মোদি ভূমি অচঞ্চল,নিযন্ত্রণরেখা শুধু জম্মু“কাশ্মীরেই নয় গুজরাতেও আছে

0 57
আহমেদাবাদ –  মোদি ভুমি অচঞ্চল হলেও এখানে একটা স্পষ্ট নিয়ন্ত্রন রেখা আছে। মইনুদ্দিন আলম বললেন, নিযন্ত্রণরেখা শুধু জম্মু“কাশ্মীরেই নয, এখানেও আছে| এই আহমেদাবাদে| একটা নয, একাধিক| দাঁড়িযে আছি এ রকমই এক ‘লাইন অব কন্ট্রোল’“এ| একধারে উচ্চকোটির অঢেল বিত্ত ও অফুরন্ত বৈভবের হাজার লক্ষ ভোল্টের চোখধাঁধানো দীপ্তি, অন্যধারে গা“ঘেঁষাঘেঁষি ঘিঞ্জি ঘুণেধরা অনুচ্চ বিনীত অবস্থান|
একধারে নরেন্দ্র মোদি র ‘ভাইব্রেন্ট গুজরাট’“এর রঙিন ও উজ্জ্বল উপস্থিতি, পরাক্রম ও ঔদ্ধত্যের উচ্চকিত ঘোষণা, অন্যধারে সাদামাটা আটপৌরে অনুজ্জ্বল জীবনযাপনের ম্যাড়মেড়ে চালচিত্র|
একটা দিক নরেন্দ্র মোদি র স্বপ্ন ও সাধের ‘হিন্দুস্তান’, অন্যধার করুণাশ্রিত অবহেলিত ‘পাকিস্তান’| এপাশে হিন্দু বসতি, ওপাশে মুসলমান| এ যেন সেই সুযো ও দুযোরানির গল্প| মাঝে প্রবাহিত সাবরমতী নদী। এটাই শহরের অন্যতম নিযন্ত্রণরেখা|
মইনুদ্দিন আলম বললেন, ‘এটাই আমাদের গণ্ডিকাটা ধর্মনিরপেক্ষতা|’ গতকাল ৱুধবার দুপুর সাড়ে বারোটা| পঁচিশ বছর আগে এই দিনটায ঠিক এই সমযই হুড়মুড়িযে ভেঙে পড়েছিল তিন গম্বুজঅলা বাবরি মসজিদের প্রথমটা|
ইট, চুন, বালু, সুরকির গাঁথুনি শত শত করসেবকের শাবল ও গাঁইতির আঘাত সহ্য করতে পারেনি| পঁচিশ বছর পরের এই দিন আহমেদাবাদের দুপুর সাড়ে বারোটার আকাশ কালো মেঘে মোড়া| সাইক্লোন ‘অক্ষি’র দৌলতে আকাশ দেখে বোঝার উপায নেই সূর‌্য মধ্যগগনে এল কি না|
কিন্তু তাতে কী? জোহরের নামাজের আজান ভেসে আসছে| কোথাও কোনো অস্বাভাবিক চাঞ্চল্য নেই| উত্তেজনাও| আজ দেড় দশক ধরে আহমেদাবাদের জীবন এমনই নিস্তরঙ্গ|
মইনুদ্দিন আলম বললেন, ‘আপনি মনে করিযে দিলেন তাই| নইলে ভুলেই গিযেিলাম আজ ৬ ডিসেম্বর| আজই ধূলিসাত্ হযেিল বাবরি মসজিদ|’ লাইন অব কন্ট্রোলের এধারটার নাম নাড়োল|
গন্ধা জলের বিশাল যে দিঘি, যার স্থানীয নাম ‘শাহ আলম কা তালাও’, তারই খানিক তফাতে এই নাড়োল| সেখানেই বদর মসজিদের তলায শোযে মির্জার হরেক কিসিমের পাইপের দোকান ‘লাকি এন্টারপ্রাইজ’|
মইনুদ্দিনের মতো তাঁরও চোখেমুখে বিস্ময! ‘বাবরি মসজিদ ভাঙার পঁচিশ বছর কেটে গেল? ভুলেই গিযেিলাম তারিখটা|’ স্বাভাবিক স্মৃতিভ্রম নাকি ইচ্ছাকৃত স্মৃতিলোপ, সেই বিতর্কে ঢুকতে নারাজ এই তল্লাটের জিনসের কারবারি ইমতিযাজ মালিক|

