My title page contents Press "Enter" to skip to content

মন্দা কাটিয়ে জামাই ষষ্ঠীতে মুর্শিদাবাদে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়




মুর্শিদাবাদ: মন্দা কাটিয়ে শনিবার জামাই ষষ্ঠী উপলক্ষ্যে পর্যটকদের ভীড়ে উপচে পড়ে নবাব নগরী মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি চত্বর।

ফলে রৌদ্র উজ্জ্বল ঝলমলে দিনের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে খুশির হাওয়া লক্ষ করা যাচ্ছে।

একই ভাবে খুশি পর্যটক মহলও।

এদিকে বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সুদৃঢ় করতে বিশেষ পুলিশ কড়া নজরদারি বহাল রেখেছে।

এই ব্যাপারে লালবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বরুণ বৈদ্য বলেন,” বাংলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল আমাদের এই মুর্শিদাবাদ।

আর সেখানে অবস্থিত হাজারদুয়ারির আকর্ষনে দেশ বিদেশের পর্যটকেরা এখানে এসে এই দিনটিতে ভিড় জমান।

সে কথা মাথায় রেখে মন্দা কাটিয়ে আবার থেকে হোটেল গুলির পরিবেশ যেমন সুন্দর করা হয়েছে,

পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান গুলির কড়া নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ঢেলে সাজাতে মোতায়েন রাখা হয়েছে উপযুক্ত পরিমান পুলিশ দিয়ে ।

এমনকি মহিলা,সাদা পোশাকের পুলিশও থাকছে পর্যটকদের মধ্যেই ।”

সচরাচর গরমের পারদ বাড়তে থাকার সঙ্গে জুনের দিকে তা চরমে পৌঁছায় দক্ষিণ বঙ্গের এই জেলা মুর্শিদাবাদে।

তাই কয়েকদিন ধরেই সেই ভাবে পর্যটকদের ঢল নামে নি পর্যটনের শহর ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদে।

ফলে পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে হতাশাও লক্ষ করা যাচ্ছিল সম্প্রতি।

তবে জামাই ষষ্ঠীতে এইদিনের উপচে পড়া ভিড়ে হাজারদুয়ারি সহ বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকার গাইডরাও আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।

কারণ এদিনের পর থেকে পর্যটন ব্যবসায় খরা কাটতে শুরু করবে বলেই জানাচ্ছেন এলাকার হোটেল ব্যাবসায়ী থেকে বিভিন্ন রকমের দোকানদারের।

মন্দা কাটিয়ে ভীড় দেখে দোকানদারদের মুখে ফুটেছে হাসি

এমন কি পরিবহণ ব্যাবসিকরাও।আর তাতেই তাদের সকলের মুখে ফুটছে চওড়া হাসি।

রৌদ্রজ্জ্বল ঝলমলে আকাশ আর মেঘ মুক্ত আকাশের টানেই সকাল সকাল পর্যটকদের আনাগোনায় জমে উঠছে নবাব নগরী।

তাই আবহাওয়া এমন চলতে থাকলে আগামী দিন গুলিতে পর্যটক আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে ।

স্থানীয় সিটি ব্যাবসায়ী সমিতি দ্বারা পরিচালিত হয় পর্যটন সহায়তা কেন্দ্রে ।

ওই কেন্দ্রের সম্পাদক শ্রী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য বলেন , “ ভোটের উত্তেজনার মাঝে বেশ কয়েকদিন ধরে জমে উঠেনি হাজারদুয়ারি চত্বর।

কেমন যেন ভাটা দেখা দিচ্ছিল পর্যটকদের ভিড়ের আনাগোনায়।

তবে সব বাধা কাটিয়ে এদিনের উপচে পড়ে শহরে পর্যটকদের ভীড়।আমরা পর্যটকদের সুবিদার্থে বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীও নিয়োগ করেছি।

তারাই পর্যটকদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দান করছে”।

তবে হাজারদুয়ারি কে ঘিরে তরুণ শ্রেণীর পর্যটকের উৎসাহ কোন কারনে কমে আসার

ফলেই এই কদিন ভীড় লক্ষ করা যায়নি বলেও অনেকেই মনে করেন ।

দেশের মিউজিয়াম গুলির অন্যতম হাজারদুয়ারি, তার পরেও কেন পর্যটকদের উৎসাহ কমে আসছে

জানতে চাওয়া হলে এলাকার সাংস্কৃতিক সংগঠক শুভাশিস পাল রাজু বলেন , “ পর্যটকরা ইতিহাসের টানে

এখানে আসেন ,সারাদিন তারা হাজারদুয়ারি দর্শন করে ফিরে যান ।

অথচ শুধু হাজারদুয়ারি নয়, জেলা জুড়ে ঐতিহাসিক সম্পদে ভরপুর এই জেলা ।

কিন্তু পর্যটকদের বেশীর ভাগ অংশ সেদিকে পা মাড়ান না ।

তার অন্যতম কারন অনেকেই জেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একাধিক আকর্ষণীয় স্থান গুলি সম্বন্ধে

অবগত নয়।তাই অনেক সময় পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ হারিয়ে যায় মুর্শিদাবাদের”।

এরই মাঝে কলকাতার বেলেঘাটা ফুলবাগান থেকে আসা এক পর্যটক পরিবারের কর্তা রঞ্জন বাগচী

তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলনে,”বহু কাল আগে বাবার সাথে এই শহরে এসেছি,

আবার সুযোগ পেয়ে জামাই ষষ্ঠী তে এলাম এত সুন্দর ভাবে গোটা শহর টাকে একটা আস্ত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে

সাজিয়ে তুলেছে প্রশাসন যে অনেক জায়গা দেখে অতীত স্মৃতির সাথে মিলিয়ে চেনায় যাচ্ছেনা এখন”।



Spread the love
More from পশ্চিমবঙ্গMore posts in পশ্চিমবঙ্গ »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.