Press "Enter" to skip to content

টিকটক থেকে ভালোবাসা বেড়ে দুই কিশোরীর প্রেম




  • ছয় দিন একসাথে থাকায় সন্দেহ হয়েছিলো সবার

  • দু’জনকেই তুলে দেওয়া হলো সিডাব্লিউসির হাতে

  • বাড়ি থেকে পালিয়ে অসম থেকে বাংলায়

  • অবশেষে পুলিশের জালে দুই কিশোরী

শিলিগুড়িঃ টিকটক থেকে ভালবাসা হবার অদ্ভুত ঘটনা যে শুনছে সেই

অবাক। লোকেদের বেশি কৌতুহল এই কারণে কেননা এই ভালবাসা দুই

কিশোরির। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট এর মাধ্যমে অসমের লঙ্কা

থানার অন্তর্গত এক কিশোরীর সাথে পরিচয় নিউ জলপাইগুড়ি থানা

এলাকার এক কিশোরীর। বেশ কিছু দিন ধরে দুজনে একসাথে তৈরি করে

বেশ কয়েকটি টিকটক ভিডিও। সেই ভিডিও বেশ সাড়া পড়েছিল

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করে। আর

ওই ঘনিষ্ঠতায় অসমের লঙ্কাপারা এলাকার কিশোরী ঘর ছেড়ে চলে আসে

শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার

অন্তর্গত নৌকাঘাট পার্শ্ববর্তী এলাকার 14 বছরের এক কিশোরীর বাড়িতে।

শিলিগুড়ি ওই কিশোরী তার পরিবারকে জানায় সোশ্যাল মিডিয়ার

মাধ্যমেই বন্ধুত্ব হয়েছে তার সাথে ওই অসমের কিশোরীর। শিলিগুড়ির

কিশোরীর পরিবারের বিষয়টি সন্দেহ হলে অসমের কিশোরী তার

পরিবারকে জানায় সে অসমে পরিবারকে জানিয়ে ঘুরতে এসেছে

কিছুদিনের জন্য। এই ভাবেই কেটে যায় ছয় দিন। দুই কিশোরীর ঘনিষ্ঠতা

ধীরে ধীরে সন্দেহের সৃষ্টি করে পরিবারের লোকজন থেকে শুরু করে

স্থানীয়দের মধ্যে ও। বিষয়টির খবর এসে পৌঁছয় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন

পুলিশের নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের কাছে। বিশ্বস্ত সূত্রে পুলিশের

কাছে খবর আসে দুই কিশোরীর এই প্রেমের গল্প। বিষয়টির অন্ততদন্তে

যায় নিউ জলপাইগুড়ি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনীর একটি

দল। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে অসমের হোজাই জেলার লঙ্কা থানার

অন্তর্গত একটি এলাকার ওই কিশোরী বাড়ি থেকে পালিয়ে শিলিগুড়ি

এসেছে। বিষয়টি নিয়ে লঙ্কা থানাতে নিখোঁজ ডায়েরি করেছে ওই কিশোরীর

পরিবার। এরপর নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ যোগাযোগ করে অসমের

হোজাই জেলার লঙ্কা থানার পুলিশের সাথে। অসম থেকে রওনা দেয় অসম

পুলিশ এর একটি দল।

টিকটক থেকে ভালবাসা স্বীকার করেছে দুজনে

নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে

নিউ জলপাইগুড়ি থানায়। জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী পুলিশকে জানায়

তারা দুজনে দুজনকে ভালোবাসে। টিকটক থেকেই এই ভালবাসার উত্থান।

শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি এসে পৌঁছয় অসম পুলিশের একটি দল। নিউ

জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ এবং অসম পুলিশ দুই কিশোরীকে জলপাইগুড়ি

জেলা সিডাব্লিউসি হাতে তুলে দেয়। এবার জলপাইগুড়ি জেলা সিডাব্লিউসি

সিদ্ধান্ত নেবে সেই কিশোরীদের আইনানুগভাবে কিভাবে বাড়িতে পাঠাবে।

টিকটক থেকে এই দুই কিশোরীর প্রেমের গল্প চাউর হতেই এলাকায়

চাঞ্চল্য ছড়ায় ভিড় জমায় স্থানীয় বাসিন্দারাও। গোটা ঘটনার পর একটা

কথা উঠে আসে। এ কোন প্রজন্ম? সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে কি

মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে’ আর সেই কারণেই বিভিন্ন দিকে

ঘটছে এইরকম ঘটনা।

Spread the love

3 Comments

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.