নববর্ষকে করি আহ্বান, মুছে যাক সব পুরানো মলিন স্মৃতি তোমার আগমনে

0 47
সুদীপ সিংহ দেও
এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ তুমি এসো এক নতুন রূপে, পুরানো সব মলিন স্মৃতি
মুছে যাক তোমার আগমনে| যত দুঃখ কষ্ট হরন করে এসো তুমি হে বৈশাখ|
সকলের মনে শুধু এই আশা এই আকাঙ্খা| বাংলা যেন মেতে উঠেছে তোমার আহ্বানে|
চৈত্রের অবসানে বসন্তের আঁচল ছুঁযে এসেছে নতুন বছর, আগমন হয়েছে বৈশাখের|
জীর্ণ ক্লান্ত পুরনো বছরের রাত্রির অবসানে পূর্ব দিগন্তে উঠেছে নতুন দিনের জ্যোতিময ভানু, উন্মুক্ত মঞ্চে ধ্বনিত হয় নব জীবনের নব সংগীত|
বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ও সার্বজনীন উত্সব বলতে বাংলা নববর্ষকেই বোঝায়।
বৈশাখের শিকড় বাঙালির মূলধারায় গাঁথা| বৈশাখের বিচ্ছুরণ গ্রাম বাংলা থেকে
শহরˆ-নগরˆ-বন্দর ছাড়িযে গিয়েছে| পযলা বৈশাখ বর্ষবরণ উত্সব এবং বৈশাখী
মেলা তাই আজ এক সার্বজনীন, উত্সব|
বাঙালি সংস্কৃˆতির প্রধান ঐতিহ্য ‘পযলা বৈশাখ’ বাঙালীর প্রাণকে কত আনন্দ উল্লাসে
ভরে তুলে, তাঁরা উচ্ছাসিত হয়ে বর‌্যবরণ উত্সব পালন করেন|
গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীযস্বজন ও
বন্বু বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়| বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটামুটি
সুন্দর করে সাজানো হয়|
বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে| বর্ষবরণে মূলত মিষ্টান্ন, নানারকম পিঠা পুলির
আযোজন করা হয়ে থাকে|
নববর্ষারম্ভ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পাড়ার অলিতে গলিতে নানা সংগঠনের উদ্যোগে
প্রভাতফেরি আযোজিত হয়|

 

বিগত বছরের চৈত্র মাসে শহরের অধিকাংশ দোকানে ক্রযে উপর দেওয়া হয়ে থাকে
বিশেষ ছাড়, যার প্রচলিত কথ্য নাম ’চৈত্র সেল’|
তাই পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এবং এই ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করতে অর্থনৈতিক অবস্থা
নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ একমাস ধরে নতুন জামাকাপড়, ইত্যাদি ক্রয় করে থাকে|
পযলা বৈশাখের দিন উল্লেখযোগ্য ভিড় চোখে পড়ে কলকাতার বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে|
সেখানে বিভিন্ন ব্যাবসায়ীরা ভোর থেকে মন্ত্রপাঠপূর্বক গঙ্গাস্নান করে প্রতীক্ষা করে
থাকেন দেবীকে পূজা নিবেদন করে হালখাতা আরম্ভ করার জন্য|
ব্যবসাযী ছাড়াও বহু গৃহস্থও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা
করতে কালীঘাটে গিয়ে থাকেন|
এইদিন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসাবে নতুন ধুতি পাঞ্জাবি এবং শাড়ি পরার রেওযাজ প্রচলিত|
বাংলা নববর্ষের সূচনা হয়েছিল মূলত সম্রাট আকবরের সময থেকেই|
সে সময বাংলার কৃষকেরা চৈএ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার,তালুকদার এবং অন্যান্য
ভূস্বামীর খাজনা পরিশোধ করত| পরদিন নববর্ষে ভূ-স্বামীরা তাদের মিষ্টি মুখ করাতেন |
 ‘নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান
বিভিদের মাঝে দেখ মিলন মহান’
রবি ঠাকুরের এই বিখ্যাত পঙতি যেন যথার্থ ভাবে ফুটে উঠেছে, কোথাও নববর্ষ,
কোথাও বৈশাখী,কোথাও ভিশু, কোথাও পুথুভরুশম,কোথাও রঙ্গালি বিহু,একই
সময়ে উদযাপন করে বর্ষবরণ করা হয়|
কিন্তু উদযাপনের রীতি নীতি একে অপরের চেয়ে  ভিন্ন, এই বিভিধতার মধ্যে সারা
ভারতে সকলেই একই সময়ে একই সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়|
নববর্ষের কল্যাণময শক্তিকে সুস্বাগত জানাই| সেইসাথে সকলের প্রতি রইল নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা|

You might also like More from author

Comments

Loading...