Press "Enter" to skip to content

১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার পর একেবারে গুজরাটের মডেলঃ মমতা

মালদাঃ ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার পর এত বড় দাঙ্গা হয় নি । এটা একেবারে গুজরাটের

মডেল। আমি এটাকে বলব গণহত্যা। শিশুদের সামনে তাদের বাবা-মাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলা

হয়েছে। জীবন্ত মানুষদের পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কত মানুষ মরেছে, কেউ জানে না।

বুধবার মালদায় দলীয় কর্মী সভায় বিজেপিকে এভাবেই তুলোধোনা করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

এদিন বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মমতা ব্যানার্জি বলেন, যারা বাংলায় কিছু হলেই সিবিআই তদন্তের

দাবি নিয়ে শোরগোল তোলেন । কিন্তু দিল্লির বুকে এত বড় গণহত্যা নিয়ে তারা চুপচাপ কেন।

ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের দাবি তোলে নি কেউ । এখনো মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। আপনারাও

জানেন না ,আমরাও জানি না এই গণহত্যায় কত জনের মৃত্যু হয়েছে । এই গণহত্যার বিচার

বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি।

বুধবার ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা পৌরসভা সংলগ্ন সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট

সূর্যাপুর এলাকায় তৃণমূলের জেলা কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি

ছাড়াও এদিনের কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম , শুভেন্দু

অধিকারী । ছিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি মৌসুম নূর ,বিধায়ক নিহার ঘোষ ,সাবিনা

ইয়াসমিন, দিপালী বিশ্বাস, মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় মন্ডল, তৃণমূল নেতা

অম্লান ভাদুরি। এছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী প্রমূখ ।এদিন দুপুর

১টা থেকে শুরু হয়ে যায় সভার কাজ। মুখ্যমন্ত্রী দুটো নাগাদ হেলিকপ্টার করে সভামঞ্চের

সামনে আসেন। যেখানে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, তার পাশেই রয়েছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের

বাইপাস রোড । সভামঞ্চে উপচে পড়া ভিড় । তার থেকেও বেশি ভিড় ছিল বাইপাস সড়ক

জুড়ে।

১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি হতে দেবো না

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, দিল্লির এই গণহত্যাকে মানুষের মন থেকে

ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। ১৯৮৪ সালে পর এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও তাদের

মনে কোনও অনুশোচনা নেই। বিজেপির কোন নেতাই এই ঘটনার নিন্দা করে নি । এখন তারা

করোনা, করোনা বলে এই গণহত্যাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। এরাজ্যেও বাইরে থেকে লোক

এসে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে। মনে রাখবেন এটা হচ্ছে বাংলা। বাংলায় কোন মানুষের

অধিকার কেড়ে নিতে দেবো না। কেউ অত্যাচার করলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। প্রশাসন

কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাংলার মানুষকে বলবো আইন হাতে তুলে নিবেন না । কোথাও কোন কিছু

মনে হলে প্রশাসনকে জানান। পুলিশ আছে তাদেরকে জানান। ক’দিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কলকাতায় এসে মিছিল করে গেলেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলে কি হলো, সবাই দেখলো গোলি মারো

স্লোগান দেওয়া হলো। মিছিল না করতে দিলে প্রশ্ন উঠতো কেন মিছিল করতে দেওয়া হলো না।

মিছিলে যারা গোলি মারো স্লোগান দিয়েছেন । তাদের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা

হয়েছে। আরও যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনআরসি নিয়ে এদিন কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে দেশের মানুষকে। কই বিজেপি নেতাদেরকে

তো প্রমাণ দিতে হচ্ছে না। বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন করুন তোমরা আগে তোমাদের প্রমাণ

দেখাও। মনে রাখুন আমাদের বাংলায় কোন এনআরসি হবে না। কোনও নথি দেওয়া হবে না।

দেশের মানুষ কাদের জিতিয়েছে এবার বুঝতে পারছে। দেশটাকে এরা বিক্রি করে দিতে চাইছে।

বিএসএনএল, রেল, এলআইসি বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে এই বিজেপি আর নয়।

এদিন বিএসএফের কাজকর্ম নিয়ে নিজের ক্ষোভ চাপা রাখেন নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন সীমান্তে বিএসএফ ভয় দেখাচ্ছে। ওরা কিন্তু এক্তিয়ারভুক্ত কাজ করছে। মনে

রাখবেন আইন-শৃঙ্খলা দেখার দায়িত্ব রাজ্যের। ওদের দেখার কথা নয়। এর বিরুদ্ধে মানুষকে

রুখে দাঁড়াতে হবে।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

One Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!