ইসলামপুরঃ রবিবার থেকে শুরু হলো শতবর্ষের প্রাচীন দলুয়া মেলা। চোপড়া ব্লকের ডোক

নদীর তীরে এদিন সকাল থেকেই ভারত বর্ষের বাংলা, বিহারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ

নেপালের মানুষের উপস্থিতি এটিকে আন্তর্জাতিক মেলার স্বীকৃতি দিলো।চরম আধুনিকতার

যুগেও এই প্রাচীন মেলা যে এখনো মুছে যায়নি মানুষের মন থেকে এবং এখনো যে সাধারণ

মানুষের কাছে কতটা জনপ্রিয় তা বোঝা যায় মেলাতে এলেই।মেলাতে কি নেই সেটাই বুঝি খুঁজে

পাওয়া যাবে না।ওই মেলার মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পাহাড় সিং নামে এক ব্যক্তি একশো

চৌত্রিশ বছর আগে এই মেলা চালু করেন।সেই থেকে হয়ে আসছে এই মেলা।বংশ পরম্পরায় ওই

পরিবারের সদস্যরা মূল মন্দির চত্বর এলাকা দেখা শোনার দায়িত্বে থাকলেও মেলা পরিচালিত

হয় সরকারি ভাবেই।প্রতি বছর ভারতের বিহার,বাংলার পাশাপাশি মানুষ আসে প্রতিবেশী দেশ

নেপাল এবং কখনও কখনও বাংলাদেশ থেকেও।মেলা চলবে এক মাস।তবে প্রথম তিনদিন

এখানে ভিড় বেশি থাকে।হিন্দু মুসলিমের সমাগমে মানুষের কাছে এই মেলা সম্প্রীতির মেলা হয়ে

দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এই মেলার মাছ বিখ্যাত হওয়ায় প্রচুর মানুষ সেই মাছ খেতে আসেন।এই

প্রাচীন মেলায় অনেক পূর্ণার্থীও আসেন তাদের মানত পূরণ করতে।

রবিবার থেকে শুরু মেলায় মাছ বিখ্যাত

গঙ্গা উত্তর বাহিনী হওয়ায় এই নদীকে গঙ্গা মনে করে হাজার হাজার মানুষ এই দিন পুণ্য স্নান

করেন এখনো।তেলে ভাজা ফুলুরি,মনিহারী দোকান থেকে শুরু করে নানান স্বাদের দই,হস্তশিল্প

সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে এখানে।এদিন সকাল থেকেই রীতিমতো জমজমাট মেলা।দলুয়া গ্রাম

সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় তা দলুয়া মেলা নামেই পরিচিতি লাভ করেছে।জেলার প্রাচীন

মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম এই দলুয়া মেলা।কথা হচ্ছিল নেপালের বিরতা মোড় থেকে আগত

ধন বাহাদুর থাপার সাথে।তিনি জানান,প্রতি বছর তিনি এখানে আসেন।মানুষের মুখে শুনেই

প্রাচীন মেলার আকর্ষণে তিনি ছুটে আসেন। এই মেলার সবচেয়ে ভাল কথা হল যে দেশের

কয়েকটি রাজ্য ছাড়া নেপালের লোকেরা এই মেলার নাম একে ওপরের সাথে দেখা সাক্ষাত

করার সুযোগ পান। এই সুবাদে মেলায় আসার ব্যাবসায়ীরাও নিজের মধ্যে আলাপ আলোচনা

করে কোথায় কোন মাল বেশি বিক্রী হবে, সেই সব খবর জানতে পারেন


 

Spread the love

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.