ঢাকায় অগ্নিকান্ডে নিহত ৮১

dhaka fire
Spread the love
  • হতাহতদের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রফিকুল  ইসলাম সবুজ

ঢাকা- পুরান ঢাকার চকবাজারে চার তলা একটি বাড়ি সহ কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার ১০ ঘণ্টা পর তা পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

সকালে হেলিকপ্টারে করে উপর থেকে জন ছেটানোর পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আসে।

চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ওই ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

ভোরের দিকেও দগ্ধ অবস্থায় লোকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ বলেন,

কিভাবে এই আগুন লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই সড়কে ভবনগুলো ঘেঁষাঘেষি করে তৈরি করায় আগুন নেভানোর কাজ করতে

বেগ পেতে হয় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীদের।

পাশাপাশি ওই এলাকার দোকান ও গুদামগুলোতে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আনাস হোটেলের কর্মচারী সাইদুর রহমান ঘটনার সময় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ওই বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়।

পরে মোবাইল ফোনের বাতি জ্বালিয়ে তিনি কোনোক্রমে হোটেল থেকে বের হন।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর সবাই দিগ্বদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে।

এর মধ্যে আগুনে দগ্ধ হয়ে অনেকে রাস্তাতেই মারা যায়।

দাহ্য পদার্থ থাকায় ছড়িয়েছে আগুন

শরিফ নামে একজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আগুন যেভাবেই লাগুক,

দোতলার গুদামে দাহ্য পদার্থ থাকায় রাস্তার দুই দিকের ভবনে তা ছড়িয়েছে।”

অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে মোট পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন বহু মানুষ।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

এর মধ্যে বার্ন ইউনিটে আছেন ৯ জন, তার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি

গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এই তথ্য জানান।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘নিহতদের পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং আগুনে আহতদের

যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারপ্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং সামর্থ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

নয় বছর আগে পুরান ঢাকার নিমতলীতেও অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাসায়নিকের গুদামের কারণে।

তাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে রাজধানীর পুরান ঢাকায় কোনও ধরনের দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যালের গোডাউন থাকতে দেওয়া হবে না

বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, ‘এসব গোডাউন উচ্ছেদের জন্য কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুন লাগার ঘটনাস্থল

পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

Author: Bangla R khabar

Loading...