স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল কেন পুড়িযে দিলেন শিশুদের হাত?

0 23
চক্রধরপুর (এজেন্সী) –  জ্বলন্ত মোমবাতির ওপর হাত ধরে রাখতে বাধ্য করা হয় ছাত্রদের|  ঝাড়খন্ড রাজ্যে এক স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল জ্বলন্ত মোমবাতির ওপর শিশুদের হাত ধরে রাখতে বাধ্য করে তাদের হাত পুড়িযে দিযেছেন| স্কুলে কিছু টাকা চুরি যাওযার পর কে টাকা চুরি করেছে তা নিযে ছাত্র“ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল|
যে স্কুলে এই ঘটনা, সেটি ঝাড়খন্ডের পশ্চিম সিংভুম জেলার চক্রধরপুরে| এ ঘটনার পর সেখানে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িযে পড়েছে| স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে| স্কুল প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দাযে করা হযেছে|
পুলিশ জানিযেছে, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ইতোমধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন| তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে রিপোর্ট জমা দিযেছে

স্কুলের আসল ঘটনা কি ঘটেছিল

বেরিটা মেমোরিযাল স্কুল, যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি নির্মাণ করা হযেছে একটি চার্চের সীমানার ভেতরেই|
স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রের দুশো টাকা চুরি যাওযার পর সে এ নিযে প্রিন্সিপ্যালের কাছে অভিযোগ করে|
এরপর প্রিন্সিপ্যাল ক্লাসের সব ছাত্রকে ডেকে জানতে চান, কে এই অর্থ চুরি করেছে| কিন্তু কেউই দোষ স্বীকার করেনি|
এরপর স্কুল প্রিন্সিপ্যাল একে একে সব ছাত্রকে ডেকে জ্বলন্ত মোমবাতির উপর তার হাত ধরে রাখতে বলেন|
স্কুল প্রিন্সিপ্যাল নাকি ছাত্রদের বলেছিলেন, যে টাকা চুরি করেছে, তার হাতই শুধু পুড়বে| বাকীদের কোন ক্ষতি হবে না|
এরপর শিশুরা একে একে মোমবাতির ওপর তাদের হাত মেলে ধরতে থাকে| একজন শিশুর হাতে এতটাই মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় যে তাকে হাসপাতালে নিযে যেতে হয়|
রোশন নামের এই শিশুর মা শর্মিলা দেবি বলেছেন, তার ছেলের অবস্থা এখনো স্কুলে যাওযার মতো নয়| সে রীতিমত আতংকিত| সে কিছু খেতে পারছে না তার হাত দিযে সে স্কুলে যেতে চাইছে না|
শর্মিলা দেবি জানান, শুধু তার ছেলে নয়, আরও অনেক ছেলের হাত একইভাবে পুড়ে গেছে| ঘটনাটি নিযে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হযেছে|
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসডিও প্রদীপ প্রসাদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিযে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন| এসডিও ইতোমধ্যে এ নিযে জেলা প্রশাসক আরওযা রাজকমল সিং এর কাছে একটি রিপোর্টও জমা দিযেছেন|
তিনি জানিযেছেন, স্কুল প্রিন্সিপ্যাল তদন্ত কমিটির সামনে এসে তার দোষ স্বীকার করেছেন| ভারতের শিশু সুরক্ষা আইনে স্কুল প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হযেছে|
প্রিন্সিপ্যাল সুশান্তি হেমব্রম জানিযেছেন, বাচ্চাদের হাত যে এভাবে পুড়ে যাবে তিনি তা ৱুঝতে পারেন নি|
তিনি বলেন, সম্প্রতি স্কুলে অনেক চুরির ঘটনা ঘটছিল| সেজন্যে আমি বাচ্চাদের মোমবাতির ওপর হাত ধরতে বলেছিলাম, যাতে যে চুরি করেছে সে ভয় পায়|
এদিকে স্কুলটি পরিচালনা করে যে চার্চ, সেই চার্চের প্রধানও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন| তিনি জানিযেছেন, এ ঘটনার ব্যাপারে চার্চ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা নেবে|

You might also like More from author

Comments

Loading...