সিরিয়ার রাজধানী দমিশ্কে হামলা, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রাঁসের যৌথ আক্রমন

ক্যেমিকাল অস্ত্রের অনেকটাই নষ্ট করা হয়েছে, বারজাহে আছে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র

0 39
এজেন্সি
দমিশ্ক- সিরিয়ার রাজধানী দমিশ্কে দফায় দফায় হয়েছে মিসাইল হামলা। হামলা চালিয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রাঁস। যৌথ বাহিনী বলেছে য়ে এই হামলায় সিরিয়ার অধিকাংশ ক্যেমিকল হাতিয়ার নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। হামলা চলার সময় দূর থেকে শোনা গেছে ছয়টা বড়া বম ফাটার শব্দ। এর সাথে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
ঘটনার সময় ওখানের কাছে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন য়ে বারজাহ এলাকার কয়েকটি জায়গায় একের পর এক হামলা চালান হয়েছে। সিরিয়ার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র এই এলাকায়।
আক্রমন চালাবার পরে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেম্স ম্যাটিস জানিয়েছেন য়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বশর অল অসদ কে স্পষ্ট কথা জানাবার জন্যেই এই আক্রমণ। সিরিয়ার সেনা গত সপ্তাহে বিদ্রোহিদের কাবূ করার চেষ্টায় ক্যেমিকাল হাতিয়ার কাজে লাগিয়েছিলো। তার প্রতিবাদে এই হামলা। তবে অসদ সরকার এই ধরনের কোন ক্যেমিকাল হাতিয়ার চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। সিরিয়ার সরকারকে পেছন থেকে রাশিয়া সমর্থন জানিয়ে য়াচ্ছে।

দমিস্কে শুধু ক্যেমিকাল হাতিয়ার ছিলো নিশানায়

ফ্রাঁসের রাষ্ট্রপতি ইমানুএল ম্যেক্রো বলেছেন যে সিরিয়াকে শুধু ক্যেমিকাল হাতিয়ার নষ্ট করতে বলা হয়েছিলো।
সেই কথা না শুনে এই ধরনের হাতিয়ার চালানোর পরে চূপ করে থাকা ঠিক হত না।
তাই সিরিয়ার সব ক্যেমিকাল ওয়েপন নষ্ট করার জন্য এই মিসাইল আক্রমন করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই ধরনের আক্রমন শুধু মাত্র সে সব ঠিকানায় ওপর হবে, য়েখানে সিরিয়া নিজের ক্যেমিকাল হাতিয়ার রেখেছে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্তরী থেরেসা মে জানিয়েছেন সেনাকে সিরিয়ার সমস্ত রাসায়নিক হাতিয়ার নষ্ট করে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আবার থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ব্রিটেন সিরিয়ার অভ্যন্তরিন ব্যাপারে নাক গলাবে না তবে রাসায়নিক হাতিয়ার চালাবার সূযোগ ও দেবে না।
তাই ব্রিটিশ বাহিনী এই ধরনের আক্রমন চালিয়েছে।
খবর পাওয়া গেছে য়ে আসলে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এই ধরনের আক্রমন চালাবার পক্ষে ছিলেন।
উনি এই কথা স্বীকার করেছেন য়ে গত ৭ এপ্রিল রাসায়নিক হাতিয়ার কাজে লাগানোর ফলে সাঠ জন মারা গেছে।
তার পরেই ওখানের সমস্ত রাসায়নিক হাতিয়ার নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।
আমেরিকা দাবি করেছে য়ে এই গৃহযুদ্ধের মধ্যে সিরিয়া প্রায় ৫০ বার ক্যেমিকাল হাতিয়ার কাজে লাগিয়েছে।
তাই সিরিয়ার কাছে এই ধরনের হাতিয়ার রাখতে দেওয়া পূরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে চিন্তা করে আমেরিকা এই আক্রমন চালিয়েছে।
অন্য দিকে রাশিয়া জানিয়েছে য়ে এই ধরনের মিসাইল হামলায় আসলে কোন কিছূ ক্ষতি হয় নি।
রাশিয়ার দাবি য়ে দমিশ্কের ওপরে প্রায় এক শত মিসাইল ছোঁড়া হয়েছিলো।
তার ভেতরে অধিকাংশকে আকাশের মেরে ফেলা গেছে ফলে তারা কোন ক্ষতি করতে পারেনি।
মনে রাখা উচিত য়ে ব্রিটেন রাজনৈতিক শরণ নেওয়া এক পূর্ব রাশিয়ান গুপ্তচরকে বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ রাশিয়ার ওপরে।
তার পর থেকে ব্রিটেন এবং আমেরিকা সহ অনেক দেশের সাথে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে।

You might also like More from author

Comments

Loading...