লালকেল্লাকে লিজ দেওযা নিযে বিতর্কের ঝড়,ডালমিয়া গ্রুপ করবে খরচ

লিজ
নয়া দিল্লি (এজেন্সী) – লালকেল্লাকে লিজে দেওয়ার নামে আবার শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়।কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যলটন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লাকে ডালমিযা গ্রুপের হাতে লিজ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই মর্মে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়েছে ইতিমধ্যে| এ নিযে রাজনৈতিক মহলে এখন তুমুল শোরগোল|
হেরিটেজ সৌধ দত্তকদান নীতি অনুসারে, দিল্লির লালকেল্লার রক্ষণবেক্ষণ এবং কেল্লার ভেতরের এবং বাইরের মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়নে দুর্গটিকে ডালমিযা ভারত গ্রুপ নামের এক বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিযেে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যসটন মন্ত্রণালয়|
এ জন্য হালে একটি সমঝোতাপত্র সই হয়েছে| এই কাজে ডালমিযা গ্রুপ আগামী পাঁচ বছরে খরচ করবে ২৫ কোটি টাকা| সপ্তদশ শতাব্দীর মুঘল আমলের এই ঐতিহাসিক সৌধের দত্তকদান নীতি নিযে বিতর্ক ক্রমশই তীব্র হযে উঠছে| বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারকে তুলোধুনা করছে|
বিরোধী দলগুলির আক্রমণ সামাল দিতে বিজেপিও কোমর বেঁধেছে| এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির রিপোর্টকে হাতিযার করে পালটা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি| তাদের বক্তব্য, পর্যীটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টেও দত্তকদান নীতির সমর্থন আছে| কমিটির সুপারিশ, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির নীতি মেনে কর্পোরেট সংস্থাকে ঐতিহাসিক সৌধ দত্তক দিতে পারে সরকার|
ঐ রিপোর্টে আর কী কী সুপারিশ ছিল? এক, হেরিটেজ সৌধগুলির পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করে দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়| হেরিটেজ সৌধের রক্ষণাবেক্ষণের দাযিত্ব পুরোপুরি কর্পোরেট সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওযা যাবে না| বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজ্জু বলেছেন, এখানে দলীয় স্বার্থ বড় নয়, জাতীয় স্বার্থের ভূমিকা সর্বোপরি| পর্য্টক টানার লক্ষ্যে লালকেল্লার পানীয় জল এবং শৌচালয় নির্মাণ, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড, নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো এবং সার্বিক সৌন্দর্যাচয়ন বৃদ্ধি ইত্যাদির মতো সুবিধাগুলো তৈরি করে দেবে কর্পোরেট সংস্থা| তাদের হাতে মালিকানা স্বত্ত্ব ছেড়ে দেওযা হচ্ছে না কিংবা বেচে দেওযা হচ্ছে না|

লিজ দেবার শর্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

বিজেপির কিরণ রিজ্জু বক্তব্যকে উলটে দিযে কমিটির সদস্য সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় মনে করেন, আসলে বিজেপিই এই নিযে রাজনীতি করছে| সংসদীয় কমিটি কখনই জাতীয় সস্পদ বেচে দিতে বলেনি| কেন্দ্রীয় পর্যনটন মন্ত্রী মহেশ শর্মার বক্তব্য, এই চুক্তিপত্রে টাকা পয়সার কোনো লেনদেনের কথা নেই| কর্পোরেট সংস্থাটি সরকারকে যেমন কোনো টাকা পয়সা দেবে না, সরকারও কোনো টাকা পয়সা দেবে না ঐ কর্পোরেট সংস্থা ডালমিযা ভারত গ্রুপকে| এক কথায়, এখানে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রশ্ন নেই| নেই লাভ লোকসানের প্রশ্ন| চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের হাতে| কর্পোরেট সংস্থাটি শুধু পর্যোটকদের সুবিধা বাড়াবে মাত্র| প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস বলেছে, লালকেল্লার পর এবার কি সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট বা লোক কল্যাণ মার্গ (এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবন) লিজ দেওযা হবে?
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘মোদী সরকারের ভ্রান্ত পরিকল্পনার জন্য অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে| হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে গেছে| এতে বোঝা যাচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির পরিকাঠামোর ওপরই সরকারের শ্রদ্ধা নেই| সবকিছু চলেছে পরিকল্পনাহীনভাবে| মমতা বন্দোপাধ্যায় সঠিক কথাই বলেছেন, দেশের দাযিত্ব নিতে ওরা অপারগ|
ওদের মানসিকতাই দেশকে এবং দেশবাসীকে বিপন্ন করে তুলছে| বেসরকারি সংস্থা যদি লালকেল্লার মতো হেরিটেজ সৌধের উন্নতি করতে পারে, তাহলে বূঝতে হবে সরকারের চেযে কর্পোরেট সংস্থা বেশি দক্ষ| সরকার কম দক্ষ| অদক্ষ সরকারকে দেশবাসী আর চাইছে না|’’
তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আরও জানান, মোদী সরকার আজ এটা দিযে দিচ্ছে, কাল ওটা দিযে দিচ্ছে| কখনও এযারপোর্ট দিযে দিচ্ছে, কখনও সরকারি বিমান সংস্থা এযার ইন্ডিযা বিক্রি করে দিচ্ছে| একদিন গোটা দেশটাকেই হয়ত বিকিযে দেবে এই সরকার| সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ইতিহাসের এক দুঃখজনক অন্ধকার দিন| পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যাযে প্রশ্ন, লালকেল্লার মতো এক ঐতিহাসিক সৌধ যার প্রাকার থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়, সেই সৌধের রক্ষণাবেক্ষমের দাযিত্ব সরকার স্বযং কেন নিতে পারছে না? লিজ দিতে হচ্ছে কেন?
তৃণমূলের আর এক সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, ‘‘আজ রেডফোর্ট বিক্রি হচ্ছে| এরপর নিলামে তোলা হবে জাতীয় সম্পদগুলি একে একে| সর্বোচ্চ দর হাকাতে পারলেই হাতে এসে যাবে| বাম দলগুলি এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে| পালটা প্রশ্ন বিজেপির|বলেছে গত ৭০ বছরে এ সব জাতীয় সৌধের কী করুণ দশা হয়েছে| কেন কংগ্রেস চোখ বূজে ছিল? এই চাপান উতোর সমানে চলেছে| তৃণমূল সাংসদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপি যখন মরিযা, তখন তৃণমূলের স্লোগান ২০১৯ সালে চলো লালকেল্লা| ২০১৯ সালে মোদীকে আর লালকেল্লা থেকে ১৫ই আগস্টে জাতীয় পতাকা তুলতে হবে না|
Please follow and like us:
Loading...