টাকার জন্য বিক্রী করতে হয়েছে কিডনী, এই গাঁয়ের সব যুবকের একটা কিডনী

বিক্রী
কাঠমান্ডু- আমরা সবাই জানি যে আমাদের শরীরে কিডনীর কি প্রয়োজন।
আগে এই কথাও শোনা গেছে যে কোনো দামি জিনিষ কেনার জন্য মানূষ
নিজের কিডনী বিক্রী করে দিয়েছে।
তবে এই কথা হয়তো কখনও শোনেননি যে এখানের একটি গাঁয়ের সব
মানূষেরই একটি কিডনী।
শরীরে আরেকটি কিডনী তারা দারিদ্র দূর করতে বিক্রী করতে বাধ্য হয়েছেন।
বিরাট ভূমিকম্পের পর এই গাঁ প্রায় প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।

কিডনী বিক্রী করে পেয়েছেন এক লাখ টাকা

কাঠমান্ডু থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে আছে এই গ্রাম। নাম হচ্ছে হোকসে।
হোকসে গ্রামকে এখন লোকে কিডনী ভ্যালি বলেও জানে।
যারা কিডনী বিক্রী করেছেন, তারা কিডনী বিক্রীর টাকা দিয়ে নিজেদের বাড়ী আবার করে তৈরি করেছেন।
ওখানকার লোকেরা জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পের পরে যখন প্রচুর দারিদ্রতার ভেতরে সবাই ছিলেন।
তখন প্রথম বার একজন এসে গাঁয়ের একজনকে ভূলিয়ে ভালিয়ে কিডনী বিক্রী করতে নিয়ে যায়।
ভাল টাকা পাবার আশার সে রাজি হয়ে যায়. তাকে বোঝানো হয়েছিলো যে একটা
কিডনী দিয়ে দিলে কিছূই হয় না কেননা সেই কিডনী শরীরের ভেতরে কিছূ দিনের
ভেতর আবার তৈরি হয়ে যায়।
এই কথায় রাজি হবার পর যে গেছিলে, সে এক লাখ টাকা নিয়ে ফিরে এসেছিলে। তার পর থেকেই এখানের যূবকদের টাকা রোজগার করার একটি রাস্তা, সেটি হল কিডনী বিক্রী করে দেওয়া। গাঁয়ের সব যুবকের এখন একটা কিডনী।
এদের সবাইকে ভারতে আনা হয়। দক্ষিণ ভারতের হাঁসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। কিডনী দেওয়ার পরে সবাই এক-এক লাখ টাকা পান। রোজগারের আর কোন পথ খোলা না থাকায় গ্রামের যূবকেরা এই পথই বেছে নিয়েছেন।
এই খবর বাইরে আসার পর হইচই পড়ে গেছে। ওনেকেই ওখানে গিয়ে খবরের সত্যতা জাঁচাই করতে চেয়েছেন। সবার গাঁয়ের অবস্থা দেখে হতবাক।
তবে গ্রামের লোকেদের কথাও ঠিক। তাদের হিসাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কোনো উপায় করার রাস্থা ধরে এগিয়ে গেছেন তারা।
গ্রাম টা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবার পর তাদের কাছে আর কোন পথ খোলা ছিলো না। তাই নিজের এবং নিজের পরিবারকে বাঁচাবার জন্য এই পথে এগিয়ে গেছেন তারা।
আর যাই হোক না কোন এই পথে গিয়ে তারা নিজের বাড়ির দারিদ্রতা কম করতে তো পেরেছেন, সেটাই যথেষ্ট।
Please follow and like us:
Loading...