Press "Enter" to skip to content

কাদুম গ্রামের বিলুপ্তপ্রায় বিরহোর পরিবার রোজ যুদ্ধ করছে বেঁচে থাকার জন্য

  • সমস্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারুর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই
  • ঝাড়খণ্ড থেকে এই উপজাতির জনসংখ্যা কম হয়ে যাচ্ছে
  • ঘন বনের ভিতরে নকশাল প্রভাবিত অঞ্চলে থাকে
  • বাড়ির শিশুরা ক্ষুধার্ত হলে লাল পিঁপড়া খায়
মনোজ শরণ

রাঁচি: কাদুম গ্রাম আসলে পশ্চিম সিংভূম বান্দগাঁওয়ের এলাকায়।

মনোরম দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। খুব সুন্দর নদী আর চারদিকে জঙ্গল পর্বত।

প্রকৃতির সুন্দর ছায়া দেখা যায় তবে এই অঞ্চলটি খুব নকশাল প্রভাবিত অঞ্চল।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাকা এখানে থেমে যায়।

এই গ্রামে  বিরহোর উপজাতির 29 পরিবার নিজেদের জন্য প্রতিদিন জীবন যূদ্ধ করে চলেছেন।

রাষ্ট্রীয় খবরের সংবাদদাতা মনোজ শরণ সেই গভীর বনে তাঁদের কাদুম গ্রামে গিয়ে তাঁদের আসল অবস্থা দেখে এসেছেন। বিরহোর পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেছিলেন এবং তাদের জীবনধারা ও তাদের সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে স্থল বাস্তবতা কী?  মনোজ শরণ গ্রামে গিয়ে আপনাদের কাছে এই পরিস্থিতিটি উপস্থাপন করছেন।কাদুম গ্রামের ছবি এই রকম

বিরহোর উপজাতি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির কারণ এবং সরকার তাদের বাঁচাতে

সরকারও বড় বড় কথা বলে। তবে সরকারী কর্মকর্তা ও দালালদের কারণে

বিরহোর ও দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী অন্যান্য উপজাতিরা সরকারী প্রকল্পের

সুবিধা পেতে সক্ষম হয় নি। এর জীবন্ত উদাহরণ কাদুম গ্রামে বসবাসকারী

বিরহোর পরিবার। তারা নিজের হাতে নির্মিত কাঠের ছোট ছোট বাড়িগুলিতে

থাকেন। এই ঘর এমন যে এপাশ থেকে ওপাশ সহজেই দেখা যায়। বাড়িতে কোন

আলাদা কামরা নেই। ভাল করে দেখলে দেখতে পাওয়া যায় কয়েকটি হাঁড়ি এবং

কিছূ বাসন।

এই কাদুম গ্রামে যাবার কোনও রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, জল নেই, এমনকি

একটি একটি দোকান নেই। তাই কাদূম গ্রামের বিরহোর না এখনও প্রধানমন্ত্রী

আবাস যোজনার কোন লাভ পায় নি। এখানে জীবন কতটা কঠিন তা বোঝার

জন্য এটি যথেষ্ট।কাদুম গ্রাম

সরকারের সমস্ত দাবী এই গ্রামের আসল অবস্থ্যা দেখলে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এই বিরহোর পরিবারগুলির কোনও কর্মসংস্থান নেই। বন্য গাছের ছাল থেকে

দড়ি তৈরি করা, বা শুকনো গাছ থেকে কাঠ কেটে সাপ্তাহিক হাটগুলিতে

বিক্রি করা হয় যেখানে তারা তাদের চাহিদা মেটাতে কিছু অর্থ পান।

কাদুম গ্রামের একমাত্র ইন্টার পাস মঞ্জু বিরহোর

কাদুম গ্রামমঞ্জু বিরহোরকে একই গ্রামে পাওয়া গিয়েছিল। যিনি কোনমতে ইন্টার অব্দি পড়া

