My title page contents Press "Enter" to skip to content

বকোরিয়া ঘটনায় পুলিশের মিথ্যে সর্বসমক্ষে আসছে




ঘটনার তদন্ত করতে পৌঁছেছে সিবিআই এর টিম

সংবাদদাতা

রাঁচিঃ বকোরিয়া ঘটনায় পুলিশের বলা মিথ্যে সর্বসমক্ষে আসতে শুরু করেছে।

পুলিশ হেড কোয়ার্টারে এখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

আসলে ঘটনার তদন্ত সিবিআই এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

আগে থেকেই এই নিয়ে চর্চা চলছিল যে লোকসভা নির্বাচনের পরেই সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করবে।

তার সাথে রাজ্য পুলিশের ডিজি ডি কে পান্ডের অবসর গ্রহণের পরই

ঘটনার তদন্তের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা ছিল।

যাই হোক, বর্তমান ডিজি কে এন চৌবের পদগ্রহণ করার পর আবার এই ঘটনার জোরদার তদন্ত শুরু হলো।

সিবিআই এর যেই টিমটি বকোরিয়া ঘটনার তদন্ত করতে পৌঁছেছে,

তার মধ্যে ফরেনসিক ল্যাবের নির্দেশক এন বি বর্ধনও রয়েছেন।

তদন্তের ভেতর থেকে যেই খবর পৌঁছেছে, তাতে বলা হচ্ছে যে

শুরুতেই রাজ্যের কোন বড় আধিকারিকের ওপর হামলা হতে পারে।

শোনা যাচ্ছে যে এই ঘটনার সাক্ষী হিসাবে যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল,

তাদের মধ্যে রাজ্য পুলিশের সি আই ডি বিভাগের যার নাম আছে, সেই ব্যাক্তি আসলে ভুয়ো।

অন্যদিকে জানা যাচ্ছে যে এই ঘটনায় থানা ইনচার্জ মোহম্মদ রুস্তম

তাঁর আগের দেওয়া বয়ানের থেকে এবার তিনি সরে এসেছেন।

তিনি সিবিআই এর সামনে দারোগা হরিশ পাঠকের দেওয়া তথ্যকে সমর্থন করেছেন।

অবশ্য সি বি আই এর আধিকারিকরা এই সব তথ্যের ওপর তাঁদের কোন বক্তব্য দেন নি।

বকোরিয়া ঘটনায় তদন্ত সিবিআই এর ৭ জন সদস্যের দল করছে

এই দলটি বৃহষ্পতিবার সকালে আবার করে ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও গভীরভাবে তদন্ত করবে।

দলের মধ্যে উপস্থিত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল গিয়ে সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

টিমের সদস্যরা তথাকথিত সংঘর্ষের সময় যে অস্ত্রশস্ত্র ও গাড়ী উদ্ধার করা হয়েছিল,

সেগুলিও পরীক্ষা করে দেখবেন।

উল্লেখযোগ্য যে এই ব্যপারে ঝাড়খন্ড হাইকোর্টের ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর এ দেওয়া

আদেশের পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।

পুলিশ দাবী করেছিল যে এই ঘটনায় মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষকে পুলিশের ভুয়ো সংঘর্ষ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

তাঁরা সিআইডির তদন্তের ওপর প্রশ্ন তুলে ঘটনার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেবার জন্য

হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন।

বকোরিয়া ঘটনায় পুলিশের মিথ্যে সর্বসমক্ষে আসছে

সিবিআই পালামৌ এর সদর থানায় নথিভুক্ত কান্ড সংখ্যা ৩৪৯/২০০৫ এর মামলাটি

নিজের হাতে নিয়ে নতুন করে এফআইআর করে।

মামলার বাদী হলেন তৎকালীন সতবরওয়ার ওপি ইনচার্জ মোহম্মদ রুস্তম।

তিনি লাতেহার জেলার মোনিকা থানান্তর্গত উদয় যাদব, চতরা জেলার প্রতাপুরের

নিমাকাতুর এজাজ অহমদ, এই জেলারই প্রতাপপুরের মাঁঝাগাঁও এর যোগেশ যাদব

এবং ৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে নক্সালী বলে চিহ্নিত করেন।

পুলিশের সাথে সংঘর্ষে উদয় যাদবের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মীয় জবাহর যাদব

হাইকোর্টে একটি ক্রিমিনাল কেস করেন।

মামলার শুনানীর পর কোর্ট ২০১৮ এর ২২ মার্চ নিজের ফয়সলা সুরক্ষিত রেখে দেয়।

এর পর ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট বহুচর্চিত এই মামলার শুনানীর রায় দেয়।

সুত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী এই সংঘর্ষে পুলিশের ওপরতলার আধিকারিকদের বাঁচাবার জন্য

যে সকল গ্রামবাসীদের সাক্ষী বলে ধরা হয়েছিল,

তাঁরা সকলেই সিবিআই এর সামনে নিজেদের পুরোনো বয়ান থেকে সরে আসেন।

এর পরই সিবিআই তদন্তের ধারা বদলে দেয় ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

তাই মনে করা হচ্ছে যে এই ঘটনায় যে সকল পুলিশের আধিকারিকদের নাম আসছে,

তাঁদের মুশকিল হতে পারে।

 

 



Spread the love

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.