Press "Enter" to skip to content

বেসরকারি এক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ মালদায়

মালদাঃ বেসরকারি এক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠলো মালদায়।

চার বছরের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকশো ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে

হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

কয়েক মাস ক্লাস করার পর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা বুঝতে পারে তাদেরকে প্রতারিত করা হচ্ছে।

ভুল ভাঙ্গার পরে পড়ুয়ারা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ইংরেজবাজার থানার দ্বারস্থ হয় ছাত্রছাত্রীরা।

তাদের অভিযোগ, কাউকে নার্সের চাকরি, আবার কাউকে বেসরকারি সংস্থায় ভালো মাইনের

কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শহরের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করেছে।

একশোরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা করে ভর্তির ফিস নিয়েছে তারা।

প্রতাড়িত হয়ে এখন মাথায় বাজ পড়েছে  ওই সংস্থার পড়ুয়াদের।

পুলিশের কাছে সুবিচার চেয়ে তারা অভিযোগ জানিয়েছে।

এদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই

তালাবন্ধ ছিল।

ফলে তদন্তে গিয়ে পুলিশকে খালি হাতে ফিরতে হয় ।

ইংরেজবাজার থানার আইসি শান্তনু মিত্র জানিয়েছেন , পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ জমা পড়তেই পলাতক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা

মালদা শহরের তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকায় একটি বহুতলে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চলছিল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চার বছরের কোর্স সম্পন্ন করার পর ছাত্রছাত্রীদের

বিভিন্ন সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিষ্ঠানে ভর্তির দরুন এককালীন ১৭ হাজার ৭৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত আরো ৩০০ টাকা করে দিতে হয়।

কিন্তু গত এক থেকে দেড় মাস ক্লাস করার পর ছাত্র-ছাত্রীরা বুঝতে পারে যে তাদের প্রতাড়িত করা হচ্ছে।

পুলিশে অভিযোগ জানাতে আসা জাসমিরা খাতুন, সারিফা খাতুন, আফসানা খাতুন বলেন, “নার্সের চাকরি পাব।

কম্পিউটার ,  ল্যাপটপ চালানো শেখানো হবে ।

এরকম আশা নিয়েই মোটা টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম ওই প্রতিষ্ঠানে।

কিন্তু ক্লাস শুরু থেকেই অদ্ভুত ভাবে আমাদের আসন করানো হয়।

হাততালি দেওয়া,  জোরে জোরে হাসতে বলা, এরকমই কিছু অদ্ভুত নিয়ম মেনে চলছিল ক্লাস ।

পঠন-পাঠন কিছুই হচ্ছিল না ।

কম্পিউটার চালানো শেখানো হয় নি।

এক মাস ধরে এরকম চলতে থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে।

এরপর যখন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়,  তখন ওরা মারমুখী হয়ে উঠে।

আমাদের স্কুলে আসতে বারণ করে।

তখনই বুঝতে পারি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

আমাদের টাকা ফেরতের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।

অভাবের সংসারে অভিভাবকরা অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিয়েছেন।

এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না”।

ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে,  “অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অফিসে যাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু অফিসটি তালাবন্দ রয়েছে। কারা ওই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিল ,

তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে”।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from HomeMore posts in Home »

One Comment

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!