যুক্তরাজ্যের সংগীত জগতের ‘অন্ধকারের’ গল্প বেরিয়ে এলো ধর্ষণ আর হযরানি

যুক্তরাজ্যের
নিউ ইযর্ক (এজেন্সী)- যুক্তরাজ্যের সংগীত জগতে যৌন হযরানি খুবই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে ক্ষমতাশালী লোকজন অহরহ এসব ক্ষমতার সুযোগ নেন| এই জগতের অন্ধকার দিক নিয়ে প্রথমবারের মুখ খুলেছেন কয়েজন ভুক্তভোগী|
অ্যামি (পরিচয প্রকাশ এড়াতে নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে)১৫ বছরে প্রথম এই জগতে পা রাখেন|
তিনি বলছেন, আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই গান লিখতাম| একদিন একজন আমাকে ইমেইল করে জানালো, তিনি আমাকে সাহায্য করতে চান এবং আমার ম্যানেজার হতে চান| এরপর আমি তার সাথে কাজ করতে শুরু করি|
গান গেয়ে কিছুটা সফলতাও পান অ্যামি| কিন্তু তারপর থেকেই তার উপর নির্যাছতন শুরু হয| অ্যামি বলছেন, একদিন তিনি বলেন, তিনি আমার প্রেমে পড়েছেন এবং আমাকে তার মেয়ে বান্ধবী হতে হবে| না হলে তিনি আমার ক্যারিযার ধ্বংস করে দেবেন|’’
এরপরের দুই বছর অ্যামির উপর ক্রমাগত নির্যাতন চালিয়ে যান ওই ব্যক্তি, যিনি এখনো সংগীত শিল্পের বড় অবস্থানে রয়েছেন| অ্যামি কি করতে পারবেন আর পারবেন না, তারও একটি তালিকা তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি| এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে বাধা দেযা হতো তাকে|
কিছুদিন পর তার উপর যৌন সহিংসতাও শুরু হয| একপর্যাসয়ে গান টান ছেড়ে নযটা পাঁচটার একটি চাকরি খুঁজে নেযার কথাও ভাবতে শুরু করেন অ্যামি|
কোলি হাউল বলছেন, আমি এমন অনেকের কথা জানি, যারা সংগীত জগতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে
পেশাজীবনের শুরুর দিকে অনেক ব্যক্তির দ্বারা শোষণের শিকার হয়েছিলেন গাযিকা, গীতিকার কোলি হাউল| একবার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তার নিতম্ব চেপে ধরেন এবং বাজে প্রস্তাব দেন|
তারপরেও নিজেকে ভাগ্যবতী বলে মনে করেন মিজ হাউল| কারণ তিনি বলছেন, ’’আমি এমন অনেক মেয়েছে চিনি, যার ধর্ষণের শিকার হয়েছে| কারণ এই শিল্পে অনেক পুরুষের কাছেই এমন ক্ষমতা রয়েছে যে, এরকম ঘটনার পরেও তারা বহাল তবিযতে টিকে থাকতে পারে|’’

যূক্তরাজ্যের সব জায়গায় এই ধরনের হয়রানি

সংগীত ব্যবস্থাপক ২৯ বছরের ইযাসমিন লাজোযি বলছেন, সংগীত শিল্পে কাজ করা একজন নারীকে আপনি পাবেন না, যিনি কোন না কোনভাবে যৌন হযরানি বা অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন|
নিজের জীবনে যৌন হযরানির শিকার হওযার পর হতাশা থেকেই তিনি অন্য মেয়েছেরও এরকম নির্যাশতনের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন|
তিনি বলছেন, ‘‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হযতো যৌন হযরানির কিছু তথ্য আমরা জানতে পারবো| কিন্তু কোম্পানি অফিসেই ধর্ষণ, তরুণীদের মুখমেহনে বাধ্য করা, বড় সংগীত কোম্পানির নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্টে ধর্ষণ, নারীদের উপর হামলার মতো তথ্য আসতে শুরু করলো|
২০ বছর পর নিজের উপর যৌন হযরানির বিষয়ে মুখ খুলেছেন মিশেল ডে ভিরেস|
বড় একটি সংগীত কোম্পানি কর্মজীবন শুরুর পর একজন বযস্ক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে দেযা হয| কিন্তু সেই ব্যক্তি নানাভাবে তাকে যৌন হযরানি করতো| নগ্ন অবস্থায তার রুমে চলে আসতো| একপর্য্যায়ে তার নিজেকে যৌন দাসীর মতো মনে হচ্ছিল|
একদিন অফিসের আরেকজন নারী কর্মীকে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে পাঠানো হয| ওই ব্যক্তির কক্ষে প্রবেশের পর তিনি নিজের লিঙ্গ বের করে বলেন, এসো, আমি তোমাদের দুজনকে নিয়ে যৌন মিলন করতে চাই|
এই ঘটনার পর তিনি মামলা করার জন্য আইনজীবীর কাছে যান| কিন্তু সেই আইনজীবী তাকে বলেন, তুমি যদি মামলা করো, তাহলে আর এই শিল্পে টিকতে পারবে না| এরপর চাকরি ছেড়ে দেন মিশেল|
ইযাসমিন লাজোযি বলছেন, ‘‘সংগীত শিল্পে যৌন নির্যানতন আর হযরানির মতো ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে| এখানে এমন অনেকেই বড় বড় পদে রয়েছেন, যাদের আসলে থাকা উচিত কারাগারে|’’
তিনি বলছেন, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার| এটি চমত্কার একটি পেশা, য়েখানে কোনরকম হয়রানি, ভয় বা ধর্ষণের শিকার না হয়ে মেয়েছের কাজ করার মতো পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরী|
যুক্তরাজ্য সংগীত জগতের প্রতিনিধি ইউকে মিউজিক বলছে, এসব অভিযোগ তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে|
Please follow and like us:
Loading...