Press "Enter" to skip to content

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ৪১৪২টি দুর্গোৎসবের আয়োজন

আমিনুল হক

চট্টগ্রামঃ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আজও মাস্টার দা স্মৃতিতে বেঁচে আছেন। বৃটিশ বিরোধী

আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মাস্টার দা সূর্যসেন। তিনি বৃটিশের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে

ভারতমাতাকে মুক্ত করতে শপথ নিয়েছিলেন। বৃটিশরাজ তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিজেদের রক্ষা

করতে চেয়েছিলো। কিন্তু চট্টগ্রাম আজও হেটে চলেছে তাঁর স্মৃতির পথ ধরেই। তার স্মৃতিধন্য

চট্টগ্রামেই এবারেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক পুজার আয়োজন হচ্ছে। করোনা আবহের

সাধারণের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।

পূজো নিয়ে মানূষের উচ্ছাসের কমতি নেই

আর  সাতদিনের মাথায় মায়ের কাছে প্রার্থনায় নতজানু হবে সনাতন ধর্মালম্বি মানুষেরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাকে অঞ্চলিসহ সকল কার্য সম্পাদনের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুজা

উদযাপন পরিষদের বিভাগীয় যুক্ত সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম  জেলার সভাপতি শ্যামল কুমার

পালিত জানালেন, করোনার কারণে পুজার সংখ্যা কমেনি। চট্টগ্রাম শহর ও বিভাগ মিলিয়ে

৪১৪২টি পুজার আয়োজন হচ্ছে। শেষবেলায় আরও বাড়ার সম্ভবনার কথা জানালেন শ্যামল

বাবু। করোনাকালীন সময়েও চট্টগ্রামে পুজার সংখ্যা কমেনি উল্লেখ করে শ্যামল বাবু জানালেন,

করোনামহামারি থেকে মানবজাতিকে রক্ষায় এবারের পুজায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন

থাকবে। ভাবগাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করেই অঞ্জলিসহ সকল আয়োজন সম্পন্ন

করতে মন্ডপে মন্ডপে বার্তা দিয়েছেন তারা। চট্টগ্রাম ঘুরে দেখা  গেছে,   প্রতিটি কারখানা ভর্তি

প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন। বাকী রয়েছে রঙতুলির শেষ আচর ও মাকে সাজানোর কাজ।

ডালাভর্তি আলঙ্কার আনা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যেই মাকে সাজানোর কাজে হাত লাগাবেন

প্রতিমা শিল্পরা।

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে এবার সরকারী নিয়ম মেনে সব কিছু হবে

দিনে ৩৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা মাথায় নিয়ে নগরীর দেওয়ানজী পুকুরপাড়ের দত্তাত্রয় আখেড়ার

‘রূপশ্রী’তে প্রবেশ করেই মনটা শান্ত হয়ে গেল। এতোক্ষণ যে প্রচন্ড তাপদাহটা আকড়ে ধরেছিলো

তা এখন নেই। নানা সাইজের সার সার প্রতিমা। তার মধ্যে দিয়ে একটু এগিয়ে যেতেই চোখে

পুরো লেন্সের চশমা, মুখে স্মিত হাসি নিয়ে এগিয়ে এলেন ছ’ফুটের মতো লম্বা মধ্যবয়সী ব্যক্তি।

বিনয়ের সঙ্গে জালেন তিনিই অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র পাল। ফরিদপুরের সন্তান হলেও অবিভক্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেলেঘাটায় বাবা রাধাশ্যাম পালের প্রতিমার কারখানা ছিলো। অধ্যাপক

সুনীল বাবুর বড় মামা পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ভাস্কর রমেশ চন্দ্র পাল। ডা. বিধান চন্দ্র রায়,

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, মাতঙ্গিনী হাজরা, মাস্টার দা সূর্যসেন, জেএম সেনসহ দেশমাতৃকার

বহু গুণীসন্তানদের ভাস্কর্য গড়েছেন রমেশ চন্দ্র পাল। বাবা-মামাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এই

পেশাকে ধরে রেখেন। এবারের করোনায় প্রতিমার সংখ্যা তেমন একটা না কমলেও সাইজ ছোট

হয়েছে। চট্টগ্রামের সকল ঐতিহ্যবাহী পুজো মন্ডপে প্রতিমা গড়া হয়ে থাকে এখানে। কিন্তু এবারে

মামারির ধাক্কায় প্রতিমার সাইজ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় দাম কমে এসেছে। তারপরও

চট্টগ্রামে পুজোর আমেজে ভাটা পড়েনি এটাই সুনীল বাবুর সাত্বনা।

এখানে পুজোর আমেজে কোন ভাটা পড়ে নি

অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র পাল বাবুদের প্রতিমা কারাখানা থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখা মিললো

মুঠোমুঠো শপিং ব্যাগ হাতে নানা বয়সী মানুষকে। সামনে হাটাপথে এগিয়ে যেতেই দেখা গেল

অর্ণব ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে মানুষের জটলা। কারণ, কেনাকাটার এতটাই ধুম এখানে যে ভিড়

ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করাটা কঠিন। মালিক গোপাল বাবু হাসিমুখে জানালেন, তারা খুবই

আনন্দিত। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। অনেক কেনাকাটা করেছেন অনুরাধা

দেবী। কয়েক ব্যাগ কেনাকাটা  সেরে হাসিমুখে বিল পরিশোধ করতে এসে জানালেন, পরিবারের

সবার জন্য কেনাকাটা করছেন। পুজা শুরুর দু’একদিন আগে আরেক পাক কেনাকাটার আশা

তার।


 

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
More from জীবনধারাMore posts in জীবনধারা »
More from বাংলাদেশMore posts in বাংলাদেশ »

2 Comments

Leave a Reply

Mission News Theme by Compete Themes.
error: Content is protected !!