Press "Enter" to skip to content

ভিন রাজ্যে বন্ধুকে খুন করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করলো গুজরাট পুলিশ

মালদাঃ ভিন রাজ্যে বন্ধুকে নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো গুজরাট পুলিশ।

শুক্রবার সকালে মোবাইলের সূত্র ধরেই মৃত যুবকের চার বন্ধুকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুমেদপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত

বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে গুজরাট পুলিশ। এদিন গুজরাটের আমেদাবাদ থেকে আসা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের

সঙ্গে যৌথভাবে অভিযানের সামিল হয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।

যদিও মৃত ও অভিযুক্ত চারজনের বাড়ি মালদার গাজোল থানা এলাকায়।

কিন্তু বন্ধুকে গুজরাটে খুন করার পর অভিযুক্ত চারজন হরিশ্চন্দ্রপুরের কুমেদপুর এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল বলে

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র ধরেই এদিন ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করার পর চাচোল মহকুমা আদালতের মাধ্যমে ১৪ দিনের ট্রানজিট

রিমান্ডে নিয়ে গিয়েছে গুজরাট পুলিশ।

ভিন রাজ্যে যাকে মারা হয়েছিলো তার নাম মহম্মদ নুরজামাল

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ নুরজামাল (৩৩)। গত ৯ অক্টোবর গুজরাটের আমেদাবাদ এলাকার একটি

নির্মীয়মান বাড়ি থেকে নুরজামালের বস্তাবন্দি পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।

মৃত নুরজামালের বাড়ি গাজোল থানা এলাকায় ।

এক মাস আগে ওই এলাকার নুরজামাল ও তার চার বন্ধু রবিউল ইসলাম, রাজকুমার নরেশ, শাকিল আনসারী এবং

সুমন রফিক গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করতে যায়। সেখানেই টাকা-পয়সা নিয়ে বচসা বাধে ওই পাঁচ বন্ধুর মধ্যে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আমেদাবাদের তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছেন, মহম্মদ নুরজামালের কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল।

আর সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করেছিল তারই চার বন্ধু।

এই ঘটনার পরই নুরজামালকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ । আর এই খুনের ঘটনায় মৃতের চার বন্ধু যুক্ত রয়েছে।

অভিযুক্তরা নুরজামালকে খুন করার পর মালদায় পালিয়ে এসেছিল।

নুরজামাল যে মোবাইলটি ব্যবহার করত সেটিও অভিযুক্তরা নিয়ে নিয়েছিল।

কয়েকদিন আগেই নুরজামালের সেই মোবাইল চালু হতেই তার এলাকাটি চিহ্নিত করা হয়।

জানা যায় হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাতেই মৃত নুরজামালের মোবাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

সেই সূত্র ধরেই গুজরাট পুলিশ মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে অভিযান চালায়।

মোবাইল ব্যাবহারের মধ্যে তদন্তকারিরা সূত্র পান

গুজরাটের আমেদাবাদ থানার তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসার আরিয়া সারবাইয়া বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশের

সহযোগিতা নিয়েই এদিন অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম , রাজকুমার নরেশ, শাকিল আনসারী এবং সুমন রফিককে কুমেদপুর

এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৫০ হাজার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে অভিযুক্তরা।

আমেদাবাদের একটি নির্মীয়মাণ বাড়ির শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত ছিল ওরা।

সেখানে নুরজামালকে মাথা থেঁতলে এবং শ্বাসরোধ করে খুন করার পর বস্তাবন্দী করে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা ।

পড়ে মৃতের মোবাইলের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের লোকেশন চিহ্নিত করা হয়। এর পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানিয়েছেন, নুরজামাল নামে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগে

কুমেদপুর এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গুজরাট পুলিশ।

ধৃতদের প্রত্যেকেই গাজোল থানা এলাকার বাসিন্দা।

Spread the love

3 Comments

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.