কাশ্মিরে ৪ মাসে ৫৬ গেরিলা নিহত উচ্চশিক্ষিতরাও হাতে তুলে নিচ্ছেন বন্দুক

গেরিলা
Spread the love
জম্মূ (এজেন্সী) – জম্মু কাশ্মিরে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৬ গেরিলা নিহত হয়েছেন| গেরিলাদের নির্মূল করতে সেনাবাহিনী নয়াকৌশল নিয়েছে|
সেনাবাহিনীর একটি সূত্রে প্রকাশ, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সীমান্ত পেরিযে সন্ত্রাসীরা যাতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে সেজন্য সীমান্তে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে| একইসঙ্গে ‘অপারেশন অল আউট’কর্মসূচি চালু থাকার ফলে চার মাসে ৫৬ জন দেশি ও বিদেশি গেরিলা নিহত হয়েছে|
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে বিদেশি গেরিলাদের পাশাপাশি এখন স্থানীয় গেরিলারা রীতিমত সমস্যার কারণ হযে উঠেছে| গণমাধ্যমে প্রকাশ, স্থানীয় উচ্চশিক্ষিত তরুণরাও এখন হাতে বন্দুক তুলে নেযায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে|
এমবিএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করা তরুণরাও এখন হাতে বন্দুক তুলে নিচ্ছেন| চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৪৫ যুবক অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন| এদের মধ্যে ১২ জন সোপিযানের এবং ৩ জন কুলগামের|
কইভাবে অনন্তনাগে ৭, পুলওযামাতে ৪ এবং অবন্তিপোরাতে ৩ যুবক রয়েছেন| অন্যদিকে, উত্তর কাশ্মিরের হান্দওযাড়া, কূপওযাড়া, বান্দিপোরা, সোপোর ও শ্রীনগর থেকে বেশকিছু তরুণ নিরুদ্দেশ হয়েছেন| কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করার পর গেরিলা দলে যোগ দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী জুনাঈদ আশরাফ| তার বাবা মুহাম্মদ আশরাফ তেহরিক“ই“হুররিযাতের সভাপতি|
কূপওযাড়ার পিএইচডি গবেষক ২৬ বছর বয়সী মান্নান বাশীর ওযানীও গেরিলাদলে যোগ দিয়েছেন| তিনি এরআগে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালযে ছাত্র ছিলেন|
সেনাবাহিনীর এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি একটু কঠিন হচ্ছে| আমরা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়ছি, তাদের হত্যা করছি এবং আত্মসমর্পণে বাধ্য করছি| কিন্তু পরের দিন সামাজিক গণমাধ্যমে ফের কোনো নযা সন্ত্রাসী তৈরি হওযার প্রমাণ পাওযা যাচ্ছে| এই প্রক্রিযা বন্ধ হওযা উচিত|’
কর্মকর্তা সূত্রে প্রকাশ, নিহত কোনো স্থানীয় গেরিলা দাফন হওযার পরেই কমপক্ষে দুই জন গেরিলা সদস্য নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে| যা সত্যিই বড় উদ্বেগের বিষয়| ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হিজবূল মুজাহিদীনের শীর্ষ কমান্ডার বূরহান ওযানি নিহত হওযার পর কাশ্মির উপত্যাকায় গেরিলা তত্পরতা বন্ধ হযে যাবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন| কিন্তু সেই অনুমান যে ঠিক নয় তা সাম্প্রতিক ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়েছে|

কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অধ্যাপকসহ নিহত ৭

জম্মু“কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গেরিলাসহ ৭ জন নিহত হয়েছে| নিহতদের মধ্যে এক অধ্যাপকসহ ৫ গেরিলা ও দু’জন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন|
সংঘর্ষে সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য“সহ এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন| আহত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দ্রুত শ্রীনগরের বাদামীবাগ সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| রোববার দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিযান জেলায় বাডিগাম জৈনপোরায় ওই সংঘর্ষ হয়| জম্মু“কাশ্মির পুলিশের মহাপরিচালক এস পি বৈদ ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৫ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন| তিনি এ ব্যাপারে সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ এবং জম্মু“কাশ্মির পুলিশ সদস্যদের বাহবা দিয়েছেন|
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই প্রতিবাদী যুবক নিহত হয়েছেন| আজ সকাল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে তুমুল বন্দুক যুদ্ধ হয়|
কযেক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের পর ৫ গেরিলা নিহত হয়| নিহতদের মধ্যে কাশ্মির বিশ্ববিদ্যালযে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রফি ভাটসহ অন্যরা রয়েছেন| কয়েকদিন আগেই সমাজবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ রফি ভাট গেরিলা দলে যোগ দিয়েছিলেন| শুক্রবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন| ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে|
আজ সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে গেরিলাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা ওই প্রস্তাবে সাড়া না দিযে গুলিবর্ষণ শুরু করে| ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিবাদী জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন|
কাশ্মিরে গেরিলাদের নির্মূলের জন্য সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে অপারেশন অলআউট চালানো হচ্ছে| চলতি বছরে এ পর্যযন্ত ৫৯ গেরিলা সংঘর্ষে নিহত হয়েছে|
এদিকে, কাশ্মিরে এক অধ্যাপকসহ ৫ গেরিলা ও ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওযা প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু অধ্যাপক, বহু ছাত্র তারা ভালো প্রতিষ্ঠিত হওযা সত্ত্বেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন|
এ ব্যাপারে ভগত্ সিং, আশফাক উল্লাহ খান, সূর্যি সেনের কথা ভাবলেই বোঝা যাবে| আসলে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি দিযে মাপা যায় না|
আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই “এই দাবিকে কোনো অর্থনৈতিক দাবি, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বা প্রকৃত উন্নয়ন ঘটিযে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, দাবি মেটানো সম্ভব নয়|
এটা কোনোদিনই সম্ভব নয়| কাশ্মিরের মানুষ স্বাধীনতা চায় এবং সেই স্বাধীনতাকে তারা যেকোনো মূল্যে চায়“ এটা তাদের দাবি| কারো কাছে তারা সন্ত্রাসবাদী মনে হতে পারে|
যেমন ভগত্ সিংহরা ব্রিটিশদের কাছে সন্ত্রাসবাদী ছিল| কিন্তু ভগত্ সিং কী সন্ত্রাসবাদী? সূর্য সেন কী ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদী? মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমরা মনে করি, মানবাধিকারের ঘোষণা হল“ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার|
Loading...