বেওযারিশ একপাল কুকুর ধরতে ড্রোন“ক্যামেরা, দূরবীন নিযে মাঠে পুলিশ

0 28
সীতাপুর   (এজেন্সী) – কুকুর খুঁডতে কাজে লাগানো হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা এবং দুরবীন হাতে পুলিস বাহিনীকে।
হিংস্র কুকুর নিয়ে ঝামেল বাড়ার পর খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে চিন্তা প্রকাশ করার পরেই অফিসারদের টনক নড়েছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি জেলায় গত এক সপ্তাহে অন্তত ছয়টি শিশু বেওযারিশ হিংস্র কুকুরের কামড়ে মারা যাওয়ার পর সেগুলোকে ধরতে নজিরবিহীন পুলিশি তত্পরতা শুরু হয়েছে|
পুলিশ বলছে, গত নভেম্বর থেকে সীতাপুর জেলায় একদল হিংস্র কুকুর ১২টি শিশু“কিশোরকে মেরে ফেলেছে|
ওই হিংস্র কুকুর দলটিকে ধরতে ড্রোন ক্যামেরা, নাইট ভিশন বাইনোকুলার নিযে মাঠে নেমেছে ১৮টি বিশেষ দল|
পুলিশ জানিয়েছে, সীতাপুরের গ্রামে গ্রামে কুকুরের ভয়ে বাচ্চাদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হওযার জোগাড় হয়েছে|
বাবা মা একা কোনও শিশুকেই বাইরে যেতে দিচ্ছেন না|
শনিবার তালগাঁও এলাকার বছর দশেক বয়সের শিশু কাসিম মাঠে ছাগল চরাতে গিয়েছিলো।
সেই সমযে হামলা চালায় ওই হিংস্র কুকুরের দল| পরে তার মৃতু্য় হয়|
সেই দিনই বিহারীপুর গ্রামের কিশোর ইরফানের ওপরেও হামলা চালিয়েছিলো ওই কুকুরের দল|
এ নিযে মে মাসেই ছটি শিশু মারা গেছে সীতাপুর জেলায়|

কুকুর নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক

কুকুর
জেলার গ্রামে গ্রামে ভয়টা ছড়িযে পড়তে শুরু করেছিল নভেম্বর মাস আগেই|
কিন্তু মে মাসের শুরু থেকে কুকুর অন্তত ২০টি গ্রামে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে|
পয়লা মে খৈরাবাদ এলাকায় কুকুরের হামলায় পর পর তিনটি শিশু মারা যায় শুক্রবার মারা যায় আরও দুটি বাচ্চা|
শনিবার মারা যায় শিশু কাসিম|
নভেম্বর থেকে এ নিযে অন্তত ১২টি শিশু কিশোর ওই কুকুরদের দলটির হামলার শিকার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে|
যদিও স্থানীয় অনেক মানুষ বলছেন, নিহতের সংখ্যা ১৭| কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে আরও অনেকে|
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে বাবা মায়েরা শিশুদের একা বাড়ির বাইরে বেরতে দিচ্ছেন না|
এমন কি স্কুলগুলিতেও উপস্থিতির হার কমে গেছে অস্বাভাবিক হারে|
গ্রামে গ্রামে চলছে লাঠি নিযে পাহারা|
শেষমেশ অবশ্য প্রশাসনের টনক নড়েছে|
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ নিযে উষ্মা প্রকাশ করার পরে পুলিশ প্রশাসন তড়িঘড়ি কুকুর ধরতে মাঠে নেমেছে|
সীতাপুর জেলা যে পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে, সেই লক্ষ্ণৌ রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল সুজিত পাণ্ডে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, আমরা সোমবার থেকে ১৮টি দল কাজে নামিয়েছি|
প্রতিটি দলে পুলিশ যেমন আছে, তেমনই বনবিভাগ, ম্যাজিস্ট্রেট, বিপর‌্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও আছেন| রয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও|
শুধু বিশেষজ্ঞ আর বনবিভাগের কর্মীদের নিযে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ|
কুকুরদের গতিবিধি আর অবস্থান যাতে সঠিক ভাবে চিহ্নিত করা যায়, তার জন্য দুটি ড্রোন ক্যামেরা আর বেশ কযেটি নাইট ভিশন বাইনোকুলারও দেওযা হয়েছে কুকুর ধরার ওই দলগুলিকে|
মি. পান্ডে বলছিলেন, একদিনের মধ্যেই ওই হিংস্র কুকুরদের দলটির বেশীরভাগকেই ধরা গেছে বলেই মঙ্গলবার দুপুরে জানতে পেরেছি|
আরও গোটা তিন চারেক কুকুর সম্ভবত ঘুরে বেড়াচ্ছে|
হঠাত্ করে ওই কুকুরদের দলটির হিংস্র হয়ে ওঠার নানা কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে খাবারের অভাব একটা বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে|

কুকুর নিয়ে কেরলও হয়েছিলো ঝামেলা

 দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালাতেও রাস্তার কুকুরদের কামড় একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে গত কয়েক বছর ধরে|
এ নিযে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে|
আদালতে জমা দেওযা হিসাব অনুযাযী কেরালায় ২০১৫“১৬ সালে এক লক্ষ মানুষ রাস্তার কুকুরদের কামড় খেয়েছেন| মারা গেছেন অনেকে|
এই সমস্যা সমাধানে য়খন স্থানীয় মানুষরা রাস্তার কুকুরদের ধরে মেরে ফেলতে শুরু করেন, তখন আবার নানা পশু প্রেমী সংগঠন তার বিরোধিতায় নেমেছে|
তারা বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা অনুযাযী রাস্তার কুকুরদের মেরে না ফেলে তাদের নির্বীজ“করণ করার কথা|
এ সংক্রান্ত একটি মামলায় কেরালা হাইকোর্ট এর আগে মন্তব্য করেছিল যে মানুষের জীবনের দাম একটি রাস্তার কুকুরের প্রাণের দাম থেকে অনেক বেশী|

You might also like More from author

Comments

Loading...