My title page contents Press "Enter" to skip to content

নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিপক্ষের যা কিছূ সব কিছুই কি করে সঠিক




রাস বিহারী

নয়া দিল্লীঃ নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিপক্ষ দলগুলি যা কিছু হচ্ছে সব সঠিক বলে জাহির করা হচ্ছে।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শোতে কোলকাতায় যে ধরনের মারপিট এবং হানাহানির খবর পাওয়া গেল এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙ্গে দেওয়া নিয়ে সেখানকার রাজনীতিতে উথালপাথাল হল, সেটা অভূতপূর্ব।

লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বলের ৮০০ কোম্পানিকে নিয়োগ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং ৭০০ এর বেশি কেন্দ্রীয় বল থাকা সত্বেও সেখানে ক্রমাগত হানাহানি হচ্ছে।

একে অন্যের এলাকায় বোমাবাজী করছে, রাজনৈতিক দলগুলির অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বিরোধী দলগুলির কার্যকর্তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনাকে মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে প্রচারের সময় ১৯ ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে।

কোলকাতায় অমিত শাহের ওপরে হামলা চালানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপর হামলা করেছেন।

এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, মোদির বিরুদ্ধে কংগ্রেস, মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, তেলেগু দেশম, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, বহুজন সমাজ পার্টি, সমাজবাদী পার্টি সমেত অন্য দল গুলি মমতা ব্যানার্জিকে সমর্থন করে বিজেপির ওপর হামলা করছে।

পশ্চিমবঙ্গে এখন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যেই প্রধানতঃ লড়াই হচ্ছে।

আর নিজেদের অস্তিত্ব হারানোর ভয়ে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি বিজেপির ওপর অভিযোগ আনছে।

এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার সবথেকে বেশী। সেখানে হানাহানির ঘটনাও সব থেকে বেশী।

দফায় এখানে হানাহানি হয়েছে। এর শিকার সবথেকে বেশী হয়েছেন বিজেপির নেতা এবং কার্যকর্তারা।

কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির কার্যকর্তাদের কমবেশী পেটানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি বেজেপির দিকে তীর ছূঁড়ছে।

কংগ্রেস এবং বাম দলের মধ্যে রফা না হওয়ায় কয়েকটি জায়গায় চৌতরফা মোকাবেলা হয়েছে।

কিন্তু আসল লড়াই মমতা এবং মোদির মধ্যেই হচ্ছে।

লোকসভা নির্বাচনে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে বারবার এই কথা বলতে শোনা যাচ্ছে যে তাদের ভোট বিজেপির দিকে যাচ্ছে না।

নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সবাই একজোট কিসের ভয়ে




কংগ্রেস এবং মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির স্থানীয় কার্যকর্তারা নিজেদের প্রার্থীর জয়ের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকর্তাদের সাথে ক্রমাগত লড়াই করে চলেছেন, কিন্তু তাদের কোনো বড় নেতাই এই নিয়ে কোন কথা বলছেন না।

মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন যে মমতা এবং মোদির মধ্যে একটা চুক্তি আছে।

এই নিয়ে বাম দলের ক্যাডারদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারা বুঝতে পারছে যে তাদের ভোট বিজেপির দিকে চলে যাচ্ছে।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে একটি রৈলীতে মমতা ব্যানার্জির ওপর আঙ্গুল তুললে তাঁকে বাচ্চা বলা হয় এরপর কংগ্রেসের অন্য কোন নেতা মমতা ব্যানার্জির ওপর কোন টিপ্পনী করেন নি।

এটাও মনে রাখতে হবে যে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সিবিআই এর গ্রেফতারীর হাত থেকে বাঁচাবার জন্য যখন মমতা ব্যানার্জি ধরনায় বসেছিলেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতারা সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করেছিলেন।

পার্টির বড় নেতাদের পক্ষ থেকে সেরকমভাবে সমর্থন না পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতারা হতাশায় ভুগছেন।

কংগ্রেসের নেতারা মনে করছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবার পর তাঁদের মমতা ব্যানার্জিকে দরকার হতে পারে।

সেইজন্য তাঁদের কার্যকর্তাদের ওপর হামলা হলেও কংগ্রেসের নেতারা মমতা ব্যানার্জিকে সমর্থন করছেন।

মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি রাজ্যে সুষ্ঠ নির্বাচনের দাবি করছেন, কিন্তু মমতা সরকারের ওপর অভিযোগ করার চেয়ে বিজেপির দিকে তীর ছুঁড়ছেন।

মমতা ব্যানার্জি, তেজস্বী যাদব, চন্দ্রবাবু নায়ডু, অখিলেশ যাদব, ওমর আব্দুল্লাহ আগে থেকেই মমতার সাথে রয়েছেন।

মোদির বিরোধিতাই তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য। সেই কারণেই তাঁরা মমতার রাজ্যে অত্যাচার দেখতে পাচ্ছেন না।

এটাও সত্যি যে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জি বাম দলগুলোকে একসাথে আসার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

কংগ্রেসের সাথেও মমতা ব্যানার্জিকে এক মঞ্চে দেখা গেছে।

তাই নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলি এখন সবকিছু সঠিক বলে চালিয়ে যেতে চাইছে।




Spread the love
More from নেতাMore posts in নেতা »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Mission News Theme by Compete Themes.