জলপাইগুড়িঃ আধারের জন্য আঁধার রাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ব্যাঙ্কের বাইরে রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বায়োমেট্রিক নাগরিকত্ব না থাকলে যাবতীয় পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন ।

এমনকি নিজের আমানত ব্যাঙ্কে জমা রাখতে হলেও চাই আধার পরিচয় পত্র।

সেই আধার কার্ড হাতে পেতে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ।

কারণ আধারে নাম তোলা সহজ কাজ নয়।

এর জন্য ব্যাঙ্কবাবুদের ইচ্ছার উপরেই নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

জলপাইগুড়ি শহরের পিসি শর্মা মোড়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে আধারে নাম তোলা হয়।

কর্মীর অভাবের কথা বলে দিনে ২০ জনের বেশি নাম তোলেন না তাঁরা।

অথচ প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ মানুষ লাইন দেন এখানে।

ফলে প্রতিদিন বহু মানুষকে ফিরে যেতে হয়।

সেই সমস্যা কাটাতে রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন অনেকে।

এদিন রাত ১০ টায় এমন চিত্রই ধরা পড়লো ক্যামেরায়।

কাল সকাল ১০ টায় খুলবে ব্যাঙ্ক।

তাই এদিন রাত ১০টা থেকেই ছেলে বউ নিয়ে লাইনে এক যুবক।

বাড়ি দূরে।

বেশ কয়েকবার সপরিবারে ব্যাঙ্কে এসে ফিরে গেছেন।

তাই এবার রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।

একইভাবে লাইনে এক প্রৌঢ়।

আধার বাধ্যতামূলক না হলেও ব্যাঙ্ক, বীমা সংক্রান্ত কাজে চাওয়া হচ্ছে

সরকার আধারকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে বহুবার।

কিন্তু তাতে বাদ সেধেছে শীর্ষ আদালত।

আধার এখনও বাধ্যতামূলক নয় শীর্ষ আদালতের রায়ে।

যদিও তাতে থোরাই কেয়ার করেন সরকারি আধিকারিকেরা।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ব্যাঙ্ক, বীমা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের পাশাপাশি

সমস্ত রকম পরিসেবা প্রদানের সময় আধার পরিচয় পত্র জনগনের কাছে চাওয়াই তাদের অভ্যাস।

তাই আধারের গুরুত্ব কমেনি এতটুকু।

কিন্তু আধার যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটাই সমস্যা আধার পরিচয় পত্র তৈরি করা।

দেশে আধার পরিচয় পত্র  তৈরীর কাজ শুরু হয় প্রথম ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন।

যদিও তখন তা ছিল ইচ্ছাধীন।

দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নাগরিকদের আধারে নাম তোলার উদ্যোগ শুরু হয়।

যদিও সে সময় আধারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিলনা।

নরেন্দ্র মোদী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধারকে বাধ্যতামূলক করতে শুরু করে।

প্রথম দিকে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফেতে আধারে নাম তুলতে পারলেও এখন সেই ভার গিয়ে পড়েছে

কিছু বাছাই করা কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অথবা পোস্ট অফিসের কাঁধে। আর সমস্যা এখানেই!

একদিকে সরকারী অফিসে কর্মী সংকট।

এর সাথে বিপুল কাজের চাপ।

তার সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আধারের চাপ।

যা কোনো মতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না ব্যাঙ্কবাবুরা। আর এতেই সমস্যায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

প্রশ্ন হচ্ছে যে পরিচয় পত্র এত জরুরি,  তা তৈরির জন্য কেন বিশেষ উদ্যোগ নেই সরকারের।

স্বাধীন দেশে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যদি রাত জেগে লাইনে দাঁড়াতে হয় তা লজ্জার বইকি!

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.