• খবর পেয়ে পুলিশ ওঝাকে আটক করেছে

  • জঙ্গল থেকে ফিরে চার শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে

  • দুই শিশু এখনও মালদা মেডিকাল হাসপাতালে ভর্তি

  • বিজ্ঞান মঞ্চের লোকেরা গ্রামবাসীদের বোঝাতে কাজে লেগেছেন

প্রতিনিধি

মালদা: ভূতের সন্ত্রাসে আক্রান্ত মানুষকে জেলা প্রশাসন আস্থা দিতে পারেনি। অন্যদিকে ওঝার

কাজে দুই শিশু মারা যাওয়ার পরে পুলিশি হস্তক্ষেপ হয়েছে। এই দুই বাচ্চার মৃত্যুর পরে

গ্রামবাসীরা গোপনে তাদের মরদেহ মালদা মেডিকেল কলেজ থেকে নিয়ে গিয়ে একটি কবর

দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার খবর পুলিশে পৌঁছলে ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের সময় এই উভয়

দেহই সমাধি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। দুজনেরই লাশ ময়না তদন্তের জন্য মালদা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।পুলিশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, আবদুল রফিক নামে একজন ওঝাকে এ ব্যাপারে আটক করা

হয়েছে। গাজোল থানা পুলিশ সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের জন্য আদালতে আবেদন করেছে।

ঘটনাটি গাজোলের আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমতলী গ্রামের। সেখানে তথ্য পাওয়ার পরে

বিজ্ঞান ফোরামের লোকজনও প্রশাসনের সাথে পৌঁছে গেছেন। গ্রামে ভূতের সন্ত্রাস রয়েছে এমন

তথ্য শুনে সকলেই হতবাক। বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুনীল সরকার বলেছিলেন

যে আজও মানুষ এ জাতীয় বিষয়ে বিশ্বাস রাখে, এটি উদ্বেগের বিষয়। মোট চারটি শিশু হঠাৎ

অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে দুটি এখনও মেডিকেল কলেজে ভর্তি রয়েছে।

ভূতের সন্ত্রাসে সারা রাত খোলা আকাশে পড়ে ছিলো শিশুরা

প্রাপ্ত তথ্য মতে, পাশের জঙ্গল থেকে ফিরে এসে চার শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই অবস্থায় তাকে

গ্রামের ওঝায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওঝা রাতারাতি প্রচণ্ড শীতে বাচ্চাদের নিয়ে ভূতের কাজ

করেছিল। এটি বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকে আরও খারাপ করেছে। মারা যাওয়া শিশুরা হলেন শফিকুল

আলম (৫ বছর) এবং ফিরোজুর রহমান (৩ বছর)। শাবানুর খাতুন (তিন বছর) এবং

কোহিনূর খাতুন (6 বছর) এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে এটি

বোঝা যাচ্ছে যে বনে খেলতে গিয়ে কোনও বন্য ফল খাওয়ার ফলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের অবনতি

ঘটে। এ বিষয়ে জেলা এসপি অলোক রাজোরিয়া জানান, অভিযুক্ত ওঝাকে তার বাসা থেকে

গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনী পদক্ষেপের পাশাপাশি মানুষের মন থেকে ভূতের ভয় দূর করার

চেষ্টাও চলছে


 

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.