প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, আগের কয়েকবার হয়েছে ঝামেলা

0 10
ময়নাগুড়ি (উত্তরবঙ্গ) (এজেন্সী) –  মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগ উঠলো উত্তরবঙ্গের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে| ইতিমধ্যেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে কলকাতায়| তাঁর সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে|  অভিযোগ আগেও ছিল| দু একবার বিষয়টি নিযে আলোড়নও হয়েছে| কিন্তু শেষ পর্য্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওযা হয়নি|
ফলে অভ্যাসটি থেকেই গিয়েছে| আরো একবার যা প্রমাণিত হলো| অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে ময়নাগুড়ির সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছিলেন|
ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিযে তদন্ত শুরু হয়েছে| উচ্চমাধ্যমিকের সমস্ত দাযিত্ব থেকে অব্যাহতি দেওযা হয়েছে ওই প্রধান শিক্ষককে|
২৩ বছর আগে ময়নাগুড়ির সুভাষনগর হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন হরিদযাল রায়| কিছুদিনের মধ্যেই প্রধান শিক্ষকের পদ লাভ করেন তিনি|
অভিযোগ, সে সময় সুভাষনগর হাইস্কুলের অবস্থা খুব ভালো ছিল না| এলাকায় স্কুলটির বিশেষ নামডাকও ছিল না| কিন্তু হরিদযাল কাজে যোগ দেওযার পর থেকে ক্রমশ স্কুলটি নাম করতে শুরু করে|
মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় নাম আসতে শুরু করে ছাত্রদের| অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি অসত্ উপাযে ছাত্রদের কাছে প্রশ্ন ফাঁস করে দিযে এমন সাফল্য পেতেন হরিদযাল?
 অভিযোগ, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় হরিদযালের প্রশ্ন ফাঁস করার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়| বিষয়টি নিযে বেশ কিছুদিন জলঘোলাও হয়|
অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল হরিদযালের| তিনি নিজেও তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের অংশ ছিলেন|
যদিও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওযার ঘটনা জানাজানি হওযার পর এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব হরিদযালের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব তৈরি করেছে|
নেতৃত্বের দাবি, দোষ প্রমাণ হলে হরিদযালের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওযা উচিত| বস্তুত, একই কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়|
তিনি জানিযেেন, রাজ্য সরকার হরিদযালকে শিক্ষারত্ন পুরস্কার দিয়েছিলো। অভিযোগ প্রমাণ হলে সেই সম্মানও কেড়ে নেওযা হবে|

অভিযোগ সম্পর্কে ডেকে পাঠানো হয়েছে হরিদয়ালকে

ইতিমধ্যেই হরিদযালকে কলকাতায় মাধ্যমিক বোর্ডের দফতর মধ্যশিক্ষা পর্ষদে ডেকে পাঠানো হয়েছে| সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে খবর|
শিক্ষাবিদরা অবশ্য অন্য প্রশ্ন তুলছেন| তাঁদের প্রশ্ন, একা হরিদযালকে শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে তো?
তাঁদের ধারণা, রাজ্য জুড়ে এমন অনেক হরিদযাল ছড়িযে আছেন|
অর্থ এবং সম্মানের লোভে যাঁরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিযে চলেছেন দিনের পর দিন|
কিন্তু রাজনৈতিক সংস্রব থাকার কারণে তাঁদের দোষ ধরা পড়ে না|
হরিদযাল হাতেনাতে ধরা না পড়লে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওযা হতো না বলেই তাঁদের সন্দেহ| অন্যদিকে হরিদযাল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন| তাঁর দাবি, তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার|
ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওযা নতুন কোনো ঘটনা নয়|
প্রতি বছরই এ ধরনের অভিযোগ সেখানে ওঠে|
কিছুদিন আগে এ নিযে বহু সমালোচনাও হয়েছিলো দেশজুড়ে| পশ্চিমবঙ্গেও এ ধরনের অভিযোগ বেশ কযেবার উঠেছে|
প্রশ্ন ফাঁস হযে যাওযার কারণে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কোনো কোনো
বিষযে দু’বার করে পরীক্ষা নেওযার ঘটনাও ঘটেছে অতীতে|
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এবং সিস্টেমের ভেতরের ভূত তাড়াতে না পারলে এ ঘটনা চলতেই থাকবে|

You might also like More from author

Comments

Loading...