Press "Enter" to skip to content

বিডিআর বিদ্রোহ কান্ডে ১৩৯ জনকে দেয়া মৃত্যুদন্ডের আদেশ বহাল




  • আঞ্চলিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের ফাঁসির রায়

  • মামলার রায় সব মিলে ২৯ হাজার ৫৯ পাতায় দেওয়া হয়েছে

  • এই বিদ্রোহে ৫৯ জন সেনা অফিসার সমেত ৭৪ জন মারা গিয়েছিলো

প্রতিবেদক

ঢাকাঃ বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় ১৩৯ জনকে মৃত্যূদন্ড দিলো আদালত। ২০০৯ সালে ২৫

ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এই

ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনকে দেয়া মৃত্যুদন্ডের আদেশ

বহাল রেখে বুধবার ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত। সংক্ষিপ্ত

রায়ে আদালত বিডিআর হত্যা মামলার রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। ৫৭ সেনা

অফিসারসহ ৭৪ ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড কোনো অবস্থায়ই কাম্য নয় উল্লেখ করে আদালত তার

পর্যবেক্ষণে বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্ত, সামাজিক, রাজনৈতিক

ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিবেচনায় পিলখানা হত্যা মামলাটি রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি

ফৌজদারি মামলা।প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায়

সংবিধান সম্মতভাবে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মামলাটির

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এ মামলায় প্রদত্ত রায়কে প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা ও

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্মোহ দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ এটি।

বিডিআর বিদ্রোহ ঢাকার পিলখানা মুখ্য দফ্তরে চালান হয়

বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত

থাকার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮শ ৪৬কে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই

মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন আদালত। এদের একজন ছাড়া সবাই

তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬১ জনকে। সর্বোচ্চ ১০

বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না

হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। সাজা হয় মোট ৫৬৮ জনের। ঘটনার পর পূর্বের

নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটির নামকরণ করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই রায়

বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, সম্ভব আঞ্চলিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসামির ফাঁসির

আদেশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


 

Spread the love

Be First to Comment

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.