সরকারের তিন বর্ষের উপলব্ধি মুখ্যমন্ত্রী নিজের তরফে জানালেন সবাইকে

ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আর্থিক উন্নয়নের হার ৮.৬ শতাংশ

0 58
রাঁচি (সং)- দেশের মধ্যে সবথেকে উন্নয়নশীল রাজ্য গুজরাটের পরে দ্বিতীয় স্থানে আছে| বিগত দু বর্ষে রাজ্য সরকার এক লক্ষেরও অধিক নিযুক্তি দিয়েছে এবং পঞ্চাশ হাজার নিযুক্তি ২০১৮ বর্ষের জুন মাস অবধি সম্পুর্ন হবে|
স্থানীয় নীতির ঘোষণার কারনে এই নিযুক্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের নব্বই শতাংশের অধিক প্রার্থীর নিযুক্তি ইতিমধ্যেই হয়েছে| উদাহরন স্বরূপ ঝাড়খণ্ড রাজ্য কর্মচারী চয়ন আযোগ দ্বারা বর্ষ ২০১৫ থেকে ১৭ বর্ষের মধ্যে পঁচিশ হাজার সাতশো সাতাশি প্রার্থীর প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে যার মধ্যে চব্বিশ হাজার ছয়শ ছাপ্পান্ন অর্থাত্ ৯৫.৬ শতাংশ স্থানীয় মানুষই প্রত্যাশী| এইভাবে জেলা স্তরেও যে নিযুক্তি হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই স্থানীয় প্রত্যাশীরা আছে|
মোমেন্টম ঝাড়খণ্ডের মাধ্যমে এখনও অবধি ২০০ টি পরিকল্পনার শিল্পগত একক বাস্তবাযিত হয়েছে| যেখানে ৬৬৬৯.১৪ কোটি পুঁজি বিনিযোগ হয়েছে এবং ৪৯,০৯৭ মানুষ প্রতক্ষ্যভাবে রোজগার এবং ১.৪৭ লক্ষ রোজগারের পথ অপ্রতক্ষ্যভাবে সৃষ্টি হবে|
মুখ্যমন্ত্রী খুদ্র এবং কুটির শিল্প বিকাশ বোর্ডের মাধ্যমে ৪.৫ লক্ষ মহিলা এবং পুরুষ শিল্পীদের শৈল্পিক উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জন্য গালা, মৌমাছি পোষা, তসর, হস্ত শিল্প এবং অন্যান্য কুটির উদ্যোগের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের পথ খোলা হচ্ছে|
ঝাড়খণ্ড রাজ্যের আন্দোলনের পরিকল্পনাকারী বিনোদ বিহারী মাহাতোর স্মরনে বিনোদ বিহারী মাহাতো বিশ্ববিদ্যালযে ২০১৭ বর্ষের নভেম্বরে ধানবাদে স্থাপনা হয়|
ঝাড়খণ্ডের অমর শহীদদের স্মরনে তাদের গ্রামের উন্নয়নের জন্য এই প্রথম শহীদ গ্রাম উন্নয়ন যোজনার আরম্ভ হয়|

সরকারের তরফে ভূমিহীনদের জন্য জমির ব্যাবস্থা

সরকার রাজ্যের ভূমিহীনদের গ্রামে চাষের জন্য পাঁচ কোটি একর জমি দেবে| এছাড়া আবাস নির্মানের জন্য ১২.৫ ডেসিমিল জমি দেওযা হবে| শহীদ সৈনিকদের, অর্ধ সৈনিক বাহিনী ও পুলিশ কর্মচারীদের পরিবারের জীবন যাপনের জন্য গ্রাম সবে পাঁচ একর জমি দেওযা হবে| এই সিদ্ধান্ত থেকে প্রায় দু লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে| এক লক্ষ মানুষের জন্য প্রায় দু লক্ষ একর জমির বন্দোবস্ত সরকারই করবে| এমন জমি যেখানে ভুমিহীন ব্যাক্তি যারা ১৯৮৫ বর্ষের প্রথম থেকেই এখানে আছে| সরকার সরকারী জমি নিয়মিতিকরনের প্রক্রিযাকে শরণ করার সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের অন্তর্গতে যেসব গরীব এবং ভুমিহীন তফসিলি জাতি , তফসিলি উপজাতি, পিছিযে থাকা শ্রেনীর সদস্যরা আছে, পুর্ব পাকিস্তান ও বর্মা থেকে ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পরে আসা শরনার্থীদের জন্য নিযিমিতিকরন আবাসীয় ব্যাবস্থা করা হবে| ৫০ ডেসিমিল অবধি জমি সৈনিক, আধা সৈনিক বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সদস্য, যারা ডিউটির সমযে শহীদ হয়েছে তাদেরকে ভূমিহীন বলে মনে করা হবে|

