যাদব দোষী, রাজা“কানিমাড়ি নির্দোষ, ভারতের আদালতের রায়

যাদব
নযা দিল্লি (এজেন্সী) – পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির একটি মামলায দোষী সাব্যস্ত হযে জেলে গেলেন আরজেডি ‘সুপ্রিমো’ লালু প্রসাদ যাদব| অন্যদিকে টু“জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি মামলায ছাড়া পেযে গেলেন তত্কালীন টেলিকম মন্ত্রী এ. রাজা ও ডিএমকে সাংসদ কানিমোড়ি|
পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি তদন্তের থাবা কুড়ি বছর ধরে তাড়া করে চলেছে অবিভক্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয জনতা দলেরর প্রধান লালু প্রসাদ যাদবকে| তদন্ত শুরু হতেই লালু প্রসাদকে ইস্তফা দিতে হয ১৯৯৭ সালে| পশুখাদ্য এবং গবাদি পশুর ওষুধ“পত্র কেনার ভুযো বিল দেখিযে দেওঘর ট্রেজারি থেকে ৮৫ কোটি টাকা তছরুপ করার মামলায লালুপ্রসাদ যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেছে কেন্দ্রীয তদন্ত ৱু্যরোর (সিবিআই) রাঁচির বিশেষ আদালত|
সঙ্গে সঙ্গে তাকে জেলেও পাঠানো হয| তবে তার কারাদণ্ডের মেযাদ কত দিনের হবে তা জানা যাবে আগামী ৩রা জানুযারি| ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দেওঘর, চাঁইবাসার মতো বিভিন্ন ট্রেজারি থেকে টাকা লোপাটের অভিযোগে একাধিক মামলা ঝুলছে লালু প্রসাদসহ অন্যান্য মন্ত্রী আমলার বিরুদ্ধে|
দেওঘর ট্রেজারি থেকে এই টাকা তছরুপ করার অভিযোগে দাযে করা ঐ মামলায মোট অভিযুক্ত ৩৪ জন| এদের মধ্যে ছিলেন বিহারের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্র| তিনি অবশ্য বেকসুর খালাস পেযে যান| মুক্তি পান আরও পাঁচজন অভিযুক্ত|

যাদব কে দেওয়া হল পাঁচ বছরের জেল

এর আগে ২০১৩ সালে চাঁইবাসা ট্রেজারি থেকে টাকা নয়ছয করার অভিযোগে লালু প্রসাদকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিশেষ সিবিআই আদালত| দণ্ডিত আসামি বলে তিনি আগামী পাঁচ বছর কোনো নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না| চাঁইবাসা ট্রেজারি মামলায দণ্ডিত হওযার পর, রাঁচি হাইকোর্ট লালু যাদবের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা পশুখাদ্য সংক্রান্ত একই ধরনের অন্য মামলাগুলি রদ করার নির্দেশ দেয|
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যায| এ বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট লালু প্রসাদের জামিন মঞ্জুর করলেও রাঁচি হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে রায দেয যে, পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির অন্যসব মামলার বিচার হবে পৃথকভাবে|
এই রাযকে ঘিরে বিহার তথা গোটা দেশে শুরু হয লালুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিযে জল্পনা| কংগ্রেস পার্টি বলেছে, তারা লালু এবং তার আরজেডি দলের পাশেই থাকবে| বিজেপি একে কটাক্ষ করেছে দুর্নীতিগ্রস্তদের জোট বলে|
কেন্দ্রীয মন্ত্রী জে.পি নাড্ডা মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস আর আরজেডি আঁতাত করে দেশের মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করছে, যা কিনা আদালতের রায থেকেই স্পষ্ট| কংগ্রেস নেতা মণীশ তেওযারি মন্তব্য করেন, ফৌজদারি মামলা এবং রাজনৈতিক জোট দু’টি ভিন্ন বিষয| তবে রাজনৈতিক পর্যিবেক্ষকদের একাংশের মতে, লালু প্রসাদ যতবারই জেলে গেছেন, ততবারই রাজনৈতিক পুঁজি বেড়েছে তার|
২০১৩ সালে জেল থেকে জামিন পাবার পর, ২০১৫ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে লালুর দল একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয| তৈরি হয আরজেডি, সংযুক্ত জনতা দল (জেডি ইউ) এবং কংগ্রেস মিলে মহাজোট| বিহারে গঠিত হয সেই মহাজোটের সরকার|
মুখ্যমন্ত্রী হন সংযুক্ত জনতা দলের নীতীশ কুমার, যদিও সেই মহাজোট বেশিদিন টেকেনি| লালু যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিযে সিবিআই তদন্ত শুরু করলে সরকারে ভাঙন দেখা দেয| মন্ত্রিসভায লালু যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব ছিলেন উপ মুখ্যমন্ত্রী|
দুর্নীতির অভিযোগে তাকে পদত্যাগ করতে বলায তিনি রাজি হন না| ফলত আরজেডি“র সমর্থন ঝেড়ে ফেলতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার দ্রুত বিজেপি শিবিরের সঙ্গে হাত মেলান| বিজেপির সমর্থন নিযে বিহারে এখন জেডি ইউ বিজেপি সরকার|
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের অভিমত, অভিযুক্ত হলেই রাজ্য রাজনীতির ‘ক্যানভাস’ থেকে লালু যাদবের মতো পোড়া খাওযা রাজনীতিককে এত তাড়াতাড়ি মুছে ফেলা যাবে না| তাই আরজেডি নেতা কর্মীদের আশা, ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে লালুর জেলযাত্রার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে| আরজেডি“র ভোট ব্যাংক হবে চাঙ্গা|