মোদি র শাসনে কমসে কম দাঙ্গা হয় নি

শেষ কবে আহমেদাবাদে দাঙ্গা হযেে মনে করতে পারি না| এই আমরা বেশ আছি| ধান্দা চলছে| পেটে দানাপানি আছে| পরিবার খুশি| দাঙ্গা“ফ্যাসাদে মানুষ ধনে মরে, প্রাণেও মরে|’ অথচ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর এমন একটা বছর যাযনি যখন এই দিনটায বিশেষ প্রার্থনা হযনি|
বদর মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ধীরে ধীরে এ কথা শুনিযে বললেন, ‘তখন ফি“বছর এই দিনে জুলুস (মিছিল) বেরোত| নাড়াবাজি (স্লোগান) হতো| কিন্তু গোধরার পর যে দাঙ্গা গোটা শহরকে জ্বালিযে পুড়িযে দিল, তারপর থেকে সব চুপচাপ|’
আজ দীর্ঘ পনেরো বছর গুজরাট দাঙ্গাহীন| দুই দিন পর প্রথম দফার ভোট| অথচ নাড়োলের মতো জুহাপুরা বা জামালপুর এলাকা, স্থানীয লোকজনের কাছে যা নাকি ‘পাকিস্তান’, কেমন যেন ঝিমিযে আছে| প্রার্থীদের পোস্টার কি দলীয পতাকার চেযে বেশি উড়ছে সৱুজ, কালো ও লাল রঙের ত্রিকোণ পতাকা|
কোনো কোনো পতাকা জরি দিযে মোড়া| মইনুদ্দিন আলমের কথায, ‘এগুলো শান্তির ধ্বজা| ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি| গোটা গুজরাটই আজ বহুদিন শান্তির নীড়|’ এই শান্তি, এই ভক্তির উত্স তা হলে কি ভয? প্রাণের ভয, অশান্তির ভয? রাষ্ট্রের ভয়?
শুধু মইনুদ্দিন নন, ব্যবসাযী শোযে অথবা ইমতিযাজেরাও স্পিকটি নট| শুধু মুখ খুললেন ইমাম মোহাম্মদ| বললেন, ‘মুসলমান ভয পায শুধু আল্লাহ তাযালাকে| এই সুনসান সান্নাটাভাব অন্য কিছু| একেবারে অন্য রকম|’ কী রকম, সেই হেঁযালি স্পষ্ট হলো প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হাসমুখভাই প্যাটেলের কথায|
‘ধর্মীয মেরুকরণের রাস্তায আমরা হাঁটতে রাজি নই| বিজেপি ঠিক ওটাই চায| তাই বারবার প্ররোচিত করে চলেছে|’ গত মঙ্গলবার এই কথাটাই আরও একবার স্থানীয কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের ৱুঝিযে বলেছেন গুজরাটের ভূমিপুত্র ও ভারুচের ‘বাৱুভাই’ সোনিযা গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল|
বলেছেন, বিজেপি চাইছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে কংগ্রেসকে টেনে এনে ধর্মীয মেরুকরণ ঘটিযে ভোটে জিততে| আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না|’ বাবরি“জাতীয হইচই অথবা গোধরা“জাতীয অপকর্ম বিজেপির রথ এগিযে যাওযার পক্ষে সহাযক|
লাইন অব কন্ট্রোলের অন্যধারের বাসিন্দারা ৱুঝে গেছেন, তাঁদের যেকোনো আস্ফালন ভিন্ন মেরুকরণের জন্ম দেবে| অতএব অনুচ্চকিত নির্দেশ, ‘চুপচাপ হাতে ছাপ’| মোদিভূমিতে বাবরি ধ্বংসের সিকি শতক প্রায অনুচ্চারিতই রযে গেল|

আগের খবর

মোদি নিজের দূর্গ ধরে রাখতে চান 

ভারতের নিরক্ষরের সংখ্যার জানলে অবাক হবেন

You might also like More from author

Comments

Loading...