স্বশাসনের উন্নতি

মহাত্মা গান্ধীর স্বপ্ন ছিল স্বশাসন| সেই দিকে নজর রেখে গ্রাম সবে পঞ্চাযে সচিবালযে গঠন হয়| শহর শহরী স্বশাসন পরিষদ গঠন করা হয়েছে| এখনও অবধি ৬৫ টি সুসজ্জিত আপাতকালীন এম্বুলেন্স সেবা আরম্ভ হয়েছে| ২০১৮ বর্ষে অবধি মোট ১০৬ টি এম্বুলেন্স হাইওযে তথা আলাদা আলাদা জেলাতে রাখা হবে| ২০১৮ বর্ষের মার্চ মাস অবধি সারা রাজ্যে ৩২৯ টি এম্বুলেন্স সেবা আরম্ভ হযে যাবে|

মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা

রাজ্যের গরীব ব্যাক্তিদের জন্য সরকার স্বাস্থ্য বীমা যোজনা আরম্ভ হয়েছে| এর মাধ্যমে রাজ্যের ৫৭ লক্ষ পরিবারকে দু লক্ষ অর্থ অবধি চিকিত্সার ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে না| তারা দেশের প্রমুখ সব হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে পারবে| বরিষ্ঠ নাগরিকদের ৩০ লক্ষ অবধি অতিরিক্ত লাভ পাবে|

তেজস্বিনী যোজনা

এগারো থেকে চোদ্দ বর্ষের কিশোরীদের ও যুবতীদের শিক্ষার পরিস্থতি উন্নত করে তাদের জন্য রোজগারের অবসর সৃষ্টি হবে| রাজ্যের সতেরটি জেলাতে তাদের বাজার পরিচালিত কৌশল প্রশিক্ষণ, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে|

