাথানি গ্রাম

পঞ্চায়েত এলাকায় বিপুল পরিমাণে আলু চাষে ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর ওই গ্রাম

পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বিষয়টি তদারকি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের একটি

রিপোর্ট তৈরি করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অকাল বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টির চোটে ডুবে গেছে অনেক খেত

স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাঞ্জাইল, শহরা,

ন্যাকরামাড়ি, বাঙ্গাবাড়ি সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের বাসিন্দারা আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত। এই ব্লকে

এবছর প্রায় ৩১০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। কিন্তু অকাল বর্ষণের কারণে ৯৯ শতাংশ

জমিতে আলুর ক্ষতি হয়েছে।অকাল বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টির ক্ষতির পরিমাণ আড়াইশো কোটি টাকা

ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও স্থানীয় কৃষি দপ্তরের কর্তারা মনে করছেন।

মঙ্গলবার রাতভর টানা অকাল বর্ষণ এবং শিলাবৃষ্টির জেরে বিপুল পরিমাণে আলু চাষে ক্ষতি

হয়েছে। অধিকাংশ আলু চাষের জমিতে এক হাঁটু জল জমে গিয়েছে। জলের তলায় আলু ডুবে

যাওয়ার কারণে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। এই অবস্থায় কান্নার রোল শুরু হয়েছে চাষীদের

মধ্যে। বাঙ্গাবাড়ি এবং শহরা গ্রামের আলু চাষী অজয় রাজবংশী, রবীন্দ্র রাজবংশী, দানেশ

রাজবংশী, পার্বতী রাজবংশী, নাজমুল হকদের বক্তব্য, বেশিরভাগ চাষিরা অন্যের জমি লিজ

নিয়ে আলু চাষ করেন। কেউ পাঁচ বিঘা আবার কেউ দশ বিঘা জমিতে আলু চাষ শুরু

করেছিলেন। কয়েকদিন পরেই জমি থেকে আলু তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অকাল

বর্ষণে আলু জমিতেই ডুবে গিয়েছে। কয়েকশো চাষী আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিন

সকাল থেকেই জলে ডুবে যাওয়া আলুর জমির পরিস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন চাষিরা।

এমনকি অধিকাংশ গ্রামে আলুচাষিরা এদিন নিজেদের বাড়িতে উনুন জ্বালানি নি। সকাল থেকে

ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে গ্রামীণ সড়ক অবরোধ করে সোচ্চার হোন আলু চাষিরা।

জেলা প্রশাসনেন আশ্বাসন পাবার পর বিক্ষোভ শেষ করেন কৃষকরা

এদিকে পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের জমি তদারকিতে জান ব্লক কৃষি দপ্তরের সহ অধিকর্তা সাইফুল ইসলাম, পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি,

কর্মদক্ষ মুকুলেশ্বর রহমান, রুম্পা সরকার, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সুমিত্রা রাজবংশী প্রমূখ।

কিন্তু পঞ্চায়েত ও কৃষি দপ্তরের কর্তাদের সামনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন

আলু চাষীরা। তাঁদের বক্তব্য, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫

হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন হয় প্রায় ৭০ কুইন্টাল। অনেকেই মহাজনদের

কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে আলু চাষ শুরু করেছিলেন। এবছর আলুর পাইকারি দর

১৬০০ টাকা কুইন্টাল চলছে। লাভের আশায় করেছিলেন চাষীরা। কিন্তু একদিনে সব শেষ হয়ে

গিয়েছে।

পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের

কারণে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিন বিভিন্ন এলাকা তদারকি করে দেখা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা যাতে তাদের ক্ষতিপূরণ পান সে ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে

জানানো হবে।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from কাজMore posts in কাজ »
More from কৃষিMore posts in কৃষি »

One Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!