ঝাড়খন্ড বিকাস মোর্চার ৬ বিধায়কদের দল বদল কানুন সম্মত

jvm mla
Spread the love

 

  • এঁদের দৌলতে ভাজপার একক বহুমত
  • ঝাবিমো হাইকোর্টে যাবার রাস্তায়

সংবাদদাতা, রাঁচি- অবশেষে ঝাড়খন্ড বিধানসভা অধ্যক্ষ ডক্টর দিনেশ ওঁরাও রাজ্যের ৬ জন বিধায়কের

পালা বদলকে আইন সম্মত বলে তাঁদের রাস্তা পরিষ্কার করে দিলেন।

এই বিধায়কদের দৌলতেই বিজেপি রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে এই ৬ জন বিধায়ক ঝাড়খন্ড বিকাস মোর্চার পক্ষ থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।

কিন্তু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁরা হঠাৎ পালা বদল করে বিজেপিতে যোগ দেন।

এই ঘটনার পর ঝাবিমোর পক্ষ থেকে বিধানসভা অধ্যক্ষর কাছে এই ৬ বিধায়কের সদস্যতা শেষ করার আপীল করা হয়।

বিধানসভা অধ্যক্ষ দিনেশ ওঁরাও চার বছর থেকে এই মামলার শুনানী করছিলেন।

বুধবার তিনি ফয়সালা দেন যে এই বিধায়করা যা করেছেন তা আইন সম্মত।

যদিও রাজনীতিবিদরা এই ধরনের ফয়সালারই আশা করছিলেন।

কেননা বিপরীত ফয়সালা এলে রাজ্য সরকার সংকটের মুখোমুখি হতো।

কিন্তু এর সাথে আইনজ্ঞরা এই কথাও বলছেন যে নির্বাচন আয়োগে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী

এই ৬ জন বিধায়ক ঝাবিমোর টিকিটেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।

তাই বিধানসভা অধ্যক্ষের দেওয়া ফায়সালাকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো যেতেই পারে।

এই ৬ জন বিধায়ক নিজেদের পক্ষ রাখতে গিয়ে ঝাবিমোকে বিজেপির সাথে মার্জ করার কথা বলেছেন।

কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে যে ঝাবিমো এখনও সক্রিয় ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই দলের অন্য বিধায়করা

সরকারের বিরুদ্ধ পক্ষ হিসাবে নিজেদের বক্তব্য রাখছেন। এই দলের কান্ডারী রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মরান্ডী।

উল্লেখযোগ্য যে ২০১৪ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ঝাবিমোর ৮ জন বিধায়ক জয়লাভ করেছিলেন।

নির্বাচনে জিতে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন এই ৬ বিধায়ক

এঁদের মধ্যে ৬ জন ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ তে বিধানসভা অধ্যক্ষকে চিঠি লিখে ঝাবিমোর

অন্য বিধায়কদের থেকে আলাদা বসার অনুমতি চেয়েছিলেন।

এর পর ঝাবিমো সুপ্রীমো বাবুলাল মরান্ডী এবং বিধায়ক দলনেতা প্রদীপ যাদব এই ৬ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে

দল বদল আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এর আগে এই ৬ জন বিধায়ক নির্বাচনে জিতে লুকিয়ে ছিলেন।

তাঁরা হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিলেন ও পরে বিজেপির সদস্য হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ থেকে এই ৬ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে স্পীকারের আদালতে শুনানি শুরু হয়।

১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তে এই শুনানি সম্পূর্ণ হয়। ৬৪ দিন শুনানি হয়।

এতে ঝাবিমোর পক্ষ থেকে ৮ এবং ওই ৬ বিধায়কের পক্ষে ৫৪ জন সাক্ষী পেশ করা হয়।

ঝাবিমোর পক্ষ থেকে বলা হয় যে ওই বিধায়করা দল বদল করেছেন, যেটা সংবিধানের ১০ নম্বর অনুসূচী অনুযায়ী বেআইনি।

অন্যদিকে এই ৬ জন বিধায়ক সাক্ষীদের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে

ঝাবিমো পার্টি বিজেপির সাথে মিলে গিয়ে এক হয়ে গেছে।

১২ ডিসেম্বরে মামলার শুনানি শেষ হয়ে যাবার পর স্পীকার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  এ রায় দিলেন।

উল্লেখযোগ্য যে ২০১৪ তে ঝাড়খন্ড বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি ৩৭ টি সীটে জয়লাভ করেছিল।

অন্যদিকে ঝাবিমো পেয়েছিল ৮ টি সীট।

ঝাবিমোর হয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এই দলের ৬ জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করার পর পার্টির সীট ৪৩ এ দাঁড়ায়।

ঝাড়খন্ড বিধানসভার ৮১ টি সীটের জন্য সরকার গঠন করতে ৪১ বিধায়কের দরকার হয়।

তার ফলে বিজেপি নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে সরকার গঠন করে।

এতে সরকারের ওপর অল ঝাড়খন্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়নের চাপও কমে যায়।

কারা বিজেপিতে শামিল হয়েছিলেন

সিমারিয়া বিধানসভা থেকে গণেশ গনঝু, ডালটনগঞ্জ থেকে আলোক চৌরাসিয়া, চন্দনকেয়ারী থেকে অমর বাউরী,

সারঠ থেকে রনধীর সিংহ, হাটিয়া থেকে নবীন জায়সওয়াল, বরকট্টা থেকে জানকী যাদব বিজেপিতে শামিল হন।

এঁদের মধ্যে অমর বাউরী ও রনধীর সিংহ মন্ত্রী পদ পান। জায়সওয়াল বাদে অন্যান্যরা বিভিন্ন বোর্ডর সভাপতির পদে আসীন হন।

বিধানসভা অধ্যক্ষের আজকের রায়ের পর ঝাবিমো নিজেদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

পার্টির পক্ষ থেকে এই রায়কে আধারহীন এবং বেকার বলা হয়েছে।

পার্টির বক্তব্য হল যে দল লিট্টীপাড়া এবং লোহারদাগা উপ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

জেলা পরিষদ এবং নগর নিগমের নির্বাচনেও পার্টি একক ভাবে লড়েছে।

তাহলে বিজেপিতে পার্টির মিলে যাবার কথা বিধানসভা অধ্যক্ষ কিভাবে মেনে নিলেন।

নির্বাচন কমিশন এবং বিধানসভার পক্ষ থেকে ঝাড়খন্ড বিকাস মোর্চার নামে আলাদা করে চিঠি দেওয়া হয়।

তাহলে যেই ৬ জন বিধায়ক ঝাবিমোকে বিজেপিতে মার্জ করার কথা বলছেন, তাঁদের কথা স্পীকার কিভাবে মেনে নিলেন।

এই বিধায়করা মিথ্যে কথা বলছেন। আগামী নির্বাচনে রাজ্যের জনতা তাঁদের সঠিক জবাব দেবেন।

বিজেপি ষড়যন্ত্র করে ঝাবিমোর এই ৬ জন বিধায়ককে কিনে নিয়েছে ও তাঁদের দায়িত্বপূর্ণ পদ দিয়েছে।

বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যা করেছে ও জনগনের মতকে কেনা বেচা করেছে।

এই ঘটনার নিন্দা কংগ্রেসও করেছে। পার্টির রাজ্য সভাপতি বলেছেন যে এতে দল বদল এবং সুযোগসন্ধানী রাজনীতি স্পষ্ট হচ্ছে।

Author: Bangla R khabar

Loading...