গুজরাটের পটেল পরিবারের চেষ্টা প্রাণ ফিরে পেল তিন জন

heart corrido
  • প্রাণ বাঁচাতে ১১৫০ কিলোমিটার যাত্রা মাত্র ১১৭ মিনিটে
  • হৃদপিন্ড প্রতিস্থাপন করে বাঁচানো হলে এক যুবককে
  • কিডনি পেলেন দুজন

প্রতিনিধি

নয়া দিল্লীঃ গুজরাটের পটেল পরিবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

১৮ বছরের তরতাজা ছেলের মৃত্যুতে শোক করার বদলে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে

ভারত ও কোকিলা পটেল মানুষকে দেখিয়ে দিলেন কিভাবে দায়িত্ব নিতে হয়।

তাঁরা জানতেন যে তাঁদের ছেলে তো আর কোনদিন ফিরে আসবে না,

তাই তাঁরা মরণত্তর ছেলের অঙ্গদান করে অন্যকে বেঁচে থাকার উপায় করে দিলেন। আর এই ব্যাপারে সাহায্য করল গ্রীন করিডর।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ সেপ্টেম্বর। এদিন দুর্ঘটনায় সুরাটের মিহির পটেলের মৃত্যু হয়।

দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা একটি ট্রাক তাকে রাস্তায় পিষে দিয়ে চলে যায়। তড়িঘড়ি বছর আঠেরোর এই যুবককে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে ।

চিকিৎকরা জানান মিহিরের ব্রেনে ক্লট ধরা পড়েছে। মুহূর্তে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে সুরাটের পটেল পরিবারে।

এর দুদিন বাদেই মিহির মারা যায়। মিহিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও তার বাবা-মা সফল হন নি।

কিন্তু তাঁদের চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পায় আরও তিনটি মানুষ। মিহিরের হ্রদপিন্ড চলে যায় দিল্লীতে।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নিয়ম মেনে গ্রীন করিডর তৈরী করা হয় সুরাট ও দিল্লীর মধ্যে।

মাত্র ১১৭ মিনিটে মিহির পটেলের শরীরে থাকা হ্রদপিন্ডটি পৌঁছে যায় দিল্লী।

কিডনী দুটিও দান করে দেন বাবা-মা

বাড়ির সন্তান হারানোর শোকে যখন কাতর গোটা পরিবার, তখন পরিবারের সদস্যরা সকলে মিলে এক সিদ্ধান্তের পথে এগিয়ে যান।

ঠিক করা হয়, মিহিরকে তাঁরা বাঁচিয়ে রাখবেন অন্য কারোর শরীরে।

এমন ভাবনা থেকেই মিহিরের হৃদযন্ত্র অন্য একজনের দেহে প্রতিস্থাপিত করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

এদিকে, দিল্লীর কাছের নোয়ডার গোবিন্দ মেহরার হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন গোবিন্দ। তৎক্ষণাৎ  গুজরাটের সুরাটের মিহিরের হৃদযন্ত্র নয়ডার গোবিন্দের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু বাধ সাধে সুরাট থেকে নয়ডার দূরত্ব।

শেষমেশ ব্যবস্থা করা হয় গ্রিন চ্যানেলের।

যার দ্বারা ১১৭ মিনিটে ১১৫৮ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মিহিরের হৃদযন্ত্র পৌঁছে যায় নয়ডার গোবিন্দ পর্যন্ত।

শুধু মিহিরের হৃদযন্ত্র নয়, প্রয়াত ১৮ বছরের ওই যুবকের কিডনিও প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

দুটো কিডনি দুটি আলাদা আলাদা মানুষের দেহে প্রতিস্থাপিত করা হয়।

এঁরা হলেন সুরাটের সঞ্জয় কানানি ও আহমেদাবাদের  ১২ বছরের কিশোর আদনান অনসারি।

এভাবেই বিভিন্ন জনের মধ্যে তাঁদের সন্তান মিহির পটেল বেঁচে রয়েছে বলে মনে করেন ভারত ও কোকিলা পটেল।

সন্তানকে হারিয়েও কঠিন সময়ে চোখের জলে মুছে পটেল পরিবারের এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যাঞ্জক ও দৃষ্টান্তমূলক।

Please follow and like us:

Author: Bangla R khabar

Loading...