গর্ভের শিশুর অপারেশন করে আবার গর্ভে রাখলেন ব্রিটিশ সার্জনরা

গর্ভের শিশুর অপারেশন করে আবার গর্ভে রাখলেন ব্রিটিশ সার্জনরা
Spread the love
  • সারা পৃথিবীতে এই অপারেশনের পরে পড়েছে আলোড়ন

  • মেডিকল পরীক্ষায় ধরা পড়েছিলো শিশুর রোগ

  • গর্ভের শিশুর মেরুদন্ড ঠিক ভাবে তৈরি হয়নি

  • জন্মগ্রহনের পরে ঠিক ভাবে হাঁটতে পারতো না

প্রতিনিধি

নয়া দিল্লি: গর্ভের শিশুরে গর্ভ থেকে বের করে অপারেশন করলেন ব্রিটিশ সার্জনরা।

এই অপারেশন ঠিক হবার পরে সারা পৃথিবীতে হইচই পড়ে গেছে।

আসলে অপারেশন করার পরে শিশুকে আবার ঠিক ভাবে গর্ভে রাখতে পেরে প্রশংসা পেয়েছেন ডাক্তাররা।

সাম্প্রতিক সময়ে এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে ধরা হচ্ছে।

ব্রিটেনের এসেক্সের বাসিন্দা বেথন সিম্পসন নিজের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন।

সেখানেই ডাক্তার দেখতে পান যে শিশুর মাথা সঠিক জায়গায় নেই।

আরও পরীক্ষা করার পরে জানতে পারা যায় যে আসলে গর্ভের শিশুর মেরুদন্ড ঠিক ভাবে তৈরি হয় নি।

এটি একটি বিরল রোগ, যাকে স্পাইডা বাইফিডা বলা হয়।

ডাক্তাররা সব পরীক্ষা করার পরে বুঝতে পারেন যে এই শিশুর জন্ম হলে সে নিজের মেরুদন্ডের রোগের জন্য ঠিক ভাবে হাঁটতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিটি বেথানকে জানানো হয়েছিল। তারপর, তার সম্মতি দিয়ে, তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে ডাক্তার বেথান এবং স্বামীকে তিনটি বিকল্প দেন।

ডাক্তাররা বলেছিলেন যে সবচেয়ে সহজ উপায় গর্ভকে নষ্ট করে দেওয়া, দ্বিতীয়টি এটি এই ভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয়টি এই ভ্রূণকে বাইরে নিয়ে এসে অপারেশন করা।

পিতা মাতা পারস্পরিক পরামর্শ পরে তৃতীয় বিকল্পের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ডাক্তাররা স্বীকার করে যে যেকোন পিতামাতার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি সাহসী পদক্ষেপ ছিল কারণ এটি অনেক ধরণের আশংকা জড়িয়ে থাকে।

এই সিদ্ধান্তের পরে ডাক্তাররা আরও উত্সাহিত হন।

পূরো ব্যাপারটা আবার থেকে খতিয়ে দেখা হয় এবং পূরো অপারেশনের প্রস্তুতি নেবার সাথে সাথে কি সব চ্যালেন্জ আসতে পারে, তারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়।যাতে কোন অঘটন না ঘটে।

এর পর ডাক্তাররা ভ্রূণের অপারেশন করেন।

এই অপারেশনের মাধ্যমে তাঁর মেরুদন্ড ঠিক করে দেওয়া হয়।

গর্ভের শিশুকে আবার গর্ভে রাখা সহজ কাজ ছিলো না

অপারেশন হয়ে যাবার পরে শিশুকে ভাল ভাবে মাঁয়ের গর্ভ রাখার ব্যাপারটিও সাধারণ ছিলো না।

তবে ডাক্তাররা এই কাজটি সঠিক ভাবে করে ফেলতে পারেন।

এই ধরনের অপারেশন ব্রিটেনের চতুর্থ।

অপারেশন শেষে এখন ডাক্তাররা বেথান ও তার সন্তানের পরীক্ষা করে দেখেন।

উভয়কেই নিখুঁত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই অপারেশনের পরে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মেরুদণ্ডের সমস্যা থাকবে না, যার কারণে তার হাঁটতে কষ্ট হত।

চিকিৎসকদের মতে, বেথন আগামী মাসে এপ্রিল মাসে মা হতে যাচ্ছেন।

যাইহোক, অপারেশন পরে, ডাক্তার নিয়মিত তার ওপর নজর রেখে চলেছেন।

Loading...