নির্বাচনে যাবে বিএনপি জোট, তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি

Bangladesh

হাসিনার আশা, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে

রফিকুল ইসলাম সবুজ
ঢাকা – একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা করে ভোট এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছে

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’।

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসা এই জোট বলছে,

আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তাদের ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সংসদের বাইরে থাকা এই জোট এবারও নির্বাচনে অংশ নেবে কি না তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জোটের এই সিদ্ধান্ত জানান

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সরকারের লক্ষ্য ঃ শেখ হাসিনা

সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে।

এতে দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার সকালে

গণভবনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে এলে এই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

আমি আশা করব অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও

নির্বাচনে আসবে। কারণ, একটা রাজনৈতিক দল নির্বাচন না এলে সেই দল শক্তিশালী হয় না।

এতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে।”

২৩ ডিসেম্বর হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন

২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছে,

সেখানে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা এবং ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থি প্রত্যাহারের সময় রাখা হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পূর্ণ করতে হবে।

দুর্নীতিরা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত  বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পার্টি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কিনা

তা নিয়ে সন্দেহ ছিল সাধারন মানুষের মধ্যে।

কারন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের জোট।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের লিখিত বিবৃতি পড়ে শুনিয়ে বলেন,

“নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন।

কিন্তু এরকম ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গ হিসেবে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তবে ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি থেকে পিছিয়ে আসছে না জানিয়ে ফখরুল বলেন,

“আমরা বর্তমান তফসিল বাতিল করে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি করছি।

সেই ক্ষেত্রেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালেই নির্বাচন করা সম্ভব হবে।”

ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলো অভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করবে কিনা জানতে

চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পরে জানাব।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপির মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, জেএসডির আসম আবদুর রব,

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু,

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ,

গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি  জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ঐক্যফ্রন্টের দাবী ছিল সাত দফায় বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার।

মুখে ‘দাবি থেকে না সরার’ কথা বললেও বর্তমান সংসদের মেয়াদকালে

ভোট আয়োজনে সম্মতি দিয়ে মূল দাবি থেকে পিছু হটলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,

রাজনৈতিক জোটগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের তারিখ পিছিয়ে দিলে তাতে তাঁর দল আপত্তি করবে না।

Please follow and like us:

Author: Bangla R khabar

Loading...