জোহার যোজনা

রাজ্যে থেকে দারিদ্রতা ঘোচানোর উদ্দেশ্যে জোহার যোজনা আরম্ভ হয়| এর অন্তর্গতে দু লক্ষ পরিবারের আয় দুগুন করার লক্ষ আছে| ১৭ টি জেলার ৬৮ ব্লকে লাগু হওযা এই যোজনার অন্তর্গতে ৩৪০০ উত্পাদন সমুহের গঠন করা হয়| কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের প্রশিক্ষণ দেওযা ও সেচের সুবিধার জন্য কাজ করা হবে|
মত্স্য, পশুপালন, মৌমাছি পোষাকেও প্রাধান্য দেওযা হবে| এই হিসাবে ১৫০০ কোটি অর্থ বাজেটে বরাদ্দ আছে|
ঝাড়খণ্ড রাজ্যে প্রলোভন দেখিযে ধর্মান্তরন করানোকে অপরাধ মনে করা হবে| জোর করে অথবা কপটের আশ্রয় নিযে ধর্মান্তরন করালে চার বর্ষের সাজা ও এক লক্ষ অর্থ দণ্ডও দিতে হবে|
মহিলাদের ক্ষেত্রে অচল সম্পত্তি রেজিস্ট্রি কেবলমাত্র এক টাকাতেই হচ্ছে| এটি মহিলা সশক্তিকরনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপুর্ন পদক্ষেপ বলেই মনে করা হয়|
ঝাড়খণ্ড রাজ্য এমন প্রথম রাজ্য দেশের মধ্যে যেখানে কেন্দ্র সরকারের উজ্জ্ববলা যোজনার অন্তর্গতে নিঃশুল্ক গ্যাস সংযোগের সাথে নিঃশুল্ক উনান এবং রিফিল দেওযা হচ্ছে|
সরনা মসনা স্থলের সুন্দরীকরন
রাজ্যের পরম্পরা, সংস্কৃতি, ভাষা, কলা, সাহিত্যকে প্রাধান্য দিতে রাজ্জস অরকার দৃঢ় সংকল্প নিযেে| এই দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজ্যের সরনা, মসনা, হড়্গড়ি স্থানকে ঘিরে সেটিকে সুন্দরিকরনের কাজ চলছে| এখনও অবধি ৫৭৭ টি স্থলের কার্যে র মঞ্জুরি প্রদান হয়েছে|
মানুষের রোজগারের পথ খোলার জন্য সরকার তিনটি স্তরে কাজ করছে| সরকারী নিযুক্তি, নিজস্ব বিনিযোগকে প্রাধান্য দিযে চাকরীর সৃষ্টি তথা কৌশল বিকাশের দ্বারা মানুষজনকে যোগ্যে পরিনত করে তাদের উপার্জনের অথবা স্বনির্ভরের ব্যাবস্থা করা হবে|
রাজ্য গঠনের পরে প্রথম বার স্থানীয় নীতি পরিভাষিত করা হয়েছে| এর থেকে সরকারী ক্ষেত্রে নিযুক্তির রাস্তা খুলেছে| এছাড়া এখনও অবধি বিভিন্ন প্রকারের রোজগার মেলার মাধমে বড় সংখ্যাতে যুবকদের রোজগারের সাথে যুক্ত করা হয়েছে|
তিন বর্ষ পুর্বে রাজ্যের বেশীরভাগ সরকারী বিদ্যালযে বেঞ্চ ডেস্ক না থাকাতে বাচ্চারা মাটিতে বসে পড়াশুনা করত| রাজ্যের ৩৮হাজার ৯০৪ টি বিদ্যালযে এখনও অবধি ৩১ হাজার ৭০৫ টি স্কুলে বেঞ্চ ডেস্ক উপলব্ধ করানো হয়েছে| এইভাবে তিন বর্ষ পুর্বে মাত্র ৩৫০০ টি স্কুলে বিদু্য়তের ব্যাবস্থা ছিল এখন এই পরিস্থিতি ২৬,৭৮৮ টি স্কুলে দেওযা হচ্ছে| সকল সরকারী স্কুলে এখন শৌচালয় ব্যাবস্থা আছে|
শ্রম উন্ননয়নের ক্ষেত্রে ঝাড়খণ্ড রাজ্য ক্রমাগত দ্বিতীয় বর্ষতেও সারা দেশের মধ্যে অব্বল আছে| শ্রমিকদের নু্য়নতম পারিশ্রমিক ১৭৮ অর্থ থেকে বৃদ্ধি হযে ২২২ অর্থে পরিনত হয়েছে| রাজ্যতে প্রথমবারে শ্রোমীক নিবন্ধন করানো হয়েছে| এখনও অবধি ৩.৯৬ লক্ষ শ্রমিকদের নিবন্ধন হয়েছে|
প্রত্যেক বর্ষ রাজ্য সরকার প্রায় ১৮ কোটি কম্বল বিতরন করে থাকে| প্রথমে অন্য রাজ্য থেকে কম্বল কেনা হোতো| এই বর্ষ থেকে ঝারক্রাফটের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডে প্রস্তুত কম্বলের বিক্রি হয়|
রাজ্যতে প্রত্যেক গৃহে শৌচালয় এবং গৃহেন গৃহে শুদ্ধ জল পৌঁছানোর জন্য সরকার দৃঢ় সংকল্প নিযেে| ঝাড়খণ্ডের শহরী নিকায়গুলিকে পুরোপুরিভাবে খোলা স্থানে শৌচমুক্ত করা হয়েছে|
রাজ্যতে গ্রামাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে| দু বর্ষতে প্রায় ৩০ শতাংশ গ্রামীণদের কাছ অবধি পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ ব্যাবস্থা দেওযা হচ্ছে|