ছাড়া পেযে গেলেন কানিমোড়ি…

অন্যদিকে ২০১২ সালে মনমোহন সিং“এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস জোট সরকারের বিরুদ্ধে ওঠে টু“জি স্পেকট্রাম বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ| বলা হয, ঐ কেলেঙ্কারিতে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্বের ক্ষতি হয| মনমোহন সিং মন্ত্রিসভার টেলিকম মন্ত্রী এ. রাজা এবং ডিএমকে দলের সাংসদ কানিমোড়িকে গ্রেপ্তার করা হয|
সাত বছর ধরে শুনানির পর গত ২১শে ডিসেম্বর বিশেষ আদালতে| রাজা ও কানিমোড়িসহ ৩৫ জনকে নির্দোষ বলে বেকসুর খালাস করে দেওযা হয| বিচারপতি তাঁর রাযে মন্তব্য করেন, সিবিআই তার চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু প্রমাণই করতে পারেনি|
সব অভিযোগই মনে হয়েছে যেন অনুমান, গুজব আর জনাবেগের ভিত্তিতে আনা হয়েছে| উল্লেখ্য, টু“জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি গুজরাট নির্বাচনের পর মোদী সরকারের জন্য একটা বড় ধাক্কা| এই সুযোগে বিজেপিকে কোণঠাসা করার মওকা হাতছাড়া করতে চাইছেন না কংগ্রেসের নতুন সভাপতি রাহুল গান্ধী| তাঁর মন্তব্য, টু“জি স্পেকট্রাম কাণ্ডে এ. রাজা, কানিমোড়ি এবং অন্যান্যরা নির্দোষ সাব্যস্ত হওযায বিজেপির মিথ্যাচারের ছবিটাই স্পষ্ট হয়েছে|
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অবশ্য এর কোনো প্রতিক্রিযা জানানো হযনি| সিপিএম“এর মন্তব্য, এই রায জবাবের চেযে প্রশ্ন তুলেছে বেশি| আর দিল্লির রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন “ দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের বযোবৃদ্ধ নেতা অসুস্থ করুণানিধিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেখতে যাওযা কি আগামী সংসদীয নির্বাচনে ডিএমকে“র সঙ্গে বিজেপি“র হাত মেলানোর ইঙ্গিত?
Please follow and like us:
Loading...