Press "Enter" to skip to content

ঢিল ছুঁড়ে নাকি বিক্রি হচ্ছে জলাজমি রাতারাতি ভরাট হচ্ছে পুকুর

  • রাতের অন্ধকারে চলে জলা জমি ভরাটের কাজ

  • বেশ কিছু এলাকায় উঠে এসেছে বহুতল বাড়ি

মালদাঃ ঢিল ছুঁড়ে নাকি বিক্রি হচ্ছে জলাজমি। আর তারপরেই রাতের

অন্ধকারে চলে মাটি ফেলে বেআইনিভাবে জলা জমি ভরাটের কাজ।

মালদা শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত মালঞ্চপল্লী এখন জমি

মাফিয়াদের জুয়ার ক্যাসিনো হয়ে উঠেছে। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার

ক্ষেত্রে মালঞ্চপল্লী এলাকার জমি নাকি এখনই জমি মাফিয়াদের ধীরে ধীরে

হারিয়ে যাচ্ছে শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকার প্রাচীন ওই বিশাল জলাশয়

কেন্দ্রটি। মালিকানা কার রয়েছে সেইসব দেখার প্রয়োজন মনে করছে না

জমি মাফিয়াদের দল। জলাশয় বিক্রি করে রাতারাতি বেআইনিভাবে মাটি

ফেলে ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে পুকুর। তার ওপর গড়ে উঠছে বহুতল

বাড়ি। সম্প্রতি এই নিয়ে রাজ্যের এক মন্ত্রী সাধন পান্ডে মালদা এসে

মালঞ্চপল্লী এলাকায় বেআইনি জমি ভরাটের বিরুদ্ধে তদারকিতে

গিয়েছিলেন। এবং তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ভূমি ও ভূমি

রাজস্ব দপ্তরের কর্তারা ঘনঘন অভিযান চালাচ্ছে। তার পরেও জমি

মাফিয়ারা আইনের কোনো পরোয়া না করেই জলাজমিগুলি

বেআইনিভাবে ভরাট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে স্থানীয়

মানুষদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। কিন্তু জমি মাফিয়াদের লাল চক্ষুর

ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে পারছেন না। স্থানীয় একাংশ

বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলাশয়ের কারণে জমির মাপজোক করতে পারে

না জমি মাফিয়ারা। তাই বিক্রি করার সময় ঢিল ছুঁড়ে বিক্রেতাদের

কাছে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা

কাটা এক কাঠা দরে বিক্রি হচ্ছে এইসব জলাজমি। আর তারপরেই চলছে

রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে মাটি ফেলে জলাশয় ভরাটের কাজ।

গৌড়বঙ্গ হিউম্যানরাইটস্ আওয়ারনেস সেন্টারের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দাস

বলেন, মালঞ্চপল্লী এলাকায় ব্যাপকভাবে জলাজমি ভরাট করা হচ্ছে।

এভাবে বেআইনি জমি ভরাট হতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে

যাবে। বর্ষার মরশুমে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এজন্য প্রশাসনকে কঠোর মনোভাব নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া

দরকার।

ঢিল ছুড়ে জমি বিক্রির ব্যাপারে অফিস সতর্ক

ইংরেজবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক অন্যন্যা দত্ত

জানিয়েছেন , এই ধরনের বেআইনি মাটি ভরাটের কাজ কোনোভাবেই

বরদাস্ত করা হবে না। প্রায় দিনই মালঞ্চপল্লী এলাকায় অভিযান চালানো

হচ্ছে। এর আগেও বেশ কিছু মাটি ভর্তি ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে। কিন্তু

যারা বেআইনি মাটি ভরাটের কাজে যুক্ত, তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্ষার মরশুমে মালদা

শহরের বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির জল এই মালঞ্চপল্লী এলাকার জলাশয়ে

গিয়ে মিশে। সেই জমা জল মালঞ্চপল্লী এলাকার জলাশয় হয়ে যদুপুর ১ গ্রাম

পঞ্চায়েতের জলাজমিগুলি দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে সেই জল বাইপাস

রোড সংলগ্ন কালভাট পেরিয়ে পুরাতন মালদার ভাতিয়ার বিলে গিয়ে

মিশে। কিন্তু গত কয়েক বছরে মালদা শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকার চিত্রটা

সম্পূর্ণভাবে বদলে গিয়েছে। এই এলাকার জলাশয়ের এদিক-সেদিক

বেআইনিভাবে মাটি ভরাট করে গড়ে উঠছে অনেক বহুতল। যা নিয়ে

পুরসভার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। কিভাবে দিনের-পর-

দিন মালঞ্চপল্লী এলাকায় বেআইনিভাবে জলাজমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে তার

কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি স্থানীয় কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরী।

এপ্রসঙ্গে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নিহার ঘোষ জানিয়েছেন,

এরকম বেআইনি কাজকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যারাই এই

কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট

দপ্তর যেন আইনত ব্যবস্থা নেই সেই দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি

পুরসভা থেকেও বেআইনি ভাবে ওই এলাকার জলাজমি ভরাটের বিরুদ্ধে

অভিযান চালানো হচ্ছে।


 

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from অপরাধMore posts in অপরাধ »
More from তাজা খবরMore posts in তাজা খবর »
More from দূর্নীতিMore posts in দূর্নীতি »
More from পশ্চিমবঙ্গMore posts in পশ্চিমবঙ্গ »
More from ব্যবসাMore posts in ব্যবসা »

3 Comments

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!