মুসলিম ব্যবসাযী পহলু খান কে পিটিযে মারার তদন্তে দোষীদের আড়াল করার অভিযোগ

পহলু খান

রাজস্থান : পহলু খান নামক এক মুসলিম দুধ ব্যবসাযীকে পিটিযে মেরে ফেলার ঘটনায
এবার রাজস্থান পুলিশের বিরুদ্ধেই তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে|
কযেটি মানবাধিকার সংগঠন আজ এক নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে যে
পহলু খান নামের ওই ব্যক্তিকে যারা পিটিযে মেরে ফেলেছিল, তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে পুলিশ|
মারা যাবার আগে মি. খান শেষ জবানবন্দিতে কযেজন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকের নাম উল্লেখ
করে জানিযেিলেন যে কারা তাকে পিটিযেে|

বিজেপি শাসিত রাজস্থানের পুলিশ ওই গণপিটুনির ঘটনা সম্পূর্ণ অন্য দিকে ঘুরিযে দেওযার চেষ্টা
করছে বলেও অভিযোগ করা হযেে মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষে| রাজ্য পুলিশ অবশ্য তদন্তে
গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে|

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ওই সংগঠনগুলি তাদের এক নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই অভিযোগ
করে| বলা হচ্ছে, পহলু খান নিজেই যেখানে মৃতু্যকালীন জবানবন্দিতে কযেজন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের
সদস্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গিযেিলেন, সেখানে তাদের আড়াল করে সম্পূর্ণ অন্যদের বিরুদ্ধে
চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ|

কি বললেন তিস্থা শেতলওযাড়

নাগরিক সমাজের ওই তদন্ত রিপোর্টে পুলিশের বিরুদ্ধে আর কী কী অভিযোগ উঠেছে তা জানতে
কথা বলেছিলাম মানবাধিকার কর্মী তিস্তা শেতলওযাড়ের সঙ্গে|

মিস শেতলওযাড় বলছিলেন, তদন্তের একেবারে গোড়া থেকেই যে পুলিশ গাছাড়া মনোভাব
দেখিযেে, সেটা আমাদের নিজস্ব তদন্তে উঠে এসেছে| পহেলু খানকে যখন মারা হচ্ছে, সেখানে পুলিশ
উপস্থিত থাকা স্বত্ত্বেও ঘটনার প্রায নঘন্টা পরে এফ আই আর লেখা হল|
অথচ এফআইআর লেখার আগে পুলিশ নিজেই হাসপাতালে মি খানের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে|

এছাড়াও আমাদের তদন্তে দেখা গেছে যে সরকারি হাসপাতালের মযনা তদন্তের রিপোর্ট নাকচ
করানোর জন্য অদ্ভুতভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিত্সকের বযান রেকর্ড
করা হযেে “ যে হাসপাতালটির মালিক আবার একজন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয মন্ত্রী!
এবছরের এপ্রিল মাসে গরু কিনে নিযে যাওযার সমযে একদল ব্যক্তি পহেলু খানকে গণপিটুনি দেয
রাজস্থানের আলোযার জেলায| আহত হযে হাসপাতালে ভর্তি থাকার দুদিন পরে তাঁর মৃতু্য হয|

গনপিটূনিতে যুক্ত ছিলেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠিনর সদস্যরাই

অভিযোগ উঠেছিল যে কযেটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরাই ওই গণপিটুনির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন|
নাগরিক সমাজের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আরেক মানবাধিকার কর্মী অজিত শাহী বলছিলেন মৃতু্যকালীন
জবানবন্দি যে কোনও তদন্তে অতি গুরুত্বপূর্ণ নথি|
কিন্তু সেটাকেও অস্বীকার করে পুলিশ এখন সম্পূর্ণ অন্য ছযজনকে অভিযু্ক্ত হিসাবে খাড়া করাচ্ছে|
মি শাহী বলছিলেন, পুলিশ তো চার্জশিটে প্রথমে ওই ছযজন “ যাদের নাম পহেলু খান জানিযে গিযেিলেন
“ তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনেছিল| তাহলে কযেমাসের মধ্যে কী এমন হল যে পুলিশ নিজেই তাদের
চার্জশিটের বক্তব্য পাল্টে ফেলল? এখন বলা হচ্ছে যে ওই অভিযুক্তরা নাকি ঘটনাস্থলে ছিলই না!

এই কথার সমর্থনে এমন একজনের বযান নেওযা হযেে, যে একজন অভিযুক্তর অধীনে কাজ করে!
নতুন কযেজনকে অভিযুক্ত হিসাবে সামনে আনা হচ্ছে| এছাড়াও খুনের ধারা না দিযে লঘু ধারা
দেওযা হযেে, নথি প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ দাযে করা হয নি| প্রত্যেকটি পদেই গাফিলতি করেছে
পুলিশ, চেষ্টা করেছে আসল অভিযুক্তদের আড়াল করতে| তবে নাগরিক সমাজের তোলা এইসব
অভিযোগ সরাসরি নস্যাত্ করছে রাজস্থান পুলিশ|
এই অভিযোগ নিযে কথা বলেছিলাম রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অজিত সিংযে সঙ্গে|

নাগরিক সমাজের তোলা অভিযোগ শুনে মি. সিং হেসে পাল্টা প্রশ্ন করছিলেন, আপনারা কি
আশা করছেন যে আমি বলব হ্যাঁ, সত্যিই পুলিশ তদন্ত গুলিযে দেওযার বা গতিমুখ ঘুরিযে
দেওযার চেষ্টা করেছে?

সেই সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ওই ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করেছে| এরকমটা
হতেই পারে যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হযেিল তদন্তের পরে দেখা গেল যে তারা নয,
অন্য ব্যক্তিরা ঘটনায জড়িত| যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই|

নাগরিক সমাজের আরও দাবি শুধু পহেলু খানের ঘটনায নয, এর আগে মহম্মদ আখলাখ বা
অন্যান্য যে সব ঘটনায মুসলমান ব্যক্তিদের গরুর মাংস খাওযা বা বহন করার অভিযোগ তুলে
গণপিটুনি দিযে মারা হযেে, সবগুলির ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে|

প্রত্যেকটি ঘটনায পৃথকভাবে বিশেষ নজর দেওযা আর নিহতদের পরিবারগুলিকে আইনি
সহাযতা দেওযার কথাও ভাবছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি|

Originally posted 2017-10-28 13:12:27.

Please follow and like us:
Loading...