করতে পেরেছিলেন। তবে পরে টাকার অভাবে সেটা ছাড়তে হয়েছে।

এই গ্রামের আরও কিছূ মেয়ে পড়াশুনা করছেন তবে তারাও কত দিন সেটা

চালিয়ে যেতে পারবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

মঞ্জু নিজে বলেছেন যে আজ পর্যন্ত কোনও অফিসার, কর্মকর্তা বা নেতা

তাদের সমস্যাগুলি দেখতে গ্রামে আসেনি এবং কোনও অভিযোগই শুনেনি।

খাদ্য উপার্জনের জন্য কোনও সংস্থান নেই।

এই কাদুম গ্রামের বাসন্তী বিরহোর, যিনি খুব বুদ্ধিমান, হকি খেলার পাশাপাশি পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তার গানের গলা খুব ভাল।

তবে সংসারের অভাবের কারণে প্রতিভা মরে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

এই কাদুম গ্রামে পানীয় জলেরও ঘাটতি রয়েছে।গ্রামের জলের একমাত্র ভরসা

একটি পাহাড়ী গর্ত থেকে গ্রামে জল আনতে হয়। সেই জল পেতে কয়েক ঘন্টা

অপেক্ষ্যা করতে হয়। গ্রীষ্ম কালে সেটা শুকিয়ে গেলে নীচে নেমে জল আনতে হয়।

এই বিরহোর পরিবারগুলিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার যে পরিবেশ সরবরাহ করা উচিত

ছিল, তারা সব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আজ অবধি কেউ তাদের গ্রামে পৌঁছে

যেতে পারেনি, কেউ তাদের যত্নও নিতে পারেনি। কেউই তাদের অভিযোগ

শুনছেন না।

অধিকাংশ পরিবারের পরার জন্য পোশাক নেই

এই পরিবারগুলিতে একইভাবে পরিধান করার জন্য পোশাক নেই। ছোট নিষ্পাপ

শিশু মেয়েদের দেখে আবেগাপ্লুত হয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় শিশুরা সারাক্ষণ খাবার

পায় না। সেই কারণেই পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা গাছের দেমতা (লাল পিঁপড়া)

গুলিকে নুনের সাথে মিশিয়ে রোদে শুকান। ক্ষিদে পেলে উপায় সেই দেমতা খাওয়াযখন প্রয়োজন হয়, তার চাটনি তৈরি

করে সেটাই খাওয়া হয়। ক্ষুধার্ত শিশুরা যখন খুব লালসার সাথে এই লাল পিঁপড়ে

(ডেমটা) খায়।

কাদুম গ্রাম দেখার সময় ছোট্ট মেয়ে রাজ নন্দিনী বিহোরকেও দেমাটা খেতে দেখা গেছে।

অন্য জায়গায় শিশুরা পিজ্জা বার্গার এবং অন্যান্য সুস্বাদু খাবারগুলি স্বাদ দেয়। কদূম গ্রামে অনেক দরিদ্র বাচ্চা রয়েছে যারা দূবেলা ভরপেট খাওয়া পায় না।

জেনে রাখুন যে আদিবাসী সমাজে এই পিপড়া খাওয়া প্রচলন আছে। এটি খেতে একটু টক টক লাগে।এই ভাবে শুকনো লাল পিপড়ে আর নূন খায় তারা

বিরহোর পরিবার উপত্যকায় অসহায় ও অসহায় জীবন যাপনে বাধ্য।

যদিও পরিবারের সদস্যরা খুব বেশি অভিযোগ না করে পরিস্থিতি আপোষহীন

জীবন যাপন করছেন, তবে এমনও আশা রয়েছে যে এমন কেউ আসবে যিনি

তাদের বেদনা বুঝতে পারবেন এবং তাদের জীবন অবশ্যই ভাল দিন

একদিন আসবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from রাজ কার্যMore posts in রাজ কার্য »

2 Comments

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!