ভাষা দিবসে শহীদের ভিটে ঘিরে সিপিএম-কংগ্রেসের রাজনীতির অবসান চান এলাকাবাসী

Barkat
Spread the love

মুর্শিদাবাদ – ভোট বড় বালাই ! তার ‘সহচর’ রাজনীতি ঢের বেশি জটিল।

তাই সেখান থেকে নিস্তার নেই মানুষের জন্ম মৃত্যুর আবেগও।

৫২ এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবুল বরকত।

তাঁর জন্ম ভিটে সলারের বাবলা গ্রামে।

সারা বছর বরকতের ভিতের চৌহদির আশেপাশে দেখা মেলেনা বাম-কংগ্রেসে রাজনীতির কারোবারীদের।

তবে ২১ ফ্রেবুয়ারীর রব উঠলেই হুহু করে ছুটে আসেন ডান বাম সব পক্ষই।

সকলেই প্রসংশা কুড়োনোর দৌড়ে তখন ব্যাস্ত।আর দিন শেষে সকলেই ‘ভ্যানিশ’।

বাবলার গুটি কয়েক লোক, যারা কেউ বাবা, ঠাকুরদার মুখে শুনে, কেউ বা বয়সের ভারে নুব্জ হলেও

বরকতের সমসাময়িক হবার দরুন প্রকৃত অর্থেই চান শহীদকে নিয়ে অচিরেই বন্দ হোক রাজনীতি।

বরকত হয়ে উঠুক সকলের,কোন দল বিশেষের নয়।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় গোলাম হোসেন আক্ষেপের সুরে দাবি তুলে বলেন,

“ভাবতে অবাক লাগে, যে গুলি খেল, প্রাণ দিল, সেই শহীদের নামে আজ পর্যন্ত সিপিএম বা কংগ্রেস কেউই

একটা গ্রামের নাম,রাস্তার নাম এমনকি  ভালো সংগ্রহশালাও আজ এত বছরেও গড়ে তুলতে পারেনি এখানে”।

পরাধীন ভারতে ১৯২৭ সালের ১৬ জুন সলারের বাবলা গ্রামে জন্ম আবুল বরকতের।

কৃষক পরিবারে  বাবা সামসুজোহা শেখ ও মা হাসিনা বেওয়ার কাছে বড্ড আদরের ছিল সে।

ছোট থেকেই বাংলা ভাষার প্রতি ছিল তার গভীর নাড়ীর টান।

উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্য়ালয়ে পাড়ি দেন বরকত

গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের পাঠ শেষ করে ভর্তি হন স্থানীয় তালিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

সেখান থেকে পরে বহরমপুর কে এন কলেজের পাঠ শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশের  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়ি দেন।

সেখানে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে

১৯৫২ সালের ২১ফেবরুয়ারীতে গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় বরকতের দেহ।

সবাই ভুলে গেলেও শহীদের মা হাসিনা বেওয়া জীবিত থাকাকালীন এক মুহূর্তের জন্যেও ছেলেকে ভুলে উঠতে পারেননি।

গ্রামের অনেকেই জানান যে বছরের এই দিনটিতে গ্রামের ছোটদের নিয়ে শহীদের মা বাড়ীর চারপাশে

পিদিম জ্বেলে স্মরণ করতেন বরকতকে, তবে এখন সেই সবের কোন বালাই নেই।

হাসিনা খাতুনের এই দেশ ছেড়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে যাবার পর থেকেই তা বন্ধ।

যদিও সেই দুঃখ ঘোচাতে শহীদকে নিয়ে  আসরে নেমে পরে ডান-বাম দুই পক্ষই। শুধু তাই নয়।

কংগ্রেস ও সিপিএম দুটি আলাদা আলাদা  মঞ্চ গড়ে শহীদ বরকত কে নিয়ে।কংগ্রেস তৈরি করেছে ‘আবুল বরকত সঙ্ঘ’।

পিছিয়ে না থেকে সিপিএম বানিয়েছে ‘শহীদ আবুল বরকত কেন্দ্র’।

এই ব্যাপারে জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র তথা অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব জয়ন্ত দাস বলেন,

“শহীদ কে নিয়ে কোন ধরনের রাজনীতির পক্ষপাতী নই আমরা।।

যে কেউ চাইলে আমাদের মঞ্চে কোন কাঁটা তার ছাড়াই শহীদকে সম্মান প্রদর্শন করতে বামেরা এগিয়ে আসতেই পারে।

পাল্টা সিপিএম এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়,”বামেরা এই দিনটিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে।

সেখানে শহীদ নিয়ে তাদেরও কোন ছুঁতমর্গ নেই।

কংগ্রেস একই ভাবে এগিয়ে আসতে পারে তাদের সাথে।”

এই ডান-বাম এর  রাজনীতির কৌশল আর  কচকচানির মাঝে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় শাসক দল তৃনমুল কংগ্রেস

বৃহস্পতিবার থেকে টানা ৩ দিন ব্যাপী বরকতের জন্ম ভিটেতে বিশেষ অনুষ্ঠান সূচী গ্রহণ করল।

এই ব্যাপারে  রাজ্য যুব তৃণমুল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মুর্শিদাবাদের তৃণমূলের প্রচার মুখ সৌমিক হোসেন বলেন,

“আমাদের রাজ্য দলীয় নেতৃত্বের তরফে বাবলার এই গ্রামে শহীদ বরকতকে শ্রদ্ধা জানাতে

সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এই ৩ দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।

এলাকাবাসী এই আয়োজনে যথেষ্টই আপ্লুত। আগামীদিনে এই গ্রামকে নিয়ে আমাদের অনেক ভাবনা আছে”।

Author: Bangla R khabar

Loading...