Press "Enter" to skip to content

চলতি মৌসুমে ইলিশ মাছ উৎপাদনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে যাবে বাংলাদেশে

  • সবার এক কথা কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

  • ঢাকার সব এলাকায় এই মাছের ব্যাবসা রমরমা

  • গবাদি পশুর আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠবে

  • করোনা কালের লকডাউনের লাভ হয়েছে এবার

আমিনুল হক

ঢাকাঃ চলতি মৌসুমে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা

হয়েছে। তবে ইলিশের উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিও তে দেখুন বাংলাদেশের ইলিশের হাল কি রকম

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিনিয়ত ইলিশের যে পরিমাণ আমদানি, তাতে করে সহজেই বলা চলে

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন অতিতের সকল রেকর্ড উৎরে যাবে। রাজধানী জুড়েই যেন

ইলিশের বাজার। রাস্তার পাশে বড় আকারের প্রতিটি ঝুড়ি ইলিশ ভর্তি। ছোট আকারের ঝুড়িতে

সাইজ অনুযায়ী সাজানো রূপালী ইলিশ। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় পথ আলো করা ইলিশের

হাট। সকাল-বিকাল বেচাকেনার ধুম। ফের সন্ধ্যায় শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ততো বেচাকেনার

বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। দু’কেজি ওজনের ইলিশ সর্বোচ্চ হাজার টাকা কেজি।

দেড়কেজি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি সাত-আটশো আর আধা কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ

বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকা দরে। সন্ধ্যায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ এক/দুই কেজি ইলিশ কিনে

বাড়ি ফিরছেন।

খিলগাঁওয়ের মাছ ব্যবসায়ী জয়নাল জানান, ইলিশের আমদানি প্রচুর। সেই সঙ্গে মিলছে বড় সাইজের ইলিশ।

দুদিন আগে আড়াই কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি করেছেন ২৮০০ টাকা।

রাত পোহালেই রাজধানীর আড়ৎগুলোতে যেন ইলিশের মেলা বসে যায়।

ভোর থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত পাইকারী বিক্রি চলে। সেখান থেকে খুচরো ব্যবসায়ীরা কিনে এনে রাজধানীর

বিভিন্ন এলাকার বাজার এবং রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে বিক্রি করে থাকেন।

এই ইলিশের জন্য চলতি মৌসুমে ঢাকায় এমন অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা অন্য ব্যবসা বন্ধ

করে সেখানে ইলিশ মাছের দোকান খুলে বসেন।

বাংলাদেশে এবারে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৫লাখ মেট্রিক টন।

মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা নিধন এবং অভয়রাণ্যে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার ফলে

প্রতি বছর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েই চলেছে। পৃথিবীতে ৮৫ শতাংশ ইলিশ

বাংলাদেশে উৎপাদন হয়ে থাকে। এবারের বড় আকারের সুস্বাদু ইলিশে বাজার ছয়লাপ।

বেচাকেনার ধুম লেগেই আছে। রাতের বেলাও খুচরো মাছ ব্যবসায়ীরা ফেরি করে পাড়া-মহল্লার

অলিগলিতে ইলিশ বিক্রি করে চলেছে।

চলতি মৌসুমে যেখানে সেখানে এখন ইলিশ মাছের বাজার

বাংলাদেশে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন করে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এতে কর্মসংস্থান হচ্ছে লাখো মানুষের। আর এই সফলতা এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। কেননা তিনিই উদ্যোগ নিলেন বলে আজ সহজভাবে উচ্চারণ করা যায়

ইলিশের বাড়ি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ মৎস্য ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তথা ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর

রহমান খবর অনলাইনকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মাত্র। এর কৃতিত্ব যদি দিতে তাহলে

বলবো-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কারণ, তিনিই প্রথম ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ে যেখানে যা

করণীয় সব কিছুর উদ্যোগ নিলেন। আর সেই উদ্যোগে হাত লাগাম আমরা। অর্থাৎ প্রশাসন।

ড. আনিসুর রহমান আরও জানালেন, প্রতি বছরই বড়ো আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

আগামী দিনে বড়ো ইলিশের পরিমাণ আরও বাড়বে। বর্তমানে ঢাকার বাজারে ৬০০ গ্রাম থেকে

শুরু করে আড়াই কেজি ওজনের ইলিশও মিলছে।

দেশের মন্ত্রী রেজাউল করিমও এই নিয়ে খুব খুশি

মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও বেশ উৎফুল্ল।

তার দু’টো কারণ জানালেন তিনি। একটি হচ্ছে, স্বাদু জলের মাছ উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ এবং দ্বিতীয়ত, ইলিশ উৎপাদনে তো বাংলাদেশ মহারাজা।

তাঁর দফতরে কথা বলার সময় আরও একটি বার্তা দিলেন মন্ত্রী।

জানালেন, গবাদি পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন সক্ষমতা অর্জন করেছে। তাতে করে গবাদি পশুর আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। ড. আনিসুর রহমান জানালেন, মা ইলিশ রক্ষা,

জাটকা এবং সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ এবং জেলেদের পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার ইলিশ

উৎপাদন বহু গুণ বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছেন।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from আবহাওয়াMore posts in আবহাওয়া »
More from কাজMore posts in কাজ »
More from কৃষিMore posts in কৃষি »
More from খাদ্যMore posts in খাদ্য »

One Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!