রোহিঙ্গা সমস্যার সহসাই সমাধান দেখছে না নিরাপত্তা পরিষদ

0 8
নিউ ইয়র্ক (এজেন্সী) – নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা খুব দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দেখছেন না| তবে তারা বলেছেন, এই বিষয়টিকে তারা হরিযে যেতে দেবেন না| আর রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিযানমারকে নিরপদে ফেরত নিতে হবে|

নিরপত্তা পরিষদের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল কুযে থেকে সরাসরি কক্সবাজার আসেন শনিবার বিকেলে| সেখানে তারা বিকেলেই বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন|
রবিবার তাঁরা বাংলাদেশ মিযানমরার সীমান্তের জিরো পযে্টে অবস্থারত প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে দেখতে যান| এরপর কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন| এই ক্যাম্পে সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা আছেন| ক্যাম্পে ১০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে তিনভাগে ভাগ হয়ে কথা বলে প্রতিনিধি দলটি| পরে তাঁরা মুখোমুখি হন সংবাদিকদের|
প্রতিনিধি দলের প্রধান পেরুর গুস্তাভো মেজা কোযাদ্রার বলেন, ‘‘আমরা এই শরণার্থী সংকট দেখে খুব উদ্বিগ্ন| আমরা এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যএবেক্ষণ করছি| রোহিঙ্গাদের জন্য যেন কিছু করতে পারি, তাই সমস্যাটিকে আরও ভালোভাবে জানার জন্য আমরা এখানে এসেছি|’’
কুযেছের প্রতিনিধি মনসুর আল উতাইবি বলেন, ‘‘আমরা এখান থেকে মিযানমারে যাবো এবং সেখান থেকে নিউইয়র্কে ফিরে বিষয়টি নিযে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করবো| তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেযার ব্যাপারে আমরা কোনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না|’’

রোহিঙ্গা সমস্যার দেখতে মিয়ানমার যাবে দল

যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি কারেন পিযার্স বলেন, ‘‘আমরা এখান থেকে মিযানমারে যাবো| তাদের কাছ থেকে শুনতে চাইবো, সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদাযে সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হতে পারেন তারা| রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আমরা নিরাপত্তা পরিষদে সমর্থন দেযার জন্য য়থাসাধ্য চেষ্টা করবো এবং রোহিঙ্গাদের উপকারে আসে এমন সিদ্ধান্ত নেব|’’
প্রতিনিধি দলের খবর সংগ্রহে কক্সবাজারে অবস্থানরত বিশেষ প্রতিনিধি শেখ শাহরিযার জামান বলেন, ‘‘তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে রোহিঙ্গা ইসু্য়টিকে হারিযে যেতে দেবেন না| তবে তাঁরা এও মনে করেন যে, খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে না| তাঁরা মূলত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে এসেছেন| পরিদর্শনের ভিত্তিতে নিউইয়র্কে গিযে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা|’’
তিনি বলেন, ‘‘এই প্রতিনিধি দল মিযানমারেও যাবেন| তাঁরা রাখাইনে যাবেন| রাখাইনের দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করতে চেযেিলেন তাঁরা| কিন্তু মিযানমার তাতে সম্মত হয়নি| তারা হেলিকপ্টারে করে এরিযে ভিউ“এর সুযোগ পাবেন|’’
শেখ শাহরিযার জামান বলেন, ‘‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন|’’
মিযানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল শহীদুল হক (অব.) মনে করেন, ‘‘নিরাপত্তা পরিষদের এই উদ্যোগ সুফল বযে আনবে এবং এটা কার্য্কর একটা উদ্যোগ|’’
তিনি বলেন, ‘‘এই সমযে আমরা চার ধরণের উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি| ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট, সিকিউরিটি কাউন্সিল, কমনওযেথ আর সামনে ওআইসি সম্মেলন| আমার মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একটা কার্য কর উদ্যোগ চায়| তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি|’’
তিনি বলেন, ‘‘এখন যা বিশ্ব পরিস্থিতি তাতে রাশিযার অবস্থান কি হবে তা বলা মুশকিল| তবে ভারত ও চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পক্ষেই অবস্থান নেবে| আমার মনে হচ্ছে সিকিউরিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগে একটা কিছু হতে পারে|’’

You might also like More from author

Comments

Loading...