২০২০ বর্ষ অবধি রাজ্যের প্রত্যেক গৃহে শুদ্ধ জল পৌঁছানোর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে| সাঁওতালী সমুদাযে সবথেকে প্রমুখ তীর্থ স্থান লুগু ৱুরু পাহাড়ে লাগা মেলাকে রাজকীয় মেলার মান্যতা দেওযা হয়েছে| এদের সুবিধার জন্য প্রথমবারে ঝাড়খণ্ড সরকার পুর্নার্থীদের খাওযা দাওযা, ভোজন এবং থাকার ব্যাবস্থা করেছে|
এছাড়া রাজরাপ্পা, ইটখোরীতে অবস্থিত শক্তি স্থলে আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা দেওযার কাজ আরম্ভ হয়েছে| পাতরাতুতে টুরিজিম সেন্টারের শিলান্যাস হয়েছে| এটিকে বিশ্ব মানের পর্যনটন স্থলে পরিনত করা হবে| বিশ্ব বিখ্যাত দ্বাদশ জ্বোতির্লিংগ বাবা বৈদ্যনাথধামের বাসুকিনাথধামে আগত পুর্নার্থীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে| জৈন সম্প্রদাযে ধার্মিক স্থল পারসনাথের উন্নয়ন হচ্ছে|
বৃদ্ধ অসহায় গরীবদের সরকার তীর্থ দর্শন করাচ্ছে| এখনও অবধি ৫০০০ মানুষকে তীর্থ দর্শন্ন করানো হয়েছে| স্কুলে বাচ্চাদের জন্যও সৈক্ষনিক ভ্রমনের আরম্ভ হয়েছে|
রাজ্যের প্রতিভাবান বাচ্চাদের উচ্চ শিক্ষার ব্যাবস্থা করা হয়েছে যাদের আর্থিক পরিস্থিতি ঠিক নেই তাদের সরকার নিজের গ্যারান্টি রাকঝে ঋন উপলব্ধ করাবে| তফসিলি জাতি, উপজাতি, এবং পিছিযে থাকা শ্রেনীর ছাত্রদের জন্য যোজনা আরম্ভ হয়েছে| এখানে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং পিছিযে থাকা শ্রেনীর ছাত্রদের জন্য ৭.৫ লক্ষ অর্থ শিক্ষা ঋনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কোনোপ্রকারের গ্যারান্টি চাইবে না| আর রে থেকে বেশী ঋনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টার সরকারই থাকবে|
ঝাড়খণ্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পি এচ ডি করার জন্য বিদ্যার্থীদের রাজ্য সরকার আর্থিক সহায়তা দেবে| রে থেকে বিদ্যার্থীরা প্রতি মাস ১৫ হাজার অর্থ পাবে| রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় অথবা নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালযে স্নাতকোত্তর টপার বিদ্যার্থীরা এর থেকে লাভ পাবে| তারা যদি পি এচ ডি এন্ট্রেন্স পার করে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালযে সরকারী অথবা নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এচ ডি করে তাদের তিন বর্ষ অবধি প্রত্যেক মাসে তিন হাজার অর্থ প্রাপ্ত হবে| যোজনার অন্তর্গতে কার্যা সন্তোষজনক হলে ফেলোশিপের রাশি বাড়ানো হবে| এই যোজনার মাধ্যমে স্নাতক স্তরে প্রযুক্তি পাঠক্রমে নামাংকন নেওযা মাধাবী ছাত্রদের ছাত্রবৃত্তি দেওযা হবে|
ঝাড়খণ্ড রাজ্য দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য যেখানে কৃষি কার্যেজ সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের আরম্ভ হয়| এখানে কৃষকদের একই স্থানে কৃষি সম্বব্ধে জানকারী দেওযা হচ্ছে| অর্থ বর্ষে ২০১৬“১৭ স্বীকৃত একশোটি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৮ টি ক্রিযাশীল আছে| এই বর্ষে ১০০ টি কেন্দ্রে কার্যশ আরম্ভ ইতিমধ্যেই হয়েছে| এর ফলে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে|
দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্সের নীতিতে কাজ চলছে এন্টি কোরাপশন ৱু্য়রোকে শক্তিশালীতে পরিনত করা হয়েছে যা সকলের চোখের সামনেই আছে| ২০১৪ বর্ষে যেখানে মাত্র ৩১ জন লোক দুর্নীতির জন্য অভিযুক্ত হয়েছে| আর ২০১৫ বর্ষে ৫৪ এবং ২০১৬ বর্ষে ৮৪ জন তথা ২০১৭ তে এখনও অবধি ১৩৮ জন গ্রেফতার হয়েছে যথেষ্ট উপলব্ধির বিষয়| রাজ্যের সকল ২৯,৩০০ গ্রামে বিদু্য়ত্ সরবরাহ হচ্ছে|

You might also like More from author

Comments

Loading...