বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরে আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান না

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরে আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান না
Spread the love
  • নতূন প্রজন্মের জন্য রাস্তা দিতে হবে 

  • এই বার শুধু উন্নয়নের কাজ করবেন 

  • রোহিংগ্য়া শরণার্থী দেশের বড় সমস্যা

রফিকুল ইসলাম সবুজ

ঢাকাঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান মেয়াদ শেষে অর্থাৎ আগামী ৫ বছর পর আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান না। জার্মানির গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।

বর্তমানে শেখ হাসিনা জার্মান সফরে রয়েছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় রয়েছেন শেখ হাসিনা।

এ নিয়ে তিনি চার বার দেশের প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার জার্মানীর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা  সাক্ষাৎকারের উদ্বৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

তাতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার আমি টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছি এবং এর আগেও আমি প্রধানমন্ত্রী (১৯৯৬-২০০১) ছিলাম।

সেদিক থেকে এটি আমার চতুর্থ মেয়াদ।

আমি আরো অধিক সময় ধরে আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে চাই না।

আমি মনে করি যে প্রত্যেকেরই একটা পর্যায়ে গিয়ে থামা উচিত।

যাতে আমরা তরুণ প্রজন্মকে জায়গা করে দিতে পারি।’

পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক কোন সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর মেয়াদের বাকি সময় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখা হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান- এসবই হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা।

অবশ্যই, প্রতিটি মানুষ উন্নত জীবন চায়। আমরা তা নিশ্চিত করেছি।’

বাংলাদেশের এক দলীয় শাসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

করে তিনি বলেন, ‘এই মেয়াদে ৩শ’ আসনের মধ্যে ২৬০টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

সুতরাং, অন্যান্য দলও সংসদে রয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটা কিভাবে এক দলীয় শাসন হতে পারে?

গত সাধারণ নির্বাচনে
বিরোধীদলের খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি কোন বিশেষ দল জনগণের মন জয় করতে না পারে, তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে না পারে এবং ভোট না পায়, তাহলে এই দায়িত্ব কার?

প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের দুর্বলতা।’

রোহিঙ্গা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে জন্ম গ্রহণ করা হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশুর এবং বেকার যুবকের জন্য তাঁর দেশের একটি মধ্য-মেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটি দ্বীপ নির্ধারণ করেছি। সেখানে আমরা একটি ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র ও ঘর তৈরি করেছি।

আমরা তাদেরকে সেখানে নিতে চাই এবং কাজ দিতে চাই যাতে তরুণ ও নারীরা কিছু একটা করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।’

ক্রমানুসারে সমস্যা মোকাবেলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মিয়ানমারের সঙ্গে ভাল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।

এক্ষেত্রে অতি জরুরি ছিল বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ চীন ও ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না।

আমরা চীন ও ভারতের সহযোগিতা নেয়ারও চেষ্টা করছি।

তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর চাপ বেড়েই চলেছে।’

Loading...